ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

হাফিজুর রহমান

সকাল হলেই সংবাদ সম্মেলন। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত পাকবাহিনী। সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যও অগ্রীম লেখা হয়ে গেছে। বক্তব্যের যথার্থতা পালন করতে সাজোয়া ট্যাংক ও ভারী অস্ত্রসহ “অপারেশন সার্চলাইট” নামক আক্রমণে প্রস্তুত পাকিস্তান আর্মি। অপরদিকে বাঙালি পুলিশ রাজারবাগে মানসিকভাবে প্রস্তুত বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্য। রাতের আঁধার কাঁপিয়ে গর্জে ওঠে পাকবাহিনীর সাজোয়া ট্যাংক ও ভারী অস্ত্র। কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশের অপেক্ষা না করেই অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে .৩০৩ রাইফেল হাতে প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্য উন্মুখ বাঙালি পুলিশ। মুহুর্মুহু গুলি আর কামানের গোলার ধোঁয়ায় রাতের আঁধার হয়েছে আরও অন্ধকারাচ্ছন্ন। আলোয় পুলিশের অবস্থান দেখে আক্রমণ করার জন্য আকাশে ছোঁড়া হচ্ছে ট্রেসার বুলেট আর ম্যাগনেসিয়াম ফ্লেয়ার। এমন যুদ্ধেও নতি স্বীকার করেনি বাঙালি পুলিশ। সংবাদ সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি নস্যাৎ করে দেয় পুলিশের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ। পাকবাহিনী সকালে তাদের পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী ঘোষণা দিতে পারেনি “পূর্ব পাকিস্তানের সকল নাগরিক পাকিস্তান সরকারের আনুগত্য মেনে নিয়েছে, তারা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করেনি। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধের ডাকে পূর্ব পাকিস্তানের কেউ সাড়া দেয়নি। তারা স্বাধীনতা চায় না, তারা বাংলাদেশ নামক নতুন রাষ্ট্র চায় না।”

২৫ মার্চ, ১৯৭১। বাঙালির মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সেই পথের সূচনা করেছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্-এ বাঙালি পুলিশ। এরপর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বাঙালিদের প্রেরণা জুগিয়েছিল সেই কালো রাতের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। ৩০ লক্ষ মানুষ অকাতরে জীবন দিয়েছিল সে রাতের পুলিশের পাগলা ঘণ্টার আওয়াজে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে পুলিশসহ নিরস্ত্র যুবক, বৃদ্ধসহ সকলে রাস্তায় নেমেছিল পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানা গবেষণা হলেও উপেক্ষিত থেকেছে রাজারবাগে পুলিশের প্রথম প্রতিরোধের সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস। আজ এমনই এক বীর পুলিশ মুক্তিযোদ্ধার গল্প শোনাবো।

দুপুরে ডিউটি শেষ করে বিকেলে শহরে খোঁজ নিতে বের হয়েছিলেন তিনি। শাহাবাগ, টিএসসি চত্বর ঘুরে কোথাও তেমন আড্ডা বা খোঁশ গল্পের লোক পেলেন না। সবই শুনশান নীরবতা। ফিরে আসেন সন্ধ্যায়। সবাই উদ্বিগ্ন কি হবে, কি হতে যাচ্ছে সেই ভাবনায়। রাত দশটা দশ মিনিট, খাবার খেতে তিন তলা থেকে নামলেন নিচ তলার মেসে। ভাতের প্লেট নিয়ে খেতে বসবেন, এমন সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। হারিকেনের আলোয় কোনো রকম খেয়ে ওঠে এলেন তিন তলায়। দাঁড়ালেন পেছনের বারান্দায়। যতদূর চোখ যায় ততদূর অন্ধকার। মনের মধ্যে এক অজানা আশঙ্কা। এবার টর্চের আলোতে অন্ধকার ভেদ করে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলেন নিচ তলায় অফিসে। সবাই ব্যস্ত টেলিফোনে। কিন্তু সকল টেলিফোন লাইন ডেড হয়ে গেছে এরই মধ্যে। বিষণ্ন মনে ছুটে চললেন তৎকালীন ১নং তথা মাজার গেটের দিকে। আগে থেকেই নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকার খোঁড়া হয়েছে সেখানে। কিন্তু জনমানব শূন্য। এক ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ না আসায় ছুটলেন ওয়ারলেসের খবর শুনতে। পথেই সম্মুখ থেকে আসা একটি লাল মোটর সাইকেল থেমে যায় তাঁকে দেখে। নিজেও থেমে যান। এরপর মোটর সাইকেলের হেডলাইটের আলো ডানে বামে ঘুরিয়ে দেখে নিলেন আরোহী। তারপর কাছে এলেন। ঘাড়ে হাত রেখে জিজ্ঞাসা করলেন বাঙালি পুলিশ কি না। হ্যাঁ সূচক উত্তর পেয়ে বললেন, বঙ্গবন্ধুর খবর নিয়ে আসছেন তিনি। কাকরাইল মোড়ে ৭০/৮০টি আর্মির গাড়ি অপেক্ষা করছে রাজারবাগ আক্রমণের জন্য। সকল বাঙালি পুলিশ সদস্যকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলছেন, সময় নেই। পরিচয় জানতে চাইলে তিনি “বঙ্গবন্ধুর ছেলে” বলেই দ্রুত চলে গেলেন।

তখন রাত সাড়ে এগারোটা, দৌঁড়ে গেলেন অস্ত্রাগারে। গার্ড হাবিলদারকে খুঁজে না পেয়ে গার্ডের পাগলা ঘণ্টা বাজাতে থাকেন অনবরত। ব্যারাকে থাকা বাঙালি পুলিশ জড়ো হতে থাকে অস্ত্রাগারের সামনে। এরপর সেন্ট্রিকে পাগলা ঘণ্টা বাজাতে বলে ছুটে যান আরআই মফিজ সাহেবের বাসায় চাবি আনতে। দেখেন বাসা তালা দেওয়া। ফিরে আসেন অস্ত্রাগারে। এবার ২নং পোস্টের সেন্ট্রিকে বলেন গুলি করে অস্ত্রাগারের তালা ভাঙতে। প্রথম গুলিতে তালা না ভাঙলেও দ্বিতীয় গুলিতে ভেঙে যায় তালা। অস্ত্রাগারে প্রবেশ করে সকল বাঙালি পুলিশকে বিলিয়ে দিলেন অস্ত্র ও গুলি। আর বলে দিতে থাকলেন কে কোথায় পজিশন নিবে। শেষে নিজে একটি অস্ত্র ও গুলি নিয়ে বের হলেন। দেখেন ততক্ষণে দ্বিতীয় অস্ত্রাগারও শূন্য হয়েছে, সকল বাঙালি পুলিশ নিয়ে গেছেন অস্ত্র ও গুলি। নিজে গিয়ে গাড়ির গ্যারেজের মধ্যে পজিশন নেন। ফকিরাপুল মোড়, শান্তিনগর মোড় ও মৌচাক মোড় থেকে এগিয়ে আসছে পাক আর্মির গাড়ি বহর। ফকিরাপুল টিএন্ডটি কলোনি ও শান্তিনগর এলাকা থেকে সোয়া বারোটায় প্রতিরোধের প্রথম গুলিবর্ষণ হলো পুলিশের রাইফেল থেকে। এরপর টানা দুই ঘণ্টা একটানা যুদ্ধ। গুলির আওয়াজে কান ভারী হয়েছে। পৌনে দুইটার দিকে যুদ্ধ কিছুটা থেমেছে। থেকে থেকে দু একটি গুলির আওয়াজ আসছে। রাত পৌনে তিনটায় আবার শুরু হয় পাকবাহিনীর কামান, ট্যাংক ও মর্টারের হামলা। দিশেহারা বাঙালি পুলিশ সদস্যরা। ট্রেসার বুলেট আর ম্যাগনেসিয়াম ফ্লেয়ারের আলোয় ঝলসে ওঠে রাজারবাগের আকাশ। মুলি বাঁশের বেড়া দেওয়া ব্যারাকগুলো আর বিল্ডিং-এর দ্বিতীয় তলার রিজার্ভ অফিসে লেগে যায় আগুন। আগুনের লেলিহান শিখায় পুরো রাজারবাগ আলোকিত। এবার বাঙালি পুলিশের অবস্থান দেখে দেখে পাকিস্তান আর্মিরা করছে আক্রমণ। গুলিতে মৃত্যু যন্ত্রণায় চিৎকার করা পুলিশ সদস্যদের করুণ আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারী হচ্ছে। পাকবাহিনীর সদস্যদের নিহত ও আহত হওয়ার সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। ফজরের আযান শুরু হয়েছে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় মসজিদে। আল্লাহু আকবর ধ্বনির পরই স্তব্দ হয়ে যায় মোয়াজ্জিনের কণ্ঠ। বুঝতে আর বাকি থাকে না পাক বাহিনী প্রবেশ করেছে রাজারবাগ, আটক হয়েছে আযান শেষ না হওয়ার আগেই মোয়াজ্জিন। এবার অস্ত্র নিয়ে চলে যান রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে।

২৫ মার্চ রাতের এ অকুতোভয় বাঙালি পুলিশ সদস্যের নাম আব্দুল আলী। তিনি ছিলেন তৎকালীন আইজিপি তসলিম উদ্দিন আহাম্মদ সাহেবের দেহরক্ষী। জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার চিকজানী গ্রামের রিয়াছত আলী খান ওরফে পাগল খাঁ’র পুত্র তিনি। সারাদিন লুকিয়ে ছিলেন হাসপাতালে। সেদিন ছিল শুক্রবার, জুম্মার নামাজ পড়তেও বের হননি। পুলিশের পোশাক ছেড়ে হাসপাতালের বিছানার তোষকের কাপড় খুলে একটা পরেন আরেকটি গায়ে দেন। এরপর বের হন সন্ধ্যার পরে অজানার উদ্দেশ্যে। পীর জঙ্গি মাজারের নিকট পৌঁছালে কানের পাশ দিয়ে তিনটি গুলি চলে যায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে। দেয়াল টপকে জীবন বাঁচান। এরপর কমলাপুর পার হয়ে মুগদার বিলে নেমে পড়েন। সারারাত অজানা অচেনা বিলের পানিতে কখনও সাতার কেটে কখনও গলা পানিতে হেঁটে ভোরে গিয়ে পৌঁছান শীতলক্ষা নদীর পাড়ে। কুমারদের তৈরি মাটির পাতিলের ঢিবি দেখে ডাক দিলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন একজন। তার ঢিবি থেকে একটি বড় মাটির পাতিল দেন আলীকে। জীবনে কখনও নদীতে সাঁতার কাটার অভিজ্ঞতা না থাকলেও রাতের আঁধারে সে পাতিলে চেপে পার হন শীতলক্ষা নদী। ওপারে ওঠেন দিনের আলোয়। পাশেই নারায়ণগঞ্জ ডকের পুলিশ ফাঁড়ি। সেখান থেকে নাস্তা খেয়ে পায়ে হেঁটে রওনা হন। ভৈরব আশুগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে ঢাকার সহকর্মী যোদ্ধা পুলিশ সদস্য হায়দার পরিবারসহ তার সঙ্গী হয়। 

ময়মনসিংহ পৌঁছে এক মেম্বারের বাড়িতে খাবার খান। এরপর স্থানীয় আওয়ামী লীগ অফিসে যান। তাদের পরামর্শ মতে মেম্বারের সাহায্যে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তেলঢালা ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার্স মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে পৌঁছান। ৪০ দিন বিএলএফ (বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স) সদস্যদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেন তিনি। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় মেহেন্দীগঞ্জ থানার মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের প্রশিক্ষক হিসেবে। এখান থেকে ঢেনিয়া কামালপুর ও কামালপুর এলাকায় দুটি ভিন্ন সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। দুজন সহযোদ্ধা নিহত ও সেক্টর কমান্ডার আবু তাহেরসহ অনেকেই আহত হয় এ যুদ্ধে। লোক মুখে খবর পান মা বাবা তার জন্য কেঁদে প্রায় অন্ধ হয়ে গেছে। ভাদ্র মাসের ৯ তারিখ ক্যাম্প কমান্ডারের অনুমতি নিয়ে ১৪জন সহযোদ্ধা, ২টি এলএমজি, ১টি এসএমজি, ১০টি এসএলআর-সহ একটি বড় নৌকা ভাড়া করে রাতের আঁধারে বাবা মায়ের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পাশের গ্রাম কাজলাপাড়া ঈদগাঁ পাড়া মাঠে নৌকা থেকে নামলেন। পাশেই স্থানীয় মাতব্বর চারু দেওয়ানীর বাড়ি। চারু দেওয়ান তাকে পাগলা খাঁর ছেলে হিসেবে চিনতে পারে। তারপর চারু দেওয়ানের খবর পেয়ে রাতের আঁধারেই ছুটে আসে আব্দুল আলীর বাবা। চোখের জলে ছেলে বিদায় দিতে ব্যস্ত হয় বাবা। বলেন দ্রুত চলে যাও এলাকা থেকে। খবর পেলে পাকবাহিনী এসে গ্রামসহ জ্বালিয়ে দিবে। চারু দেওয়ান ও বাবার পরামর্শে এক বস্তা চাল ও একটি খাসি নিয়ে তাদের সাথে চলে যান মদনের চর আমজাদ চেয়ারম্যানের বাড়ি। রাতের আঁধারেই একটি ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে ফিরে যায় চারু দেওয়ান।

সকাল সাতটায় শুনতে পান ব্রাস ফায়ারের শব্দ আসছে চারু দেওয়ানের বাড়ি থেকে। দুপুরে জানা যায় পাকবাহিনী খবর পেয়ে চারু দেওয়ানীর বাড়ি এসে চারু দেওয়ানী, তেলানু ও হামিদুর রশিদকে গুলি করে মেরে ফেলেছে, তবু তারা মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান জানায়নি। পুরো কাজলাপাড়া গ্রামে আগুন ধরিয়ে দেয় পাক আর্মিরা। কান্নারত মাকে না দেখেই সন্ধ্যার পর রওনা দিয়ে রাত সাড়ে বারোটায় তুরা পাহাড়ের নিচে মহেন্দ্রগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে ফিরে আসেন আব্দুল আলী। নেত্রকোনা জেলার পাশে ভারতের সীমান্তে ফান্ডা ক্যাম্পের ইনচার্জ অসুস্থ হয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অক্টোবরে চলে যান ফান্ডা ক্যাম্পের ইনচার্জের দায়িত্বে। ক্যাম্পে নয় হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাদেরকে বিভিন্ন পাক বাহিনীর ক্যাম্প আক্রমণে পাঠানো ও থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত করতে হতো তাকে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ভারতীয় বাহিনীর সাথে ময়মনসিংহ বিরিশিরি আর্মি ক্যাম্পে দুদিন সম্মুখ যুদ্ধ করে দখল নেন। এরপর বিজয়পুর, জারিয়া এবং সাজাইল আর্মি ক্যাম্প আক্রমণ করে বিজয়ী হন। ১১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ পাকবাহিনী মুক্ত করে শহরে প্রবেশ করেন। ১৩ ডিসেম্বর ৩০ জন সহযোদ্ধা নিয়ে একটি বড় নৌকায় বাড়িতে যান এবং ১৪ ডিসেম্বর ভালোবাসার প্রিয় মানুষটিকে বিয়ে করে ১৫ ডিসেম্বর ফিরে আসেন ময়মনসিংহ জেলায় মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্পে। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সরকারি ঘোষণায় ১৯ ডিসেম্বর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্-এ যোগ দেন তিনি।

স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের কাজ। সেখানে ওঠে আসে আব্দুল আলীর বীরত্বের কাহিনি। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর শুরু হয় তার নতুন জীবন যুদ্ধ। ১৯৭৬ সালের ৩ নভেম্বর তিনি গ্রেফতার হন অজানা মামলায়। সামরিক আদালতে শুরু হয় তার বিচার। ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত হচ্ছে তার জন্য। ৫ মাস কারাভোগের পর বিচারের কাঠগড়ায় দেখা হয় পূর্ব পরিচিত ও দূর সম্পর্কের আত্মীয় ব্রিগেডিয়ার এনামুল হক সাহেবের সাথে। তিনি সব শুনে অবাক হন। পুলিশের লোকের বিচার সামরিক আদালতে হওয়ার কথা নয়। তারই পদক্ষেপ এবং করুণায় জীবন ফিরে মুক্তি পান তিনি। জীবন যুদ্ধে হার না মানা এই বীর মুক্তিযোদ্ধা আর ফিরে আসেননি পুলিশ বিভাগে। বিস্মৃতির সেই দিনগুলোর স্মৃতি নিয়ে এখনও বেঁচে আছেন, থাকবেন আমাদের হৃদয়ে। এমন বীরের আত্মজীবনী হয়নি লেখা ইতিহাসের পাতায়, তবুও তিনি চিরদিন বেঁচে থাকবেন কোটি বাঙালির গভীর ভালোবাসায়।

লেখক : এসআই (নিঃ), নারায়ণগঞ্জ জেলা

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *