ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

পদ্মা। প্রমত্তা পদ্মা! কতো নামেই না পদ্মাকে ডেকেছে এ দেশের মানুষ। হোয়াংহো-কে যেমন এক সময় চীনের দুঃখ বলা হতো; তেমনি পদ্মারও আরেক নাম কীর্তিনাশা। পদ্মা হচ্ছে বিশ্বের প্রমত্তা নদীগুলোর অন্যতম। পদ্মা শুধু খড়স্রাতাই নয়-এর চরিত্র বলা যায় আনপ্রেডিকটেবল। কখনো পাড় ভাঙ্গে। কখনো গতিপথ বদলে ফেলে। নদীগর্ভে বিলিন হয় শত শত ঘর বাড়ি। হাজার হাজার একর ফসলী জমি। আবার কোথাও জেগে উঠে চর। বিশ্বের সবচেয়ে পলি বহন করে এই নদী। বলা যায় এই পলি দিয়েই গড়ে উঠেছে পাললিক বাংলাদেশ। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র এই দুটি বিশাল নদীর পানি ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার দীর্ঘ অববাহিকার পানি এই পদ্মা দিয়েই বঙ্গোপসাগরে যায়। পদ্মা বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গকে। ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে পদ্মার ওপর সেতু নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু পদ্মা সেতু নির্মাণের শুরুতেই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয় বাংলাদেশ। পদ্মা সেতুর আতুর ঘরেই বিশ্বব্যাংক অভিযোগ তুলল কাল্পনিক দুর্নীতির। এটি ছিল বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রকে বিশ্বের বুকে একটি চরম দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার গভীর ষড়যন্ত্র। ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করলেন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, উন্নয়নের রূপকার দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাফ জানিয়ে দিলেন- বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নয়; নিজেদের অর্থায়নেই হবে আমাদের পদ্মা সেতু! প্রধানমন্ত্রীর এই সাহসী সিদ্ধান্ত তাঁকে একজন আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়কের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেয়। বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতি চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ, দেশিয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে শত ঘাত-প্রতিঘাত ও মিথ্যাচারের বাধা পেরিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়তায় প্রমত্ত পদ্মার বুকে আজ  সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে পদ্মা সেতু। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের স্বপ্নের সেতু।

পদ্মা নদীতে সেতু নির্মাণ খুব সহজ ছিল না। পদ্মা নদীর গভীরতা এবং বেডরকের কারণে নদীর অনেক গভীরে পাইলিং করতে হয়েছে। যা বিশ্বে নজিরবিহীন। পদ্মায় বর্ষায় ভরা মৌসুমে প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ চল্লিশ হাজার ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হয়। নদীর স্রোতে বাধাগ্রস্থ না করতে ৬.১৫ মিটার সেতুতে পিলার দেয়া হয়েছে ৪২ টি। তীব্র স্রোতে, বায়ু প্রবাহ ও ভুমিকম্পজনিত ধাক্কা সামলাতে বেছে নেয়া হয়েছে ওয়ারেন ট্রাস ফর্ম। পদ্মার ইলিশ যেন পদ্মা বিমুখ না হয় সে কথাও মাথায় রাখতে হয়েছে। আগামী ১০০ বছরের কথা চিন্তা করে নদীতে অবাধে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়েছে। পদ্মা সেতু মূলত : দ্বিতল সেতু। উপরে সড়কপথে যানবাহন। নীচে চলবে রেল। ব্রডগেজ ও মিটার গেজ উভয় রেলই চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে প্রয়োজনে রেলে ডাবল উচ্চতার কনটেইনারও বহন করা যাবে।

পদ্মা সেতু দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগের দরজা খুলে দিবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের প্রায় ২৭ শতাংশ জুড়ে অবস্থিত এবং এ অঞ্চলে বাংলাদেশের ১৬৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ মানুষ বাস করে। এ অঞ্চলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দারিদ্র্যসীমার নিচে জনসংখ্যার অনুপাত প্রায় পাঁচ শতাংশ বেশি। এই সেতু নির্মাণের ফলে দক্ষিণবঙ্গে সৃষ্টি হবে শিল্পায়ন, পর্যটন ও আধুনিক নগরায়ন। কৃষিতে আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিশ্বনন্দিত গন্তব্য রয়েল বেঙ্গল টাইগার সমৃদ্ধ সুন্দরবন ও সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অভাবনীয় সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে বিশাল পর্যটন শিল্প। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশ দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের সাথে যুক্ত হবে। বিশেষত এটি ভুটান, ভারত এবং নেপালের সাথে বাণিজ্য ও পর্যটনের জন্য আরও দ্রুত সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা সেতু পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে বার্ষিক জিডিপিতে এটি প্রায় ১.২ শতাংশ অবদান রাখবে। এই সেতু যোগাযোগ, বাণিজ্য, শিল্প, পর্যটন এবং অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে অবদান রাখবে।

পদ্মা সেতু আমাদের গর্বের সম্পদ, অহংকারের নিদর্শন। এ সেতু আমাদের মর্যাদার প্রতীক, আত্মসম্মানের প্রতীক, কারও কাছে মাথা নত না করে মাথা উঁচু করার প্রতীক, সক্ষমতার প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক এবং সর্বোপরি আমরা পারি তা প্রমাণের প্রতীক। আর এ প্রতীক রচনার বীর ও সাহসী নায়ক সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। সহস্র অভিবাদন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *