ই-পেপার

শাফিকুর রাহী

কবি

মানবসভ্যতার অবক্ষয় কবলিত জনপদে-প্রেমময় সম্ভাষণে

ভালোবাসার গোলাপ ফোটাবো বলে কাল সারারাত

জেগে থাকি একাকী আমি।

তোমার গর্বিত নবউত্থানের দুঃসাহসী সাফল্যগাথায়

আর রূপলাবণ্যে বেহুঁশ বেভুলের বড় স্বপ্ন জাগে

প্রিয় শ্যামার উষ্ণ আলিঙ্গনে নিজেকে হারাবো বলে।

তোমার লাস্যময়ী জাদুকলায় সন্তরণের মনোতপস্যায়

নিমগ্ন তাপসের নির্ঘুম রাত কাটে না আর।

তোমার সুবর্ণ শ্যামল গালিচায় এক নতুন জাগরণের

স্বপ্ন এসে দোল খায় প্রাণকাড়া বাউরি বাতাসের দোলায়,

কাশফুলের ঢেউয়ের তালে অজানা আনন্দে নেচে উঠে মন।

এক সামরিক হন্তারকের লাম্পট্যে হিংস্রতায় ক্ষত-বিক্ষত

আত্মার আয়নায় বারবার ভেসে ওঠে হারানো প্রিয়স্বজনের

নির্মম ব্যথার বিলাপ। আমি দাঁড়িয়ে আছি দীর্ঘ প্রায়

ষাট বসন্তের ক্ষয়ীষ্ণু এক নগরসন্ন্যাস- অত্র তল্লাটে।

অত্র লোকালয়ে আজো সন্তানহারা মায়ের বুকভাঙা

বিলাপ ধ্বনিত হয়। যে মুক্ত মনোভূমিতে গর্বিত সাফল্যের

অসামান্য শব্দকারুকলায় আর এক সাগর রক্তে রচিত

প্রিয় মানচিত্র আমার। যার প্রতিটি ধুলিকণায় বৃক্ষের সারিতে-

মিশে আছে লাখো লাখো শহিদের পবিত্র রক্তের দাগ।

শত সহস্র নদী ও সমুদ্রে আজো সে রক্তের ধারা বহমান।

আজ তার সুবর্ণজয়ন্তীকাল এ মুহূর্তে নিজেকে বড়

সৌভাগ্যবান বলে তপ্ত মনের পিয়ানোয় জগৎখ্যাত

রবীন্দ্র সংগীতের প্রাণকাড়া সুর বেজে ওঠে

‘তুমি ডাক দিয়েছো কোন সকালে আমি তা জানি না’।

কী এক অজানা আনন্দে ঘরের বারান্দায় অপার সৌরভ ছড়ায়

রক্তজবা গোলাপ বেলী নেচে ওঠে। আমিও মনে মনে হাসি।

তোমার এ অদমনীয় এগিয়ে যাওয়ার ঔজ্জ্বল্যে

এ দুর্ভাগাও খুশির আবেশে উদাসী হাওয়ায় হারিয়ে যায়

কারণ আমিও এ গর্বিত উত্থানের অংশিদার বলে গর্ববোধ করি।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x