ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

বাঙালির আত্মপরিচয় ও স্বকীয়তাবোধ মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়ার উৎস মহান একুশ। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগান দিতে দিতে রফিক, সফিক, জব্বাররা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছে। বুকের তাজা রক্তে আদায় করেছে মাতৃভাষার অধিকার। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর বাংলা ও বাঙালির প্রতি যে অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করেছিল তৎকালীন পাকিস্তানের শাসক শ্রেণী, ভাষা আন্দোলন ছিল তারই বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ। বাঙালি জাতিয়তাবোধের চেতনা থেকে উৎসারিত ভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলন ক্রমে ক্রমে পরিণত হয় স্বাধিকার আন্দোলনে। যে আন্দোলন পরবর্তীতে ’৬৯ এর গণআন্দোলনের পথ বেয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যকে ছিনিয়ে আনতে প্রেরণা জুগিয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষার দাবীতে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে গ্রেফতার বরণ করেন। জেলে অনশন ধর্মঘট পালন করেন। ভাষা আন্দোলনকে স্বাধীকার আন্দোলনে রূপান্তরিত করে বিশ্বের বুকে বাঙালির একটি জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।

সারা বিশ্বে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। আমরা জানি পৃথিবীতে সাত হাজারের মতো ভাষা রয়েছে। পৃথিবীতে যেসব জাতি চিত্তে-বিত্তে, জ্ঞান-বিজ্ঞানে সভ্যতার শিখরে অবস্থান করছে তারা নিজ নিজ ভাষাকে প্রাধান্য দিয়েই উন্নতি লাভ করছে। প্রকৃতপক্ষে নিজ ভাষাকে অবহেলা করা মানে নিজ দেশকেই অবহেলার চোখে দেখা। তাই সংবিধানের আলোকে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্র বাংলাভাষা ব্যবহারের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।

বিতর্ক রয়েছে, বিশ্বায়নের যুগে ভিন্ন সভ্যতা, ভিন্ন সংস্কৃতির যে অবাধ প্রবাহ, তাতে আমরা অবগাহন করব কি না? আকাশ সংস্কৃতির মাধ্যমে ভিন দেশের যেসব বিষয় আমাদের বিনোদিত করে, সেগুলো আমরা গ্রহণ করবো কি-না? এ বিতর্কের মিমাংসা হতে পারে বিষয়টিকে যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচারের মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে বলা যায়, আমরা স্বতন্ত্র একটি জাতি হিসেবে আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট সমুন্নত রেখেই ভিন্ন সংস্কৃতি কৃষ্টির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া ঘটাতে পারি। এ সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চমৎকার একটি দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে আমরা দেখি ছেলেমেয়েদের নিজের ভাষা না শিখিয়ে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। ইংরেজি অবশ্যই শিখবে, ইংরেজি ও আরবি এই দুটো আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন। বিশেষ করে জীবন জীবিকার জন্য এই দুটো ভাষার প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি অন্য ভাষাও শিখতে পারি, কিন্তু তা অবশ্যই মাতৃভাষাকে বাদ দিয়ে নয়।’

পৃথিবীতে মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার জন্য আত্মহুতি দেওয়ার বিরল দৃষ্টান্তের অধিকারি জাতি আমরা।

মাতৃভাষায় যত সহজে মনের ভাব প্রকাশ করা যায়, পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, অন্য কোন ভাষায় তা করা যায় না। মাতৃভাষা ছাড়া জীবনচর্চা পূর্ণাঙ্গতা পায় না। দুঃখজনক হলেও সত্য, মাতৃভাষার চর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে আমরা যত্মবান নই, যা ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বাংলা ও বাঙালির ভাষিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও কৃষ্টিকে এগিয়ে নেওয়ার সার্বক্ষণিক চেষ্টা আমাদের বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার একমাত্র সোপান।

মহান আন্তর্জাতিক ও মাতৃভাষা দিবস স্মরণে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। ভাষা আন্দোলনের শহীদের স্মরণ করি অশেষ কৃতজ্ঞতায়। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হোক এই প্রত্যাশায়।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *