ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ডা. নুসরাত সুলতানা

বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের হার উর্ধ্বমূখী হচ্ছে। সম্প্রতি সারা বাংলাদেশে এই হার ছিল ৫.১৩ শতাংশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজী ল্যাবে যা ছিল ১৭ শতাংশ এবং চিকিৎসক আক্রান্তের হার ৩৩%।

আক্রান্তের হার বৃদ্ধির কারণগুলো একজন ভাইরোলজিস্ট হিসেবে আমি মনে করি:

 আক্রান্তের হার ২% এর আশে পাশে থাকায় আমরা সবাই মনে করেছি করোনা দূর্বল হয়ে গেছে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মানায় যথেষ্ট শিথিল হয়েছি। মাস্ক পরছিনা। সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরের কথা অনেক বেশি গেট টুগেদার, পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করছি। বিপনি কেন্দ্রগুলোতেও যথেষ্ট পরিমানে ভীড় বেড়েছে।

আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, করোনাভাইরাস চলৎশক্তিহীন, নির্দিষ্ট জীবিত কোষ ছাড়া বংশবৃদ্ধি করতে পারেনা। তাই একে নির্মূল করার একমাত্র উপায় জীবিত কোষের সংস্পর্শে আসতে না দেয়া। জীবিত কোষ ছাড়া ৭২ ঘন্টার বেশী এরা বাঁচতে পারেনা। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা আর নিয়মিত হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজ করার মাধ্যমেই ভাইরাসটিকে রুখে দেয়া সম্ভব।

 অনেকে মনে করছেন ভ্যাক্সিনের প্রথম ডোজ দেয়ার সাথে সাথেই সুরক্ষিত হয়ে গেলেন, তাই মাস্ক ছাড়া ঘুরাফেরা করা নিরাপদ। সত্যি কথা হচ্ছে, ভ্যাক্সিনের দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার দুই সপ্তাহ পরে প্রোটেক্টিভ এন্টিবডি আপনার রক্তে থাকবে। আর ভ্যাক্সিনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মারাত্মক কোভিড-১৯ থেকে আপনাকে সুরক্ষা দেয়া। এর অর্থ ভ্যাক্সিন দিলেও আপনি উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গযুক্ত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হতে পারেন এবং রোগটি ছড়াতেও পারেন। তাই মাস্ক পরার কোন বিকল্প নাই।

 নতুন কোন স্ট্রেইনের আশংকাও উড়িয়ে দেয়া যায়না। অনেকে ইউকে স্ট্রেইনের কথা বলছেন। ইউকে স্ট্রেইন মারাত্মক সংক্রামক, যা অন্য স্ট্রেইনের চেয়ে ৭০% বেশী। এছাড়া বারংবার মিউটেশনের ফলে বাংলাদেশেই নতুন কোন স্ট্রেইনের জন্ম হতে পারে। যেহেতু আমাদের দেশে জেনোম সিকুয়েন্সিং একেবারেই নগন্যমাত্রায় হচ্ছে, তাই এখন ও শনাক্ত হচ্ছেনা।

মাস্ক পরুন, সঠিকভাবে মাস্ক পরুন।

নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন! সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন।

রমজানেও করোনার টিকা নেওয়া যাবে

রমজান মাসে রোজা রেখে করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়া যাবে, টিকা নিলে রোজা নষ্ট হবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক সভায় আলেমরা এই মত জানিয়েছেন বলে ১৫ মার্চ ২০২১ খ্রি. তারিখে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৪ বা ১৫ এপ্রিল রমজান মাস শুরু হচ্ছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৪ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দেশের বরেণ্য উলামায়েকেরাম এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

এই সভায় পবিত্র রমজান মাসে কোভিড-১৯ এর চলমান টিকা কার্যক্রম বিষয়ে আলোচনা করা হয় এবং দেশের জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষার স্বার্থে করোনার টিকা গ্রহণের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, আলোচনায় উপস্থিত আলেম সমাজ সর্বসম্মতভাবে একমত পোষণ করেন যে-

‘করোনা ভাইরাসের টিকা মাংসপেশিতে গ্রহণ করা হয় এবং তা সরাসরি খাদ্যনালী ও পাকস্থলিতে প্রবেশ করে না। তাই রমজান মাসে রোজাদার ব্যক্তি দিনের বেলায় শরীরে করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করলে রোজা ভঙ্গ হবে না।’

উল্লেখ্য যে, এ বিষয়ে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আলেমরাও এমন মত পোষণ করেছেন। কাজেই রোজা রেখে করোনা ভাইরাসের টিকা গ্রহণ করা যাবে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

  লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ভাইরোলজি বিভাগ ঢাকা মেডিকেল কলেজ

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *