ই-পেপার

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এদিন জাতির পিতাকে হত্যা করে শুধুমাত্র রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল না। মূলত: সেদিন বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালিত্বকে হত্যা করাই ছিল ঘাতকদের লক্ষ্য । ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের মালিক হই। কিন্তু স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে কেবল রাষ্ট্রনায়ক অথবা স্বাধীনতার স্থপতিকে হত্যা করা হয় নাই, বরং ইতিহাসের কলঙ্কময় এ হত্যাকান্ডের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশকে ফের পূর্ব পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার অপচেষ্টা শুরু হয়। মৌলবাদী চিন্তা-চেতনার ধারকরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে উল্টোপথে নিয়ে যেতে চায়। বাঙালিত্বের ওপর শুরু হয় একের পর এক আক্রমণ। বাঙালিত্বের বিপরীতে ধর্মীয় মৌলবাদী চেতনার বিকাশের সব ধরনের কুশলী আয়োজন বেগবাণ হয়। অথচ, শোষণ আর নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে আমাদের এ অঞ্চলের মানুষ জাতির পিতার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিল ১৯৭১-এ।

আমাদের মনে রাখতে হবে, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট আকস্মিক কোন ঘটনা নয়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যখন জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটাভুটি হয়, তখন সোভিয়েত বলয়ের মাত্র কয়েকটি রাষ্ট্র আমাদের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। জাতিসংঘের বহু রাষ্ট্র, যাদের আমরা ইসলামি রাষ্ট্র এবং বৃহৎ শক্তি বলি তারা কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল। কাজেই সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টি কেবল পাকিস্তানের পরাজয়ই ছিল না, ওই সব বৃহৎ শক্তিরও পরাজয় ছিল। বঙ্গবন্ধুর বিজয়কে তারা মেনে নেয় নি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের কয়েক বছর পূর্বে ১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘পৃথিবী আজ দুইভাগে বিভক্ত। একভাগে শোষক শ্রেণী আরেক ভাগ শোষিত। আমি শোষিতের দলে।’ ওই ভাষণের পর কিউবার প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো শেখ মুজিবুর রহমানকে বলেছিলেন, ‘তুমি আজ যে ভাষণ দিলে, এখন থেকে সাবধান থেক। আজ থেকে তোমাকে হত্যার জন্য একটি বুলেট তোমার পিছু নিয়েছে।’ কথাটি কয়েক বছর পরই অক্ষরে অক্ষরে ফলে যায়।

সুতরাং বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডকে শুধু একটি নিছক হত্যাকান্ড বা রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখাটা সঠিক হবে না। বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালির নয়, ছিলেন সারা বিশ্বের শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তাই শোষকের দল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে এ কণ্ঠস্বর স্তব্দ করে দিতে চেয়েছে। কিন্তু ইতিহাস স্বাক্ষী কোন অপশক্তিই শোষিতের কণ্ঠস্বর স্তব্দ করতে পারে না। সেই বিবেচনায় ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হলেও- সেদিন বেশি দুরে নয়, যেদিন ১৫ আগস্ট সারা বিশ্বে পালিত হবে শোষিতের অধিকার আদায়ের দিন হিসেবে।

ডিটেকটিভ পরিবারের পক্ষ থেকে ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x