ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

কবি নির্মুলেন্দু গুণের ‘সেই রাত্রির কল্পকাহিনী’-তে এভাবেই উঠে এসেছে বাঙালির হৃদয়ভাঙা শোকগাথা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, যিনি তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাঙালির স্বাধিকারের জন্য, বাঙালির মুক্তির জন্য। ১৫ আগস্টের কালরাতে তাঁকেই জীবন দিতে হয়েছিল কিছু কাপুরুষের হাতে। শুধু তাঁকে নয়, সেদিন হত্যা করা হয় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসায় থাকা তাঁর পরিবারের সবাইকে, এমনকি তাঁর শিশুসন্তান রাসেলকেও ঘাতকেরা রেহাই দেয়নি। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে দেশ ও জাতিকে বিপথগামী করার অপচেষ্টা চালানো হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুর অবদান মুছে ফেলার প্রক্রিয়াও চালানো হয়েছে নানাভাবে। ইতিহাসে যাঁর স্থান সুনির্দিষ্ট ও স্বীয় মহিমায় সমুজ্জ্বল, তাঁকে অস্বীকারের মূঢ়তা বিভিন্ন সরকারের আমলে কম দেখানো হয়নি। এতে স্বল্পকালীন সুবিধা হাসিল করা গেলেও চূড়ান্ত বিচারে তা সফল হয়নি। বরং মৃত বঙ্গবন্ধু দিনের পর দিন হয়ে উঠেছেন আরও শক্তিশালী। জাতির ইতিহাসে অবিস্মরণীয় অবদানই তাঁকে অজেয় করে রেখেছে।

বঙ্গবন্ধুর হত্যার সুদীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের দ্বার উন্মুক্ত হয়। ওই বছরের ১৪ নভেম্বর জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি বাতিল করা হয়। ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাড়ির কেয়ারটেকার ও পিএ আ ফ ম মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা [নং-১০ (১০) ৯৬] দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির তৎকালীন প্রখ্যাত কর্মকর্তা আবদুল কাহার আকন্দ। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে। তবে সবকিছু অতিক্রম করে তিনি ও তাঁর তদন্ত দল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সরকারের বিভিন্ন দফতর ছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে চার্জশিট দিতে সক্ষম হন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিচারপ্রক্রিয়া শুরুর পর ১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত বিচারক বিব্রত হওয়াসহ নানা কারণে আটবার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ১২ আসামির মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল রাখেন এবং ৩ জনকে খালাস দেন। বিচারের রায় অনুযায়ী ইতিমধ্যে ৬ জন খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ৫ জন বিদেশে পালিয়ে আছে এবং ১ জন মৃত।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে বাংলাদেশ পুলিশের ৩০৩ রাইফেল থেকেই প্রথম বুলেটটি ছোড়া হয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড তদন্তের সুকঠিন ও সুমহান দায়িত্ব পালন করতে পেরে বাংলাদেশ পুলিশ গর্বিত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে দন্ডাদেশ কার্যকর করার মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা। জাতীয় শোক দিবসে আমাদের শপথ হোক স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী সব ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে মোকাবিলা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *