ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী

বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ১০-১৫ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। মানুষের ভুলই দুর্ঘটনার মূল কারণ। এটাও সত্য যে অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য কোনো না কোনোভাবে চালক দায়ী। চালকের পেশাগত দক্ষতার অভাব অন্যতম কারণ। সকল ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরেও একজন অভিজ্ঞ ও নিরাপদ চালক হিসাবে তিনি গণ্য হবেন; বিষয়টি এমন নয়। বরং একজন দক্ষ চালক হতে এবং সঠিক ড্রাইভিং কৌশল রপ্ত করতে দীর্ঘ সময় অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। এটা বলা যায় যে, একজন দক্ষ চালক অপেক্ষা একজন অপটু চালক হিসেবে আপনার দুর্ঘটনার পতিত হওয়ার সম্ভাবনা সর্বদা প্রবল।

বর্তমানে সড়ক নেটওয়ার্ক দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হচ্ছে। এশিয়ান হাইওয়ে, ট্রান্সন্যাশনাল হাইওয়ে, দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া হাইওয়ের সাথে দেশের সড়ক নেটওয়ার্ক সংযুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করছে। আমাদের দেশের চালকরা নিজ দেশের সড়কে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি অন্য দেশের সড়কেও গাড়ি চালানোর সুযোগ পাচ্ছে। ফলে গাড়ীর সকল চালকদের আরো দক্ষ এবং কৌঁশলী হওয়া প্রয়োজন।

সড়কে কোন পরিস্থিতে কিভাবে গাড়ি চালাতে হবে তা অনেক চালকই জানেন না। যারা সড়কে গাড়ি চালান সড়কের বিভিন্ন পরিবেশে কিভাবে গাড়ি চালাতে হবে সে বিষয়ে তাদের সচেতনতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যই এই ধারাবাহিক লেখা।

বাঁকে গাড়ি চালানোর কৌশল (Negotiating Bends)

বাঁকে গাড়ি চালানো অন্যতম মৌলিক ড্রাইভিং কসরত এবং এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডানে ঘুরতে, বাম দিকে যেতে এবং ইউ-টার্নগুলিতে সর্বদা সর্তক থাকতে হবে। বাঁকে সর্তক না হলে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মনে রাখা প্রয়োজন বাঁকে ওভারটেক করা যাবে না। বাঁক অতিক্রম করার সময় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি মনে রাখতে হবে:

(১) যখন বাঁক অতিক্রম করবেন, তখন নিম্ন বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করুনঃ-

ক) বাঁক অতিক্রমের পূর্বে গাড়ির গতি এবং দূরত্ব পর্যবেক্ষণ করুন।

খ) বাঁকের বক্রতা সম্পর্কে অনুমান করুন।

গ) সম্মুখের যানবাহন পরিস্থিতি লক্ষ্য করুন।

(২) নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিনঃ-

ক) গাড়ির উপযুক্ত গিয়ার ও গতি নির্বাচন করুন।

খ) আপনি পথের কোনো অংশটুকু দিয়ে যেতে চান তা নির্বাচন করুন।

গ) বাঁক সম্পূর্ণ হওয়ার পর কীভাবে চালাবেন তা বিবেচনায় রাখুন। 

(৩) অধিকতর লম্ব বাঁক অতিক্রমে নিম্ন ধাপগুলো অনুসরণ করুনঃ-           

a” অবস্থায়,

            বাঁক নেওয়ার পূর্বে গাড়ির গতি এবং দূরত্ব বিবেচনায় রাখুন।

            এক্সিলারেটর প্যাডেলটি ছেড়ে দিন।

            গাড়ির গতি নিম্ন গিয়ারে নামিয়ে আনুন (সাধারণত ৩য় গিয়ার)

b” অবস্থায়,

            ধীর গতি বজায় রাখতে এক্সিলারেটর প্যাডেলটি হালকাভাবে চেপে রাখুন।

            গাড়ির গতিপথ আপনার জন্য নির্ধারিত লেন-এর মধ্যে রাখুন। বিশেষ করে, লেন-এর মাঝামাঝি থাকার চেষ্টা করুন।

            স্টিয়ারিং হুইল ঘুরানোর সময় আপনার শরীর নড়াবেন না।

c” অবস্থায়,

            সামনের দিকে লক্ষ্য করুন।

            যদি রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কম থাকে তবে স্টিয়ারিং হুইল প্রকৃত অবস্থানে ফিরে আসার সাথে সাথে দ্রুত গতি বাড়ান।

            অতঃপর উচ্চগতিতে রূপান্তর করুন।

(৪) তীক্ষ্ম বাঁক অতিক্রম করতে নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করুনঃ

a” অবস্থায়,

            বাঁক হতে আপনার দূরত্ব কত এবং গাড়িটির গতি কত রয়েছে, তা বিবেচনা করুন।

            এক্সিলারেটর প্যাডেলটি ছেড়ে দিন।

            যদি এরপরেও অনেক বেশি গতি থাকে তবে ব্রেক প্যাডেলটি চাপুন।

            নিম্ন গিয়ারে রূপান্তর করুন। (৩য় অথবা ২য় গিয়ার)

b” অবস্থায়,

            ধীর গতি বজায় রাখতে এাক্সিলারেটর প্যাডেলটি হালকা চাপুন।

            এসময় ব্রেক ধরবেন না।

            আপনি পথের কোন অংশ থেকে বাঁক অতিক্রম করবেন, তা নির্বাচন করুন। যখন আপনি ডানপাশে বাঁক নিবেন তখন রাস্তার বামপাশ ঘেঁষে থাকুন, যাতে করে আপনি সামনের রাস্তাটি অনেক দূর পর্যন্ত দেখতে পারেন। আবার যখন বামদিকে বাঁক নিবেন, তখন রাস্তার মাঝামাঝি থাকার চেষ্টা করুন।

            স্টিয়ারিং হুইলটি স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণভাবে ঘোরাতে আপনার শরীর স্থীর রাখুন।

c” অবস্থায়,

            সামনের দিকে লক্ষ্য করুন।

            যদি রাস্তায় অন্যান্য যানবাহনের সংখ্যা কম থাকে তবে সামনের চাকাদ্বয় সোজা হওয়ার সাথে সাথে গাড়ির গতি বৃদ্ধি করুন।

            অতঃপর পরবর্তী উচ্চতর গিয়ারে রূপান্তর করুন।

বাঁকে নিরাপদ গাড়ি চালনার সময় একজন চালকের যা মানা উচিত-

            সতর্কতাঃ গাড়ি চালনার সময় নিজেকে সতর্ক থেকে অন্য চালকদের আচরণ খেয়াল রাখতে হবে।

            সিটবেল্টঃ প্রচলিত আইন অনুযায়ী সিটবেল্ট বাঁধা আবশ্যক। শুধু আইন নয় নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্যও সিটবেল্ট বাঁধা জরুরি। একজন চালককে তার অন্যান্য যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অন্যান্য যাত্রীদের সিটবেল্ট বাঁধার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

            গতিসীমাঃ রাস্তার নির্ধারিত ও নির্দেশিত গতিসীমা মেনে গাড়ি চালানো।

            অন্যান্য রাস্তা ব্যবহারকারীঃ অন্যান্য রাস্তা ব্যবহারকারীদের সম্মান প্রদর্শন পূর্বক সৌজন্যমূলক আচরণ করতে হবে।

            নিরাপদ দূরত্বের রুলস মেনে গাড়ি চালাতে হবে।

            নিজ গতি অনুযায়ী লেনে চলতে হবে অযথা লেন পরিবর্তন করা যাবে না। প্রয়োজনে সিগন্যাল দিয়ে লেন পরিবর্তন করতে হবে।

  লেখক : এআইজি (ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট)

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *