ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোঃ আশরাফুল ইসলাম বিপিএম

১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের আওতায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী কাজ করে যার ধারাবাহিকতায় প্রায় একশত বছর পর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ কালরাতে রাজারবাগ থেকে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে। সেই সূত্র ধরে ১৯৭৬ সালে (৩ নং অধ্যাদেশ বলে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠিত হয়। যাত্রাকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ হতে কার্যক্রম শুরু করে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি জনগণের ঢাকা মহানগরীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার গুরু দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। দুই লক্ষ বার হাজার সদস্যের পুলিশ বাহিনীর সবচেয়ে বড় ইউনিট হিসেবে পরিচিত ডিএমপিতে প্রায় ৩৫ হাজার সদস্য ডিএমপিতে নানা পদে কাজ করে চলেছে। ক্রম বর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে বর্তমানে ডিএমপিতে ৪টি পুলিশ লাইনস্ রয়েছে। যথাক্রমে- রাজারবাগ, মিরপুর পিওএম, আব্দুল গনি রোডস্থ প্ররক্ষা ও ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের জন্য গুলশান-২এ রয়েছে ০১ টি পুলিশ লাইনস্।

ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগ পুলিশ লাইনস্-এ বর্তমান জনবল ৯৭৮ জন। এখান থেকে মূলত ঢাকায় অবস্থানরত ৫০টি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতগণের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, অফিস নিরাপত্তা, আবাসিক নিরাপত্তা ও ঢাকা শহরে বিভিন্ন দপ্তরের গমনাগমনের সময় তাদেরকে এস্কর্ট প্রদান করা হয়। এছাড়া, জাতিসংঘের অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের অফিস এবং অফিসে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ/পরিবারবর্গের নিরাপত্তা প্রদান করা হয়। সুতরাং, গুরুত্বের দিক বিবেচনায় ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের পুলিশের দায়িত্ব খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এবং সংবেদনশীল; যে কাজের জন্য পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে হতে হয় অত্যন্ত দক্ষ, সচেতন ও  আচার-আচরণে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মতো মানসম্পন্ন।

সমকালীন বৈশ্বিক কোডিভ-১৯ মহামারির দুর্যোগকালে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে অত্যন্ত দক্ষ, সাহসী এবং দৃঢ় মনোবলের অধিকারী হতে হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাননীয় আইজিপি ও মাননীয় পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনা বাস্তবায়নকল্পে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে। এই সময়ে কূটনৈতিক এলাকায় ৫০টি দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মহোদয়দের সাথে করোনাকালীন যোগাযোগ রক্ষা ও করোনা প্রতিরোধমূলক বিভিন্ন আলোচনা/ইভেন্ট আয়োজন করা হয়। যার অন্যতম, আমেরিকান মেডিকেল টিমের মাধ্যমে ডিভিশনের সকলকে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা। যে লক্ষ্যে, সচেতনতা অন্তঃবাহিনী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার জন্য অত্র বিভাগের মূল ব্যারাক দুটির পাশাপাশি ৫টি অস্থায়ী ব্যারাকে (গুলশান মডেল স্কুল, শাহজাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মানারাত স্কুল, ক্যামব্রিয়ানমডেল স্কুল এন্ড কলেজ ও ক্যামব্রিয়ান হোস্টেল) অত্র বিভাগে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের স্থানান্তর করে, তাদের আবাসনের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় এবং সুস্থতা নিশ্চিত করে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে প্রতিনিয়ত বিফ্রিং এর মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে করোনার প্রকোপ অত্র বিভাগে তেমন প্রভাব ফেলতে পারে নাই।

ডিউটি চলাকালীন প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে ডিউটি পোস্টে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক পরিধান করা, সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্র বহন, নিয়মিত অস্ত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও পোষ্ট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখাসহ বিভিন্ন ব্রিফিং কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। ফলে, তারা সুস্থ থেকে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম কুড়িয়েছে। নিয়মিতভাবে, কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য পুলিশ সদস্যদের পুলিশ হাসপাতালে প্রেরণ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা, বিজয়নগর হোটেল আইসোলেশন সেন্টারে/দিয়াবাড়ি কোয়ারেনটাইন সেন্টারে পুলিশ সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের কারণে তারা মানসিক মনোবল ধরে রেখে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেছে। উপরন্তু, কোভিড-১৯ পজিটিভ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য পুলিশ হাসপাতালে প্রেরণ, তাদের সুস্থতার জন্য সার্বিক তদারকিসহ (পুলিশ) হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় সার্বক্ষণিক তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর রাখা হয়েছে, ফলে তার পরিবারসহ সকলে সফল হয়েছে। অত্র বিভাগে এ পর্যন্ত ২৩৮ জন করোনা পরীক্ষা করা হয় মোট ৭৮ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ সদস্য পাওয়া যায়; যাদের ৭৮ জন সুস্থ হয়ে পুনরায় কর্মস্থলে যোগদান করেছে। এছাড়া, কোভিড-১৯ প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় হোয়াটস্ অ্যাপ গ্রুপে অত্র বিভাগের হালনাগাদ তথ্য প্রদানসহ সিনিয়র স্যারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা ও তাঁদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

পুলিশ সদস্যদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও মানসিক প্রশান্তির জন্য যোগব্যায়াম (ইয়োগা) কার্যক্রম

অত্র বিভাগের সকল পুলিশ সদস্যদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পিটি প্যারেড সম্ভবপর হয়নি বিধায় অত্র বিভাগের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ইয়োগা বা যোগ ব্যায়াম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। উক্ত কার্যক্রম আয়োজনের সার্বিক কাজে অংশগ্রহণসহ নিয়মিত যোগ ব্যায়াম কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে; যার ফলে অংশগ্রহণকৃত পুলিশ সদস্যদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইয়োগা ইভেন্টটি সকল দেশীয় সংবাদপত্র (সমকাল, ডেইলি স্টার, ইত্তেফাক, ডিবিসি অনলাইন নিউজ, যুগান্তর ইত্যাদি, বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল) ও বিদেশি সংবাদ মাধ্যম (VOA) ফেসবুক পেইজ, নিউজ ওয়ার্ল্ড প্রেস, রয়টার্স, টেলিগ্রাফ, ইস্টার্ণ আই, দ্যা উইক, গ্লোবাল হেরাল্ড, সিটিজিএন, সিনহুয়া, গ্লোবালটাইম, গলফ্ নিউজ, -সিএনএ, ডেইলি সাভাহ্, ফ্রান্স ২৪, আরব নিউজ, ডেইলিডন, ইন সাইপ্রাস, প্যালেসনিউজ নেটওয়ার্ক  এবং ভারতের ডিডি নিউজ, ডেইলি হান্ট, দ্যা ইন্ডিয়ান আওয়াজ, নিউজ ১৮,  প্রাইম টাইম এবং আফ্রিকান আমেরিকান মাধ্যম আওয়ার টাইম এবং অনলাইনে সর্বাধিক পঠিত বিভিন্ন নিউজ পোর্টালসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশের প্রায় ১১০০ পত্রিকা ও প্রায় ৫০০ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে। যার ফলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বাংলাদেশ পুলিশ তথা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্বব্যাপীর কাছে উজ্জ্বল করেছে।

বিভিন্ন দূতাবাস/হাইকমিশন কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রদান ও সুনাম অর্জন ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দেশের দূতাবাস/হাইকমিশন কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন ধরনের (যেমন- নৈশভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দিবস উদযাপন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত মিটিং ইত্যাদি) অনুষ্ঠানে অত্র বিভাগ কর্তৃক নিরাপত্তা প্রদান করা হয়ে থাকে। এ সকল অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত/হাই কমিশনার/কূটনৈতিকবৃন্দ ও বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকেন। সর্বদা তাদের সাথে ই-মেইল/ফ্যাক্স/মোবাইল ফোন/এসএমএসের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত মহোদয় ভূয়সী প্রশংসাপত্র প্রেরণ করেছে।

বর্তমান সরকার কর্তৃক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত (১) রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প ও (২) পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দরের কাজে নিয়োজিত বিদেশি বিশেষজ্ঞগণসহ বাংলাদেশে অবস্থানরত রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গদের যাতায়াতে নিরাপত্তা অত্র বিভাগ কর্তৃক প্রদান করা হয়। যেখানে বিগত ০১ বছরে প্রায় ৩০০টির বেশি পুলিশ এস্কর্ট প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চায়না মেডিকেল টিমের সাথে করোনা প্রতিরোধে করণীয়/বর্জনীয় কেন্দ্রিক আলোচনা সভার আয়োজন এবং প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষত ডিএমপির ভালো কাজগুলোসহ বলিষ্ঠভাবে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। ফলে, অত্র বিভাগের ভাবমূর্তি তথা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি বিদেশি কূটনৈতিকদের কাছে উজ্জ্বল হয়েছে। যা বিভিন্ন দূতাবাস/হাইকমিশন কর্তৃক প্রেরিত প্রশংসাপত্রের মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়।

নিম্নে কয়েকটি প্রশংসাপত্র নমুনা স্বরূপ তুলে ধরা হলোঃ

(1) [USA]Ambassador of the United States of America Dhaka, Bangladesh Thank you for your partnership and you team’s Support during the visit of Deputy Secretary of State Stephen E. Biegun from October 14-16-2020 the close protection services provided by your team were crucial to making this a successful visit, Your focus on every detail ensured the U.S Embassy Regional Security Office could safely accomplish its Objectives during the visit.

(2) [RUSSIA] Letter of Commendation  Ovedthe past year, the Support of the Diplomatic Security Division under your leadership was crucial in providing reliable physical protection of the Embassy. The Division made a significant contribution into implementation of the first in the history of Bangladesh Rooppur nuclear power plant project by providing escort for 15 flights from Moscow, which delivered more then four thousand specialists to the construction site.

(3) [JAPAN]-Thank you for your partnership and your team’s support with the Japanese Embassy. We completely rely on your support for the security and safety of the Japanese Embassy, Japanese Diplomats and our other team members.We appreciate your continuous and dedicated support. Your support makes us feel comfortable in this country

(4) [SRILANKA]-Greetings from the High Commission of Sri Lanka, Dhaka t- I Wish to extend my sincerest congratulations to you on you assumption of duties as the deputy police commissioner of the Diplomatic Security Division, Dhaka Metropolitan police. আমরা

কৃতজ্ঞ আপনার পেশাগত দায়িত্ব ও দৃঢ়চেতায়। আমি আরো কাছে থেকে এক সাথে কাজ করতে চাই। 

লেখক : উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিপ্লোঃসিকিঃ)

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *