ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

করোনা অতিমারীতে মৃত্যু, শোক আর সঙ্কটের সময় পেরিয়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। ২৭ জানুয়ারি ২০২১ গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতার উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আজ ঐতিহাসিক দিন। কেননা, অনেক দেশ এখনো ভ্যাকসিন পায়নি। সেখানে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ভ্যাকসিন আমদানি করেছে সরকার।’ রাজধানীতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বহু প্রতীক্ষিত টিকাদান কর্মসূচী শুরু হয়েছে। রুনু টিকা নিতে এলে প্রধানমন্ত্রী তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘ভয় পাচ্ছ না তো?’ রুনু মাথা নেড়ে  বললেন, ‘না’। এরপর তিনি টিকা নেন। টিকা নেওয়ার পর রুনুর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্থ থাকো, ভালো থাকো’। প্রধানমন্ত্রীর কথা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে টিকা নেওয়ার নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করেন রুনু। এরপর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টিকা গ্রহণকারী অন্য চারজনের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন।

জনগণের সুরক্ষা বিবেচনায় সরকার আগে থেকেই দেশে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে আসার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে করোনা ভ্যাকসিন সফলভাবে প্রয়োগ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ভ্যাকসিন যুগে প্রবেশ করলো। সারা দেশেই পর্যায়ক্রমে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। করোনার যে টিকাটি, বাংলাদেশে দেয়া হচ্ছে, সেটি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার আবিষ্কৃত এবং ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড নামের টিকা। এরই মধ্যে ৭০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড পেয়েছে বাংলাদেশ। কুড়ি লাখ ডোজ দিয়েছে বন্ধু প্রতীম ভারত। শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে। আর বাকী ৫০ লাখ ডোজ এসেছে সিরাম ইনস্টিটিউটের সাথে ক্রয়চুক্তির অংশ হিসেবে। উল্লেখ্য, প্রথম মাসে ৬০ লক্ষ টিকা দেয়া হবে। পরের মাসে দেয়া হবে ৫০ লাখ। তৃতীয় মাসে আবার ৬০ লাখ টিকা দেয়া হবে। প্রথম মাসে যারা টিকা নেবেন, তারা তৃতীয় মাসে আবার দ্বিতীয় ডোজ নেবেন। ২৬শে জানুয়ারি থেকে টিকার জন্য নিবন্ধন শুরু হয়েছে। সরকার তিন ভাগে (ফেইজ) মোট পাঁচ ধাপে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সম্মুখসারিতে থাকা কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এক কোটি ৬৯ লাখ ৩৭ হাজার ৯৭৩ জনকে প্রথম পর্যায়ে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হবে। করোনাভাইরাসের টিকা পেতে আগ্রহী সবাইকেই সুরক্ষা নামের একটি (https://www.surokkha.gov.bd/) ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। পরবর্তীতে মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে টিকা নেয়ার জন্য নির্ধারিত স্থান ও সময় জানিয়ে দেয়া হবে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় উদ্যোগের ফলেই বাংলাদেশ আজ করোনা ভ্যাকসিন পেয়েছে। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা জানাই আন্তরিক অভিবাদন। আমরা আশা করি, করোনা ভ্যাকসিন গ্রহণ করে আমরা সকলে নিরাপদ থাকবো এবং অপরকেও নিরাপদ রাখবো।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *