ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম

সারা বিশ্বে এখন প্রতিদিন কম-বেশি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ডোজ করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ ডটকমে করোনা টিকার প্রতিদিনকার হিসাব-নিকাশ দেওয়া হচ্ছে। পোর্টালটির “কোভিড-১৯” বিভাগে কোন্ দেশে কত টিকা দেওয়া হচ্ছে, টিকার সব খবর ২৪ ঘণ্টা হালনাগাদ করা হয়। (সূত্র: www.bloomberg.com)

মারগারেট কিনান (৯১) নামক এক বৃটিশ ভদ্রমহিলা হলেন বিশ্বের প্রথম টিকা গ্রহণকারী যাকে গত ৮ ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিঃ ০৬:৩১ GMT -তে প্রথম কোভিড-১৯ টিকা দেয়া হয়। উক্ত টিকাটির উৎপাদনকারী ছিল ফাইজার-বায়োএনটেক নামক প্রতিষ্ঠান। অত্যন্ত আনন্দের খবর এই যে, বাংলাদেশও অন্যান্য দেশের প্রায় কাছাকাছি সময়েই টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে পারল। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে গত ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিঃ। করোনা নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগে শামিল হল বাংলাদেশ। ইতিহাসে নাম লেখালেন জ্যেষ্ঠ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা। করোনা মহামারির সময় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবা করেছেন তিনি। করোনার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসাবে দেশে সবার আগে তিনি প্রথম টিকা নিলেন। তাঁর টিকা নেওয়ার মধ্য দিয়ে মহামারি নিয়ন্ত্রণে নতুন অধ্যায় শুরু করল বাংলাদেশ।

গত ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিঃ-এ রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে দেশের করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছিলেন। তার উপস্থিতিতে পাঁচজনকে টিকা দেওয়া হয়।

টিকা দেওয়ার শুরুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি ভয় পাচ্ছেন কি-না?

বিকেল চারটার পর রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে করোনার টিকা দেওয়া হয়। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর টিকাদানের স্থানে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় টিকা নিয়েছেন। তিনি ভালো আছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা আমাকে দেখে, আমাদের দেখে অনুপ্রাণিত হন’। টিকাদান শেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই জ্যেষ্ঠ নার্সকে শুভেচ্ছা জানান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অন্য যে চারজনকে টিকা দেওয়া হয় তাঁরা হলেন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আহমেদ লুৎফুল মোবেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক সার্জেন্ট মোঃ দিদারুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম ইমরান হামিদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর আরো ২১ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে করোনার কোন্্ টিকা ব্যবহৃত হচ্ছে

বাংলাদেশে এসেছে কোভিশিল্ড টিকা। কোভিশিল্ড ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত হলেও এটা ভারতের টিকা নয়। এটি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি। এই টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার বিশদ ল্যানসেট জার্নালে গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। সেই নিবন্ধে বলা  হয় যে,  প্রথম ডোজ এবং তারপর ৪ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে ২য় ডোজ নেওয়ার পর ৭০-৯০% কার্যকারিতা দেখা গেছে। অপরদিকে, ফাইজারের টিকা ৯৪ শতাংশ কার্যকর হলেও এটি সংরক্ষণ করতে হয় মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। যেটি সংরক্ষণ ও পরিবহনের সক্ষমতা শুধু বাংলাদেশ কেন পৃথিবীর অনেক দেশেরই নেই। তাছাড়া এর পরিবহন ব্যয় এবং দামও অনেক বেশি। অন্যদিকে, কোভিশিল্ড মাইনাস ২ থেকে মাইনাস ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা সম্ভব। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সহজে পরিবহন করা সম্ভব। এখন পর্যন্ত ফাইজার বা কোভিশিল্ড কোনো টিকারই বড় ধরনের কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। যেসব মৃত্যু সংবাদ রটেছে সেগুলোর সঙ্গে টিকার সরাসরি সংশ্লিষ্টতাও প্রমাণিত হয়নি।

কাদের সবার আগে করোনার টিকা নেওয়া উচিত

করোনার টিকা অবশ্যই সম্মুখসারির যোদ্ধাদের আগে পাওয়া উচিত, সারা বিশ্বে এই নীতিই অনুসরণ করা হচ্ছে। তাই বাংলাদেশেও সবার আগে স্বাস্থ্য-কর্মীদের পাওয়ার কথা। কারণ, তাঁরা ও তাঁদের পরিবার সব চেয়ে ঝুঁকির মধ্যে। এখানে চিকিৎসক, নার্সসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর কথা বলা হচ্ছে, অর্থাৎ হাসপাতালে ও ল্যাবরেটরিতে কাজ করেন বা রোগীর সংস্পর্শে আসেন-এমন সবাই। যেমন-মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, অ্যাম্বুলেন্সের চালক, আয়া-সবাই।

এরপর যারা ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তি এবং যাদের ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি জটিলতা, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা আছে, যা করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়, তাঁরা এই টিকার দাবিদার।

এছাড়া আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা, প্রশাসন ও মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন এমন কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী, পরিবহনকর্মী, শিক্ষক, ব্যাংকার, বিক্রয়কর্মী অর্থাৎ যাঁদের বহু মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়, তাঁদের সবাইকে প্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দিতে হবে।

কাদের করোনা টিকা নেওয়া উচিত নয়

প্রথমতঃ অন্তঃসত্ত্বা ও স্তন্যদানকারী নারী এবং ১৮ বছরের নিচের বয়সিরা টিকা নেবে না। কারণ, তাঁদের ওপর এখন পর্যন্ত টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ হয়নি। তবে ভবিষ্যতে  তারাও নেবে কি-না, সেই সম্পর্কে নতুন নির্দেশনা আসতে পারে।

দ্বিতীয়তঃ ইমিউনিটি সাপ্রেস্ড, অর্থাৎ গুরুতর ক্যানসার রোগী, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন এমন ব্যক্তিরাও এই টিকা নেবেন না।

তৃতীয়তঃ যাদের অন্যান্য ওষুধও ইনজেকশনে মারাত্মক অ্যালার্জির ইতিহাস আছে, তাঁদেরও এই মুহূর্তে টিকা নেওয়ার দরকার নেই।

এর বাইরে যত বেশি মানুষকে টিকার আওতায় আনা যায়, ততই মঙ্গল।

করোনার টিকা কতদিন পর্যন্ত কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা দিতে পারবে

বিশ্বব্যাপী যেসব টিকা এখন পর্যন্ত ব্যবহৃত হচ্ছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সেসবের কার্যকারিতা (ইফেকটিভনেস) ও নিরাপত্তা (সেফটি) প্রমাণিত হওয়ার পরই FDA(Food and Drug Administration)

-এর অনুমোদন পেয়েছে। ট্রায়ালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ফাইজারের টিকা ৯৪.৫ শতাংশ কার্যকর, মডার্নার টিকা ৯৪.১ শতাংশ আর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ৬২-৯০ শতাংশ কার্যকর হিসাবে প্রমাণিত। এটি মানুষের শরীরে ব্যবহার করার পর ঠিক কতদিন সুরক্ষা দিবে, টিকা কার্যক্রম বেশ খানিকটা চলার পর তা বুঝা যাবে। তবে বিশ্বজুড়ে বহু সংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় আনতে পারলে Herd Immunity গড়ে তোলার মাধ্যমে এই মহামারিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। টিকাদানের সেটাই মূল উদ্দেশ্য। এ পদ্ধতিতেই বিশ্ব থেকে পোলিও বা গুটি বসন্তের নির্মূলের চেষ্টা করে সফলতা এসেছে। টিকা ছাড়া মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার কোনো পথও খোলা নেই।

কোভিড-১৯ টিকা কতটুকু নিরাপদ

সব ওষুধ, ইনজেকশন বা টিকার কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া থাকেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা মৃদু। যেমন- টিকার স্থানে মৃদু ব্যথা, হালকা জ্বর, ম্যাজম্যাজ ভাব, শরীর ব্যথা, বমিবমি ভাব ইত্যাদি। এগুলো যেকোনো টিকার ক্ষেত্রেই হয়। গণমাধ্যমের কল্যাণে অনেকেই হয়তো জেনেছেন যে, নরওয়েতে করোনার টিকা নেওয়ার পর কিছু সংখ্যক লোকের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নরওয়ে সরকার জানিয়েছে যে, এই মৃত্যুর সঙ্গে টিকার সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তারা সবাই ছিলেন বয়োবৃদ্ধ (৮০ বছরের ওপর) আর নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত। ভারত থেকে যেসব সংবাদ এসেছে, সেগুলোও মৃদু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার খবর, আর সরাসরি টিকার সঙ্গে সম্পর্কিত কি-না, তা নিশ্চিত নয়। বরং উল্টো দিক দিয়ে দেখলে এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ০৬ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের বেশিরভাগেরই কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি। তাই এখনও এই ভয় অমূলক বলে মনে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের একটি বড় ভূমিকা আছে বলে মনে করি। স্বচ্ছ, সত্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক খবর প্রচারে গুরুত্ব দিতে হবে, মনগড়া গুজব প্রচার করা ঠিক নয়।

কোভিশিল্ড টিকা সম্পর্কিত ০৫টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

১। বাংলাদেশে যে টিকা দেওয়া হচ্ছে, তা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড। তবে টিকাটি বাণিজ্যিকভাবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদন করার অনুমতি পেয়েছে। সেরাম ইনস্টিটিউট হলো বিশ্বের বৃহত্তম টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।

২। টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রমাণিত হয়েছে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটি ৬২-৯০ শতাংশ পর্যন্ত কার্যকর। এই টিকা দুই মাত্রায় নিতে হবে, ৪ থেকে ১২ সপ্তাহের ব্যবধানে।

৩। টিকা দেওয়ার পর কারো কারো মধ্যে মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। এর মধ্যে টিকা দেওয়ার স্থানে ব্যথা, সামান্য ফুলে যাওয়া, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, কাঁপুনি, জ্বর জ্বর ভাব, ফ্লুতে অক্রান্ত হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। ব্যথা হলে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া, হাতের পেশি মালিশ করা, জ্বর বা ম্যাজম্যাজ কমাতে প্রচুর পানি পান করা, প্রয়োজন হলে প্যারাসিটামল সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৪। করোনা টিকা দেওয়ার পর যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠতে খানিকটা সময় লাগতে পারে। তাই টিকা দেওয়ার পরও করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, টিকা দেওয়ার পরও মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বা সংক্রমিত হতে পারে, তবে আক্রান্ত হলেও গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।

৫। করোনার টিকা নেওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে অন্য কোনো রোগের টিকা না নেওয়াই ভালো।

সূত্রঃ সেন্টার ফর ডিজিড কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি), যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউ এইচও)]

টিকা নেওয়ার পর কারও করোনার উপসর্গ দেখা দিলে কী করা উচিত

এখন পর্যন্ত আমরা জানিনা এই টিকা দেওয়ার পর তা কতদিন পর্যন্ত সুরক্ষা দিবে বা শতভাগ করোনা থেকে সুরক্ষা পাব কি-না। তাই টিকা পাওয়ার পরও জ্বর, কাশি, স্বাদ-গন্ধহীনতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসক যদি মনে করেন, তবে তিনি কোভিড-১৯ পরীক্ষাও করাতে পারেন। আরেকটি ব্যাপার, টিকার প্রথম ডোজ পাওয়ার পরই পুরোপুরি আশানুরূপ সুরক্ষা মিলবে না। তাই প্রথম ডোজের পর আরেকটি ডোজ না পাওয়া পর্যন্ত একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

কারও কোভিড হলেও কি তাঁরা টিকা নেবেন

কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়ার পর প্রাকৃতিক সুরক্ষা বা ন্যাচারাল ইমিউনিটি কতটা বা কতদিন থাকে, তা নিয়ে সংশয় আছে। তাই কারও আগে কোভিড হয়ে থাকলেও তাঁকে টিকা নিতে হবে। তবে করোনা নেগেটিভ হওয়ার ২৮ দিন পর টিকা নিতে পারবেন। খুব সাম্প্রতিককালে কোভিড হয়ে থাকলে অন্যদের সুযোগ দিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কিছুদিন পর দিলেও চলে।

টিকা প্রদানের বিভিন্ন ধাপ

নিবন্ধনঃ অনলাইন রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) ছাড়া কেউ টিকা পাবেনা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।  গত ২৭ শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিঃ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের পরপরই অনলাইন ‘সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে (www.surokkha.govt.bd)। জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য দিয়ে এ নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

ভ্যাকসিন কার্ডঃ ওয়েব পোর্টাল হতে ভ্যাকসিন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।

এসএমএস বার্তা প্রেরণঃ ভ্যাকসিন প্রদানের তারিখ ও তথ্য প্রেরণ।

প্রথম ডোজঃ নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে প্রদান।

দ্বিতীয় ডোজঃ নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে প্রদান।

ভ্যাকসিন সনদঃ দুটি ডোজ নেওয়ার পর পোর্টাল হতে সংগ্রহ করতে হবে।

কেন আপনি টিকা নেবেন

টিকা গ্রহনের আগ পর্যন্ত আপনি ঝুঁকির মধ্যে থেকে যাবেন। করোনা আক্রান্ত হলে আপনি ও আপনার পরিবার কিংবা আপনার সংস্পর্শে যারা আসবেন তাঁরাও ঝুঁকির আওতায় থাকবেন। টিকা আপনাকে এবং আপনার কাছের মানুষদের ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করবে। টিকা গ্রহণের পরই আপনি করোনা আক্রান্ত হতে পারেন। তবে টিকা গ্রহণের ফলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে। ফলে আপনি অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত।

শেষ কথা পরিশেষে বলতে চাই বিশ্বের অনেক দেশই এখনও টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে পারেনি। সেখানে অমাদের দেশের মতো  একটি  ঘনবসতিপূর্ণ দেশ পেরেছে। কাজেই বিজ্ঞানের ওপর ভরসা রাখুন। সামনের দিকে  তাকান। টিকা বিষয়ে  অহেতুক সন্দেহ ও অমূলক আশঙ্কায় আক্রান্ত না হয়ে নিজে টিকা নিন এবং অন্যকেও টিকা নিতে উৎসাহিত  করুন।

লেখক : উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিবি-সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *