ই-পেপার

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে করোনা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যু। স্বাস্থ্যখাত নিয়ে যারা কাজ করেন তারা দিশেহারা। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাও কোন সুখবর দিতে পারছে না। তাই আসন্ন কঠিন সময় মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে সমন্বিত ও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার বিকল্প নেই। এমনিতেই গত চার মাসে করোনায় সারাবিশ্বের স্বাভাবিক জীবন-যাপন বিপর্যস্ত হয়ে গেছে। অর্থনীতি হয়ে গেছে লন্ডভন্ড। অদ্যাবধি (৩১ মে ২০২০) সারাবিশ্বে মৃত্যুবরণ করেছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার, আক্রান্ত ৫৯ লাখ, সুস্থ ২৫ লাখ। বিভিন্ন জরিপকারী সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী সারাবিশ্বে কোটি কোটি লোক বেকারের খাতায় নাম লেখাবে। ওয়ার্ড হেলথ অর্গানাইজেন (Who) সহ জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে এমন কোন সংস্থাই করোনা নিরাময়ে এখন পর্যন্ত কোন আশার বাণী শোনাতে পারে নি। বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে নিরন্তর গবেষণা চললেও এখন পর্যন্ত করোনার কোন প্রতিষেধক আবিষ্কারের বার্তা বিশ্ববাসী জানতে পারেনি।

বিভিন্ন দেশে করোনার বিস্তার রোধ করতে একমাত্র ভরসা লকডাউন, সোশ্যাল ডিসটেন্স ইত্যাদি চালু করা হলেও বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে লকডাউন তুলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরত্বারোপ করেছে। কেননা, লকডাউন প্রথা অনিদির্ষ্টকাল চললে অর্থনীতির চাকা মুখ থুবড়ে পড়বে। এমতাবস্থায় বিশ্ববাসীর জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে তাইওয়ান, জার্মানি, আইসল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। এই দেশগুলোতে করোনা ছড়িয়ে পড়লেও মারাত্মক রূপ নেয় নি। নিউজিল্যান্ডে ১৩৩৬ জন করোনায় আক্রান্ত হলেও মারা যায় মাত্র ৯ জন, আইসল্যান্ডে ১৮০৭ জন আক্রান্ত হলেও মারা গেছে ১০ জন, নরওয়েতে ৮৬২০ জন আক্রান্ত হলেও মারা গেছে ২৪২ জন, ফিনল্যান্ডে ৭০৭৭ জন আক্রান্ত হলেও মৃত্যুবরণ করেছে ৩২৫ জন, তাইওয়ানে আক্রান্ত মাত্র ৪৪০ জন, মারা গেছে ৭ জন, জার্মানিতে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার আক্রান্ত হলেও সুস্থ হয়েছে ১ লক্ষ ৭১ হাজার। মূলত: এই সফলতার পেছনে রয়েছে, ব্যাপক পরীক্ষা নিরিক্ষা, চিকিৎসা সেবা, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম, সংক্রমিত এলাকা চিহ্নিতকরণ, ব্যক্তিকে আলাদা করা, গণজমায়েত এর ওপর কড়া বিধি নিষেধ। এমতাবস্থায়, আমাদের ভেবে দেখতে হবে আমরা লকডাউন করে ঘরে বসে থাকবো? নাকি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, মাস্ক ব্যবহার করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক জীবন-যাপন শুরু করবো?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ১০ মে গণভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে বলেছেন, ‘মানুষের জীবন-জীবিকা চালাতেই বন্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ শিথিল করা হচ্ছে। আমরা কিছু কিছু ধীরে ধীরে উন্মুক্ত করার চেষ্টা করছি। কিছু জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা যাতে মানুষ করতে পারে।’ একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘অসুখ-বিসুখ হলে মানুষকে মনে সাহস রাখতে হবে। শুধু ডাক্তার বা ওষুধ দিয়েই ভালো হবে না, মনের জোর ও আত্মবিশ্বাস থেকেও অনেকটা সুস্থ হওয়া যায়। আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেসব নির্দেশনা দিয়েছে সকলকে সেগুলো মেনে চলতে হবে। তাহলে সুরক্ষিত থাকা যাবে। ভয় পেয়ে করোনা আক্রান্তদের সঙ্গে অনেকের অমানবিক আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবারের কোনো সদস্য অসুস্থ হলে তাকে দূরে ঠেলে দেওয়া ঠিক না।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়তার সাথে বলেন, ‘অন্যান্য দেশে করোনাভাইরাসে যেভাবে আক্রান্ত এবং মারা যাচ্ছে তার তুলনায় আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। এই যে একটি অদৃশ্য শক্তির হঠাৎ আক্রমণ এবং এর ফলে সবাই বিপর্যস্ত। আমাদের ভূখ- ছোট কিন্তু জনসংখ্যা বেশি। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতি সচল রাখা উচিত। এ জন্য আমাদের রয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।’ সম্মানিত আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)ও সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাতকারে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের বরাত দিয়ে বলেছেন, ‘হয়তো দীর্ঘদিন এই করোনার সঙ্গে বসবাস করার প্রয়োজন হতে পারে।’

আমরাও মনে করি ‘জীবন আগে না জীবিকা’ আগে এই বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কে না জড়িয়ে ‘জীবন ও জীবিকা’ দুটোই রক্ষার স্বার্থে ভয়-আতঙ্ক ঝেড়ে ফেলে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত স্বাভাবিক কাজ-কর্ম শুরু করাটাই শ্রেয়। মানুষ অতীকে স্পেনিশ ফ্লু, প্লেগসহ নানা মহামারি মোকাবেলা করে টিকে থেকেছে; এবারও করোনার ভয়কে আমাদের অবশ্যই জয় করতে হবে। রবি ঠাকুরের ভাষায় বলা যায়-

‘মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়

আড়ালে তার সূর্য হাসে’

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x