ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ফরিদা ইয়াসমিন বিপিএম

ফজরের আজান শোনা যাচ্ছে। প্রতিদিন এ সময় ঘুম ভেঙে যায় বৃদ্ধ আফতাব উদ্দিনের। উঠে অজু সেরে নামাজ পড়ে জায়নামাজেই বসে থাকে। কিছুক্ষণ দোয়া দুরুদ পড়ে। আজ উঠতে ইচ্ছে করছে না। দুদিন ধরে শরীরটা কেমন ম্যাজ ম্যাজ করছে। আফতাব উদ্দিন কেমন আধো ঘুম আধো জাগরণ অবস্থায়। মোরগের বাক শোনা যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর কলতলায় পানি পড়ার শব্দ।

বৌমা নিশ্চয়ই উঠে পড়েছে। বৌটি ঘুম থেকে উঠে নামাজ সেরে শ^শুরের সামনে এক কাপ চা আর দুটো বিস্কিট না হয় একটি বাটিতে খানিকটা মুড়ি দিয়ে যায়। তারপর ছেলেকে ঘুম থেকে উঠায়। মুখ হাত ধুইয়ে পড়তে বসায়। রাজিয়া এক কাপ চা আর দুটো টোস্ট বিস্কুট নিয়ে এসে দেখে শ^শুর ঘুমাচ্ছে। উদ্বিগ্ন স্বরে কপালে হাত রেখে বলে বাবা ঘুমাচ্ছেন, উঠেন, চা খান, শরীরটা কি খারাপ লাগছে বাবা?

‘না বৌমা’ আফাতাব উদ্দিন উঠে বসে। ভোর রাতে তোমার শাশুড়িকে স্বপ্নে দেখলাম। পিছনের পেয়ারা বাগানটায় একা একা বেড়াচ্ছে। মুখটা কেমন মলিন বৌমা। ও কিছু না বাবা, আপনি সব সময় মায়ের কথা চিন্তা করেন তাই স্বপ্নে দেখেছেন।

রাজিয়া তার শাশুড়িকে দেখেনি। শাশুড়ি জেবুন্নাহার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে একমাত্র ছেলে আরিফকে রেখে মারা যান। মা মারা যাওয়ার পরে প্রথম কয়েকমাস বড় মেয়ে আমিনা শ^শুর বাড়ি থেকে এসে বাবা-ভাই এর দেখা শোনা করতে পারলেও এক সময় স্বামী শাশুড়ি বিরক্ত হন। আমিনা তাই মামাদের সাথে যোগাযোগ করে পাশের গ্রামের নিয়াজ, খালেদের ছোট বোন রাজিয়াকে আরিফের বউ করে নিয়ে আসে। রাজিয়া তখন সবে এসএসসি দিয়েছে। গ্রামের স্কুলে খুব ভালো ছাত্রী ছিল রাজিয়া। কথা ছিল শ্বশুর পড়াশুনা করাবে। তেইশ বছরের আরিফ কিশোরী বধু রাজিয়াকে পেয়ে বাউন্ডলে বন্ধুদের সঙ্গ ছাড়ে।

কিশোরী রাজিয়ার মন পড়ে থাকে স্কুলের বান্ধবীদের কাছে। কয়েক দিন পরেই রেজাল্ট দিবে। কলেজে যাবে চোখে মুখে নতুন স্বপ্ন। কে ছাই চেয়েছিল এই টোনাটুনির সংসার। সকালে উঠে শ^শুরকে চা বানিয়ে দেয়া, ঘরের কাজ কর্ম করা। স্বামী কিছুই করে না, সারাদিন বাড়িতে থাকে আর সন্ধ্যায় যায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে। সংসারেও অভাব। শ^শুর আফতাব উদ্দিন একটি জুট মিলে ফোরম্যানের কাজ করত। মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসময়ে পেনশন নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। শ্বশুরের সামান্য জমি আর পেনশনের টাকায় সংসার চলে। ভাইরা বড় চাকুরি না করলেও সংসারে অভাব ছিল না। রাজিয়া আড়ালে চোখের জল ফেলে। ভাইয়ের সংসারে সে কি খুব বোঝা হয়েছিল। কেন এত তাড়াতাড়ি তাকে বিয়ে দিয়ে দিল।

তবে শ্বশুর আফাতাব উদ্দিন খুব ভালো মানুষ। রাজিয়াকে মা ছাড়া কথাই বলে না, পিতৃহীন রাজিয়ার শ্বশুরের মা ডাক শুনে বুকের ভিতরটা কেমন করে উঠে। আহা বাবা বেঁচে থাকলে এভাবেই ডাকতো।

আরিফ কিছুদিন বউয়ের আঁচল ঘেঁষা হয়ে থাকলেও বন্ধুদের ডাক অবহেলা করতে পারে না। ধীরে ধীরে মনটা সংসারী হয়। ঘরে কিশোরী বধু। ইচ্ছে করলেই তাকে শখের কিছু কিনে দিতে পারে না। শুকনো ভালোবাসায় কি আর মন ভরে। আরিফ বাবার কাছে এসে বায়না ধরে, বিদেশে যাবে। গ্রামের এক দালাল বিদেশে লোক পাঠায়। বেশ কয়েকজনকে পাঠিয়েছে। তারা বেশ ভালোই আছে। বাড়ীতে টাকা পাঠায়। ভাঙা টিনের ঘরের বদলে দালান উঠেছে। 

আফতাব উদ্দিন রাজি হয় না। মা হারা একমাত্র ছেলে। বিয়ের বছরও ঘোরেনি। এ সময়ে বাইরে চলে গেলে! তাছাড়া বিদেশে পাঠানের মতো টাকা পয়সাও তার নেই। ‘না বাবা তোমার বিদেশে যেয়ে কাজ নেই, এখানেই কিছু কর। বাজারে যে দোকানটা ভাড়া দিয়েছি না হয় নিজেই ওটা চালাও। প্রাইভেটে বি এ পরীক্ষাটাও দিয়ে দাও’। ছেলে মেজাজ দেখায়। ‘দোকান করে সংসার চলবে না বাবা। মুন্সী পাড়ার রাসেল, জয়নুল গেছে। ওদের সাথে কথা হয়েছে। ভালো পার্টি, টাকা মার যাবে না। তুমি না করোনা বাবা।’

আফতাব উদ্দিনের বুকটা হাহাকার করে উঠে। শেষ বয়সের সন্তান, মায়ের অনেক আদরের। কখনো কোনো আবদার অপূর্ণ রাখেনি। কত আশা ছিল ছেলেকে নিয়ে। বড় হলে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার না হোক কলেজের শিক্ষক হবে।  বেশি আদরে ছেলেটা প্রায় বখে গেল। আজ সংসারের হাল ধরতে চাচ্ছে। কিন্তু ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে সে থাকবে কি করে। তাছাড়া পুত্রবধূর বয়স ও যে কম। আরিফ দিন দিন জেদ করতেই থাকে। ছেলের জেদের কাছে হার মানলো বৃদ্ধ আফতাব উদ্দিন। নিজের সামান্য একটু জমি বাজারের দোকানটা বিক্রি করলো। বড় মেয়ে আমিনা স্বামীকে না জানিয়ে মায়ের দেওয়া বালা দুটি বিক্রি করে ভাই এর আব্দার মেটায়।

রাজিয়া চোখের জলে বুক ভাসায়। রাতে টিমটিমে লাইটের আলোতে বৌয়ের মুখটি দুহাতে আগলে আদর মাখা সুরে আরিফ বলে তুমি কিচ্ছু চিন্তা করোনা আমি প্রতি বছর আসবো, আব্বার দেনা শোধ করে তোমাকে কলেজে ভর্তি করিয়ে দিব। কয়েকটা দিন ধৈর্য ধর, আমার জান। রাজিয়া কাঁদতে কাঁদতে স্বামীর বুকে মাথা রাখে। তুমি চলে গেলে আমি বাঁচবো কি করে। এ শূন্য বাড়িতে শুধু বাবা আর আমি, কি করে থাকবো।

‘বুবুর সাথে কথা হয়েছে। আমার এক বিধবা ফুপু আছে সে এসে থাকবে। আর আমি তো তোমার সাথে প্রতিদিন মোবাইলে কথা বলবো’। এরও কয়েকমাস পরে এক সকালে বাবা, বোন আর রাজিয়াকে কাঁদিয়ে আরিফ বিদেশের পথে পা বাড়ায়। বড় দুলাভাই এনায়েত ঢাকা পর্যন্ত গিয়ে আরিফকে বিমানে তুলে দিয়ে আসে।

রাজিয়ার দিন রাত কাটে না, স্বামীর কিনে দেওয়া মোবাইল সব সময় হাতের কাছে রাখে, প্রায় তিন দিন পর অচেনা এক নাম্বার থেকে ফোন দেয় আরিফ, সে লিবিয়া পৌঁছেছে। ভালোই আছে। একটু সেট হয়ে পরে কথা বলবে।

বছর দুয়েক রাজিয়া বাপের বাড়ী শ^শুর বাড়ী করে কাটায়, এক শীতের সকালে আরিফ দুটি বিশাল লাগেজ নিয়ে উঠানে এসে দাড়ায়। আফতাব উদ্দিন ছেলেকে ধরে কাদতে থাকে। ‘বাজান তুই এত শুকিয়ে গেছিস কেন? আর এত কালো হয়ে গেছিস’। রাজিয়া আরিফকে দেখে কেমন লজ্জা পায়, এ যেন দু বছর আগের সে আরিফ নয়। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রোদে ঝলসানো দায়িত্বশীল এক পুরুষ। আরিফ রাজিয়াকে দেখে অবাক হয়। তার সেই কিশোরী বধূ, এই দু’বছরে এত বড় হয়ে গেছে। একটু শুকিয়েছে বটে তবে কি সুন্দরই না হয়েছে রাজিয়া।

মাস দুয়েকের ছুটিতে ছিল আরিফ। লাগেজ ভর্তি করে উপহার এনেছে। কত কিছু, স্যাম্পু-সাবান-লোশন চকলেট, রাজিয়ার জন্যে স্মার্ট ফোন। এখন থেকে শুধু কথাই বলবে না। এই ফোনে ছবিও দেখা যাবে।

রাজিয়ার সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হয়। আরিফের সাথে ঢাকা শহরে ছোট ননদের বাসায় বেড়াতে যাওয়া, পার্কে বসে ফুচকা খাওয়া। বিশ^বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যেতে যেতে আরিফ বলে, আমি তো বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে লেখাপড়া নষ্ট করলাম। তোমার জীবনটা নষ্ট হতে দিবনা। তুমি সামনের সেশনেই কলেজে ভর্তি হবা। বাবার স্বপ্ন পূরণ করবা। সুখ ছুঁয়ে যায় রাজিয়ার দেহে মনে। গভীর রাতে স্বামীর বুকে মুখ ঘষতে ঘষতে রাজিয়া বলে, ‘তোমার আর বিদেশে যেয়ে কাজ নেই। এখানেই কিছু একটা কর। আমি তোমারে ছাড়া থাকতে পারবো না।’

‘আরিফ রাজিয়াকে বুকের সাথে চেপে ধরে। তাই কি হয় এখনো কিছু জমাতে পারিনি। সংসার বড় হবে না! নতুন অতিথির জন্য আমাকে যে আরো কয়েকটা বছর কষ্ট করতে হবে।’ সেবারই খোকন পেটে এল। ছুটি শেষ হয়। আরিফ রাজিয়ার অশ্রু মুছিয়ে লিবিয়া পৌঁছানোর সপ্তাহ দুয়েক পরেই জানতে পারে সে বাবা হতে চলেছে। একটা কনস্ট্রাকশন ফার্মে কাজ পেয়েছে সে, ছাদের উপর কাজ চলছিল, খবরটা শুনে খুশিতে প্রায় লাফিয়ে পড়ার অবস্থা।

রাজিয়ার দেহে নতুন অনুভূতি। ফুপু শাশুড়ি তার দেখা শোনা করে। আফতাব উদ্দিন বাজার থেকে ফল কিনে আনে বৌমার জন্যে। মেয়েটি যে ভাত-মাছ কিছু খেতে পারছে না। রাজিয়া শুয়ে থাকে আর স্বামীর ফোনের অপেক্ষা করে। সময়ের সাথে মিলে না। বেশ রাতে আরিফের ফোন আসে, ভিডিও কল। তোমাকে তো দেখা যাচ্ছে না বউ। আলোটা একটু বাড়াও। আচ্ছা বাবু কি নড়াচড়া করে; কত কথা। রাজিয়া লজ্জা পায়।

ছেলে হলে নাম রাখে স্বপ্ন। মোবাইল ফোনে ছেলেকে দেখে আরিফ। কেউ দেশে আসলে ছেলের জন্য জামা, খেলনা গাড়ি পাঠায়। স্বপ্ন হাঁটতে শেখে। আরিফের চোখে জল, ছেলে যে মোবাইল ফোনের ছবিকেই বাবা বলে চুমু খায়। শব্দ করে হাসে। আরিফের বুকটা মোচর দিয়ে উঠে। রাজিয়া মাঝে মাঝে অভিমান করে কথা বন্ধ রাখে। দুবছর হয়ে গেল তুমি একবার দেশে এসে ঘুরে যাও। বুঝেছি বৌ ছেলের জন্য তোমার মায়া নেই। আরিফ বৌকে সব কথা বলতে চায় না, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। সে যে এ দেশে এখন অবৈধভাবে আছে।

‘এই তো বউ আর দুটো বছর ওয়েট কর। এখানে তেমন কিছু করা যাচ্ছে না। ট্যাক্সি চালানো শিখেছি। ইউরোপে ঢুকবো ভাবছি। সাগর পাড়ি দিলেই ইউরোপ। অনেকেই চলে গেছে। এক পার্টির সাথে কথা হয়েছে। সামনের মাসে নৌকায় করে আমাদের নিয়ে যাবে। বাবাকে এখনই বলো না, সবকিছু ঠিক হলে বাবাকে বলবো।’ রাজিয়া এত কিছু বোঝে না, স্বামীর ওপর প্রচ- অভিমান হয়। রাগ হয়ে বলে, তোমার আর দেশে আসতে হবে না। তুমি ইউরোপ-আমেরিকা করে বেড়াও।

মাস খানেক পরে এক রাতে আরিফ ফোন দেয়, বাবার কাছে দোয়া চায়, বাবা কয়েকদিন কথা বলতে পারবো না। আমি এখান থেকে ইউরোপ যাচ্ছি। ওখানে পৌঁছে তোমার সাথে কথা বলবো।  বাবা কিছুই বুঝতে পারে না। ছেলের মাথায় ইউরোপে যাওয়ার ভুত চাপলো কি করে।

রাজিয়া, বৃদ্ধ আফতাব উদ্দিন দিন গুনে। দুদিন যায়, সপ্তাহ যায়, আরিফের ফোন আসে না। ছেলে কোলে রাজিয়া অসহায়ভাবে শ^শুরের দিকে চেয়ে থাকে। আরিফের সাথে যাওয়া বেলাল, হাফিজদের পরিবারের কাছে খোঁজ নেয়। আরিফের খবর কেউ দিতে পারেনা। টিভিতে সংবাদ দেখে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টায় প্রায় শত যাত্রী নিয়ে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি। তার মধ্যে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি আছে। রাজিয়ার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কান্নাকটি, দোয়া, মানত কোনো কিছ্ইু আরিফের খবর এনে দিতে পারে না।

বড় জামাই এনায়েত গিয়ে ঢাকার দূতাবাসে খবর নেয়। মোবাইলের শেষ লোকেশনটি লিবিয়ায় দেখা ছাড়া কোনো তথ্য নেই তাদের কাছে। চোখের জল চোখেই শুকায়, স্বপ্ন বড় হতে থাকে। আরিফের আর কোন খবরই আসে না। সেও তো আজ চার বছর হলো। রাজিয়া দীর্ঘ নিশ^াস ফেলে। শ্বশুরের চা খাওয়া শেষ হলে চায়ের কাপটি হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকে।

‘একটা কথা বলতাম বাবা।’

কি? মা, বল।

‘স্বপ্ন বড় হচ্ছে। সংসারে টাকা পয়সা দরকার। স্বাস্থ্য বিভাগে মাঠকর্মী নিবে। আমাদের এলাকার যে জিনাত আপা আসে ওনার সাথে কথা হয়েছে। আমি চাকরি করতে চাই বাবা।’ আফতাব উদ্দিন কিছুক্ষণ চুপ করে থাকেন। তোবরানো গাল বেয়ে দুফোটা জল গড়িয়ে পড়ে। ‘বুঝেছি মা, কিন্তু তোমার এই বাবা তো এখানো মরে যায়নি। কাজ করার জন্য আমি এখনো শক্ত সমর্থ। তোমাকে বলবো ভেবেও বলা হয়নি। কলেজের পিছনে যে প্রজেক্টের কাজ শুরু হয়েছে, ওখানে আমি একটা কাজ পেয়েছি। সাহাব মেম্বারের ভাই মিজানুর ঐ প্রজেক্টের ইঞ্জিনিয়ার আমাকে কাজটি দিয়েছে। সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি। বেতন খারাপ না।’

‘কি বলেন বাবা; আপনি এই বয়সে কজ করবেন? না বাবা তা হয় না।’ ‘সব ঠিক হয়ে যাবে বৌমা। তুমি পড়াশুনা শুরু কর। আমার স্বপ্ন তো ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরেছে। তোমার স্বপ্নকে বড় হতে হবে।’ ‘তুমি পড়াশুনা শেষ করে স্কুল কলেজের শিক্ষক হবে। জ্ঞানের আলো জ¦ালাবে।’ ‘স্বপ্নকে যে অনেক বড় হতে হবে। ওই তো তোমাকে দেখে রাখবে। আমি আর কদিন আছি, মা।’

হেমন্তের সোনালী বিকেল, রূপাতলী ডিগ্রি কলেজের পাশেই এগ্রো প্রজেক্টের ফার্ম। লোহার বিশাল গেটের সামনে সিকিউরিটি গার্ডের পোশাকে বৃদ্ধ আফতাব উদ্দিন একটি লাঠি নিয়ে টুলে বসে আছে। কলেজের সাদা সালোয়ার কামিজের সাথে সাদা ওড়না মাথায় রাজিয়া সামনে এসে দাঁড়ায়। ব্যাগ থেকে ছোট একটি খাবারের বক্স সামনে এগিয়ে ধরে। প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের কলেজ শেষে কোচিং করায় শিক্ষকরা। রাজিয়া তাই ক্লাস শেষ করে ফেরার পথে শ^শুরকে দেখে যায়।

দিগন্তে সূর্যের সোনালী আভায় ভরে উঠে চারিদিক। সে আলো মাথায় নিয়ে ধানক্ষেতের আল দিয়ে রাজিয়া পা বাড়ায় বাড়ির পথে। আফতাব উদ্দিন সে দিকে তাকিয়ে থাকে। গোধূলী বেলায় ডুবে যাওয়া সূর্যের আলো পড়ে বৃদ্ধের চোখেমুখে অদ্ভুত দ্যুতি ছড়ায়। 

  লেখক : বিশেষ পুলিশ সুপার (পাসপোর্ট)

  স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *