ই-পেপার

কোভিড-১৯ মহামারির আকস্মিক আক্রমনে পুরো পৃথিবী বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাদ যায়নি বাংলাদেশও। কোভিড-১৯ এর ভয়াল থাবা মানুষকে  ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। থমকে গেছে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। সারাক্ষণ মানুষকে তাড়িত করে ফিরছে মৃত্যু ভয়। লকডাউনে মানুষ হয়ে পড়েছে ঘরবন্দী। এমনি সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জনগণের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় রুটিন কার্যক্রমের পাশাপাশি বুক টান করে জনগণের পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ পুলিশ। মানুষ সাহস ফিরে পায়। হতাশ মানুষের বুকের মাঝে জ্বলে ওঠে আশার প্রদীপ।

বছর কয়েক ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে নেতিবাচক খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশের নতুন ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) এর

সুদক্ষ নির্দেশনায় করোনাক্রান্তদের পাশে থেকে পুলিশের নিরলস দায়িত্ব পালন, পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করে। গড়ে ওঠে পুলিশ-জনতার অদৃশ্য এক মেলবন্ধন। ইতোমধ্যে জনমনে পুলিশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা বদলে ইতিবাচক ধারণা তৈরী হয়। পুলিশের ওপর ভরসা করতে শুরু করে মানুষ।

নভেল করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সকল ভীতি আর শঙ্কার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সেবায় অগ্রসেনানী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে পুলিশ। শুধু তাইই নয় লকডাউন কার্যকর করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাসপোর্টের ঠিকানায় অবস্থান না করা প্রবাসীদের ঘরে ঘরে গিয়ে খুঁজে বের করছে পুলিশ। অসহায় মানুষকে খাদ্য সাহায্য দিচ্ছে পুলিশ। ত্রাণ আত্মসাৎকারীদের আইনের আওতায় আনছে পুলিশ। জনসাধারণকে গান গেয়ে ঘরে থাকতে উৎসাহ দিচ্ছে পুলিশ। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসাকর্মীদের কর্মস্থলে পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ। জানাজা পড়ছে পুলিশ, কবর খুঁড়ছে পুলিশ, দাফন করছে পুলিশ। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পুলিশ সদস্যরা তাদের বেতনের ২০ কোটি প্রদান করে এক অনন্য নজির গড়ে তুলেছে। এছাড়া অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে নিজেদের বেতন ও রেশন সামগ্রী বিতরণ করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পুলিশ। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এ অনবদ্য ভূমিকার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদেরকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বলা যায়, “মুজিববর্ষের অঙ্গীকার, পুলিশ হবে জনতার”- এ স্লোগানকে ধারণ করে বাংলাদেশ পুলিশ আজকে সত্যি সত্যি ‘জনতার পুলিশ’ হয়ে উঠেছে ।

১৯৭১-এর ২৫ মার্চ এর ভয়াল রাতে পুলিশ যেমন অকূতোভয়ে বুক পেতে দিয়েছিল। রাজারবাগে গড়ে তুলেছিল প্রথম দুর্বার প্রতিরোধ। ঠিক তেমনি, মানবিক চেতনা নিয়ে করোনা দূর্যোগকালে, স্বজনদের কথা না ভেবে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সকল স্তরের কর্মকর্তাই সামিল হয়েছেন করোনা যুদ্ধে।

মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের বীরোচিত ভূমিকা যেমন ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে ঠিক তেমনি করোনাযুদ্ধেও পুলিশের মানবিক আচরণ যুগে যুগে মানুষকে উজ্জীবিত করবে। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এ কথা অনায়াসে বলা যায় বাংলাদেশ পুলিশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পুলিশ, জনতার পুলিশে পরিণত হয়েছে।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x