ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ধনধান্যে পুষ্পে ভরা বাংলাদেশের ইতিহাস মূলতঃ জীবন সংগ্রামেরই বাস্তবতা। এ দেশের সম্পদ লুণ্ঠনে বিদেশি লুটেরা বারবার চেষ্টা চালিয়েছে। একপর্যায়ে বাঙালি তার স্বাধীনতা হারায় ইংরেজ বণিকদের হাতে। বাঙালি মুসলমানদের অগ্রণী ভূমিকায় ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও; শুরুতেই ষড়যন্ত্র, শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হয় বাঙালীরা। নতুন রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব চলে যায় সংখ্যালঘিষ্ঠ পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাতে। প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ান বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়ী হলে পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতের আঁধারে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু করে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা। এমতাবস্থায় ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা।

নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি ফিরে পায় বহু কাঙ্খিত স্বাধীনতা; পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি পায় প্রিয় স্বদেশ। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে আনন্দের ও গৌরবের দিন ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতি আজ বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করছে। এই মহালগ্নে আমরা স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী ৩০ লাখ শহীদকে, স্মরণ করিছ ২ লাখ মা-বোনকে যারা নিজের সম্ভ্রম বিলিয়ে দিয়েছেন স্বাধীনতার তরে। স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাঁরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। স্মরণ করছি তাদের, যাঁরা হানাদার বাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়ন সইতে না পেরে ঘরবাড়ি ছেড়ে শরণার্থী হয়েছিলেন, বনে-জঙ্গলে রাত কাটিয়েছেন, নিজে না খেয়েও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে একবেলা খাওয়ানোর জন্য ব্যাকুল থেকেছেন। সেই সঙ্গে স্মরণ করছি বিশ্ববাসীর সমর্থন ও বিভিন্ন দেশের সহযোগিতার কথা। বিশেষ করে, ভারত ও তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা। আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি, সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের সমর্থনের কথা।

মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার শর্ত পূরণ করেছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। দারিদ্র্য কমেছে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়; কমেছে শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যুর হার। গড় আয়ু বেড়েছে, পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। করোনা অতিমারী মোকাবেলায় বাংলাদেশ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নিজ দেশ থেকে বিতারিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে, মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত খুনিদের বিরুদ্ধে আদালতের দেয়া রায় কার্যকর হয়েছে। পালিয়ে থাকা দন্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকরের প্রয়াস অব্যহত রয়েছে। শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, আলবদরদের ফাঁসির রায়ও কার্যকর হয়েছে। অন্যদের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। সুখী, সমৃদ্ধ এবং জঙ্গি ও রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *