ই-পেপার

মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

‘সফলতা’ একটি বহু আকাক্সিক্ষত শব্দ। কে না চায় সফল হতে? কিন্তু সবাই কী সফল হয়? অল্প কিছু সংখ্যক মানুষের কাছে ধরা দেয় সাফল্য নামের সোনার হরিণ। সফলরা তাদের পরিশ্রম, দক্ষতা, প্রতিভা ও উত্তম অভ্যাসের গুণে সফল হন। আসুন জানা যাক কিছু গুণাগুণ, অভ্যাসের কথা, যার বলে মানুষ সফল হয়।

বিখ্যাত লেখক হাল এলরোড (Hal Elrod) তার ‘The Miracle Morning’ বইতে সফলতার জন্য সকালের ৬টি অভ্যাস রপ্ত করার জন্য বলেছেন।

Silence/ নীরবতা পালন করা

সকালে ওঠেই দিনের কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে না পরে কিছুটা সময় নীরবতা পালন করে, প্রার্থনা করলে আমাদের ব্রেনের নিউরণ সারাদিনের কাজের জন্য ‘প্রস্তুত হয়ে যায়। বলা হয়ে থাকে, “Silence is Golden / নীরবতা হিরন্ময়”। প্রত্যহ প্রভাতে মনে চিন্তার হীরক খোচিত করতে পারলে, সারাদিনের কাজগুলোকে পরিকল্পনামাফিক সম্পাদন করা য়ায়।

Affirmation/ নিশ্চয়তাবোধক কথা বলা

‘‘আমি আজ সারাদিন এই কাজগুলো করব, আমার পক্ষে এই কাজগুলো করা সম্ভব” এই ধরনের ইতিবাচক আত্মবিশ্বাসী কথাবার্তা নিজের সঙ্গে নিজে বলতে পারলে, দিনের রুটিন কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এপিজে আবুল কালাম বলেছেন, সকালে উঠে নিজেকে এই পাঁচটি কথা বলুন, ” I am the Best; Today is my day; I am a Winner; God is always with me; I can do it”. ”PositiveAttitude and Constructive Mindset” এই কথাগুলো সারাদিনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করবে।

Visualization/ দিনের কাজগুলোকে মানসপটে কল্পনা করা

দিনের সম্পাদিতব্য কাজগুলোকে যদি মনে মনে সাজিয়ে নেওয়া যায় তবে তা সময় মতো সম্পন্ন করা সম্ভব। অনেক সময়ই আমরা অনেক কাজ করার পরিকল্পনা করি। কিন্তু সময়মতো শেষ করতে পারি না। ভিজুয়েলাইজেশন আমাদের দিনের কাজগুলোর সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করে তা যথাসময়ে সম্পন্ন করতে প্রভূত সহযোগিতা করে থাকে। কথায় বলে, “What you Imagine, you Create/ তুমি যা মানসপটে কল্পনা করতে পারো, তা করতেও পারবে”।

Exercise/ শারীরিক কসরত করা

সকালে ওঠে পর্যাপ্ত ব্যায়াম করলে আমাদের ব্রেন প্রচুর অক্সিজেনের সাপ্লাই পায়। ফলে ব্রেন সারাদিন কাজ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। ব্যায়াম শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে কাজ করার জন্য সক্রিয় করে তোলে এবং ব্রেনে এন্ডোরফিন বা সুখী হরমোন নির্গত করে। যার ফলে চিন্তাশক্তি বেড়ে যায় যা আমাদের সারাদিন কাজ করার প্রেরণা জোগায়।

Writing/লেখা

সারাদিনের কাজগুলোর পরিকল্পনার ছক মনে মনে এঁকে ফেলতে হবে। তারপর কাজগুলোকে গুরুত্বানুসারে লিখে ফেললে, তা করা সহজ হয়ে যায়। কথায় বলে, ”Get the things Measured, Get the things done” অর্থাৎ কোন কাজকে পরিমাপ করা গেলে, অনেকটাই করা হয়ে যায়। ‘To Do’ লিস্ট তৈরি করা এবং লিস্টের করণীয় কাজগুলোতে মাঝে মাঝে চোখ বুলালে, তা পরিকল্পনামতো সঠিক সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব। বলা হয় “Well begun is half done” অর্থাৎ দিনটা ভালোমতো শুরু করা মানে দিনের কাজগুলো অর্ধেক সম্পন্ন হয়ে যাওয়া।

Reading/ পড়া

সকালে ঘুম থেকে ওঠেই পড়ার অভ্যাস করলে সতেজ ব্রেনে অনেক কিছু পড়া যায় এবং পড়া বিষয়গুলো সহজে বুঝা ও মনে রাখা যায়। নতুন জ্ঞান লাভ করতে পারি ও বই পড়ে আমরা অন্যের চিন্তা চেতনাকে জানতে পেরে নিজের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে পারি ও চিন্তারউম্মেষ ঘটাতে পারি যা আমাদের ভবিষ্যতে চলার পথের পাথেয় হয়ে থাকবে। কেননা, কাজী মোতাহার হোসেন ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লিখেছেন “সঠিক জ্ঞান আহরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে আত্মার স্বাধীনতা, চিন্তার মুক্তি ও মূল্যবোধের বিকাশ সাধন।”

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পরের দিনের কার্যক্রমের পরিকল্পনা তৈরি করে লিখে ফেলতে হবে। এতে করে মন উক্ত কাজগুলো করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে, সারাদিন কী করলাম? কীভাবে কাজগুলো ভালোভাবে করা যেত? কী কাজ করা বাকি রয়ে গেল? সেই অনুযায়ী পরবর্তী দিনের পরিকল্পনা করা গেলে তা বাস্তবসম্মত হবে এবং সফলভাবে সম্পন্ন করা যাবে।

সারাদিনের কমপক্ষে ০৩ টি প্রাপ্তির জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আমাদের মাঝে যে কৃতজ্ঞতাবোধ জন্ম নেয় তা আমাদের পরবর্তী সারাদিন ভালো কাজ করার প্রেরণা জোগায়। ভালো কাজগুলোকে মানসপটে কল্পনা করা গেলে তা সম্পন্ন করার পজিটিভ তাগিদ আমরা অন্তরে অনুভব করব এবং সফলভাবে করতে পারব, যাকে বলে ‘Ratiocination’.

আমাদের স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি টার্গেটগুলোকে বার বার পর্যালোচনা করা দরকার। প্রয়োজন হলে তা সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন করে যথার্থ সময়োপযোগী করে নিতে হবে। আমাদের টার্গেট হতে হবে ম্যানেজমেন্ট গুরু Peter Drucker এর অভিমত অনুযায়ী ‘SMART’ যার পূর্ণ রূপ করলে দাঁড়ায়’ Specific’, ‘Measurable’, ‘Attainable’ ‘Relevant’ and ‘Time-based’.

বলা হয়ে থাকে, যারা রাতে সঠিক সময়ে ঘুমাতে যায়, তারা ভোরে ঘুম থেকে উঠতে পারে। আর যারা সঠিক সময়ে ঘুম হতে উঠতে পারে, তারা সারাদিনের কাজকর্ম যথানিয়মে সময়মতো সম্পন্ন করতে পারে। যথাসময়ে কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারলে, আমাদের এক একটি দিন সাফল্যম-িত হয়। আর প্রত্যেক দিনের সার্থকতা, আমাদের সমগ্রজীবনে সফলতা বয়ে আনে।

তথ্যসূত্রঃ

১. ‘The Miracle Morning Õ by Hal Elrod.

২. ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ কাজী মোতাহার হোসেন

৩. ‘Managemeny by Objectives’ by Peter Drucker

লেখক : উপ-পুলিশ কমিশনার (শাহমখদুম)

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x