ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক

৪. প্রশ্নের কৌশলগুলো

প্রত্যাশিত তথ্য সঠিকভাবে দিতে প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত সাক্ষাৎকারদাতাকে প্রশ্ন করা উচিত নয়। প্রত্যক্ষ বা সরাসরি প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

প্রকৃতিগতভাবেই মানুষ সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিতে সংকোচবোধ করে। কোনো সাক্ষী একবার কোনো বিষয়ে ‘না’ বললে তাকে দিয়ে ‘হ্যাঁ’ বলানো কঠিন। তাই সাক্ষী তার ভাষ্য পুরোপুরি শেষ করে সহযোগিতায় রাজি হলেই কেবল সরাসরি ও বাড়তি প্রশ্ন করা উচিৎ। একটি উৎকৃষ্ট শ্রেণির প্রশ্নমালায় নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য থাকা উচিৎ-

৪.১ এক সঙ্গে একাধিক প্রশ্ন নয়

সাক্ষাৎকারদাতাকে এক সঙ্গে একটিমাত্র প্রশ্ন করতে হবে। অনেক সময় একই প্রশ্নের মধ্যে একাধিক উত্তর আশা করা হতে পারে। এমন প্রশ্ন সাধারণত যৌগিক বাক্যে গঠন করা হয়। এতে সাক্ষাৎকারের গতি ব্যাহত হয়।

৪.২ জানা বিষয়ে প্রশ্ন করা যাবে না

সাক্ষাৎকারের উদ্দেশ্যই হচ্ছে সাক্ষীর কাছ থেকে নতুন তথ্য সংগ্রহ করা। তাই যে প্রশ্নের উত্তর জানা আছে কিংবা প্রশ্নের মধ্যেই যার উত্তর নিহিত রয়েছে। এমন প্রশ্ন করা অর্থহীন।

৪.৩ সরল প্রকৃতির প্রশ্ন

এমন ধরনের প্রশ্ন করতে হবে, যা সাক্ষী সহজেই বুঝতে পারে। অতি আলংকারিক বা ঘোরানো-প্যাঁচানো জটিল বাক্যের প্রশ্ন করা হলে তা সাক্ষীর বোধগম্য না-ও হতে পারে। এর ফলে সাক্ষী না বুঝেই হয়তো ‘না’ বলবে; অথচ তিনি তা জানেন। এ ধরনের দুর্বোধ্য প্রশ্নে সাক্ষাৎকারদাতা বিরক্ত হন। সাক্ষীর বয়স, মানসিক পরিপক্বতা, তাদের ব্যক্তিত্ব, পেশাগত অবস্থান, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি বিবেচনায় প্রশ্নের মান নির্ধারণ করা উচিৎ।

৪.৩ বিব্রতকর প্রশ্ন করা যাবে না

সাক্ষীকে এমন প্রশ্ন করা যাবে না, যাতে তিনি বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হলেও কোনো কোনো সাক্ষী তার একান্ত ব্যক্তিগত কারণে ঘটনাস্থলে থাকতে পারেন। কিংবা ঘটনার পাত্র-পাত্রীদের সঙ্গে তার গোপন সম্পর্কও থাকতে পারে। অনেক সময় স্থান-কাল ও দূরত্বের ক্ষেত্রেও সাক্ষীর ভিন্নতর বা ভ্রান্ত ধারণা থাকতে পারে। কিন্তু সাক্ষাৎকারগ্রহণকারী কোনোভাবেই সাক্ষীকে উপহাস করবেন না। ঘটনা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সাক্ষী সরলতার পরিচয় দিতে পারেন। এক্ষেত্রে তদন্তকারী সাক্ষীকে সহায়তা করবেন। হ্যাঁ, না সূচক প্রশ্ন করা যাবে না। সাক্ষীকে যদি এমন প্রশ্ন করা হয় যার উত্তর হ্যাঁ অথবা না হবে কিংবা যদি তদন্তকারী কর্মকর্তা কোন প্রশ্নের উত্তর জানতে চান, হয় হ্যাঁ বলুন, নয়তো না’, তাহলে প্রশ্নোত্তরের পর্ব সমাপ্তির পথে চলে যায়। এতে সাক্ষাৎকারদাতার স্বাধীন চিন্তার পথ রুদ্ধ হয়। এতে সাক্ষী যেমন বিব্রতবোধ করেন তেমনি অসত্য তথ্য প্রপ্তির আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

৪.৪ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ

সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া ও সাক্ষাৎকারদাতা উভয় ক্ষেত্রেই আগাগোড়া ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। সাক্ষীর ক্রুটি-বিচ্যুতির জন্য কোনোভাবেই তাকে যেমন দোষারোপ করা যাবে না, তেমনি সাক্ষাৎকার থেকে কিছুই অর্জিত হবে না— এমন মনোভাব পোষণ করা উচিত নয়। অনেক সময় সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে সাক্ষী দেরি করে আসতে পারে কিংবা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা করতে পারে। কোনো ক্ষেত্রেই সাক্ষীর অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মতো কোনো কাজ করা যাবে না বা মন্তব্য করা যাবে না।

তদন্তকারীর জন্য সাক্ষাৎকারে বিলম্বিত হলে কিংবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হলে বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। তদন্তকারীর বিনয় সাক্ষীকে অধিকতর সহজ হতে সাহায্য করবে এবং তিনি সহজেই তথ্য দিতে উৎসাহিত হবেন।

৪.৫ সাক্ষাৎকারের কর্তৃত্ব হাতে রাখতে হবে

সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাক্ষীর কাছে যত খোলামেলাই হোন না কেন, পুরো সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ায় তাকে সাক্ষাৎকারের কর্তৃত্ব নিজ হাতে রাখতে হবে। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর প্রজ্ঞা, দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি সবকিছুর নিরিখেই তাকে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকতে হবে। তার কথায়, কাজে ও আচরণে কর্তৃত্বের ভাব প্রকাশিত হবে। অনেক সময় বেয়াড়া ধরনের সাক্ষীগণ তদন্তকারী কর্মকর্তার উপর কর্তৃত্ব ফলাতে চান। এক্ষেত্রে একটা মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। এ মানসিক দ্বন্দ্বে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে অবশ্যই জয়লাভ করতে হবে। অনেক সময় মাত্র সাধারণ কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ যেমন, সাক্ষীকে ধূমপান করতে বারণ করা, তিনি যে চেয়ারে বসেছেন তা বদলিয়ে দেওয়া, এমনকি সাক্ষীকে চেয়ার-এর অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য করার মধ্যেও তদন্তকারী কর্মকর্তার কর্তৃত্ব সুদৃঢ় হতে পারে।

লেখক : এআইজি (পিএন্ডআর-২)

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *