ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোঃ শাহরিয়ার হাসান জিসান

আপনার ডিজিটাল পরিচয় কি সুরক্ষিত?

আপনার ডিজিটাল পরিচয় বলতে যা বুঝায় তা হল ডিজিটাল মিডিয়া বা সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার পরিচিতি বা আপনার আইডি। সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য সংবলিত আইডি কি নিরাপদ আছে? ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটারের মতো জনপ্রিয় সোশ্যাল সাইটগুলোতে আপনার ব্যক্তিগত একাউন্টগুলোতে আপনার তথ্যগুলো কি নিরাপদ আছে? ডিজিটাল লিটারেসি বা ডিজিটাল সাক্ষরতার একটা বড় অংশজুড়ে আছে ব্যক্তিগত তথ্য ডিজিটাল মিডিয়াতে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রটি।

ডিজিটাল পরিচয় চুরির বৃদ্ধিহার (এফটিসি, ২০২০)

ডিজিটাল জগতে পরিচয় চুরির মতো ঘটনা নতুন কিছু নয়, তবে সম্প্রতি করা এফটিসির একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৮-১৯ এর তুলনায় ২০২০ এ এসে এই পরিচয় চুরি বৃদ্ধির হার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশে সতর্কতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এটুআই (a2i) এবং ফেসবুকের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজিটাল লিটারেসি বা ডিজিটাল সাক্ষরতা নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। Muktopaath.gov.bd পোর্টালে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক কোর্স রয়েছে। বিনামূল্যে এই কোর্সসমূহ করা যাবে।

ডিজিটাল নাগরিক মানে কি?

ফেসবুক গুগল অথবা যেকোনো অনলাইন পোর্টালে একাউন্ট পরিচালনার মাধ্যমেই আপনি ডিজিটাল দুনিয়ার নাগরিক হয়ে উঠেন। যেসব তথ্য আপনি পোস্ট এবং শেয়ার করেন ইন্টারনেটে থাকাকালীন, সেগুলো আপনার ডিজিটাল পরিচয় গঠন করে। ডিজিটাল দুনিয়াতে দায়িত্বপূর্ণভাবে কার্যক্রম করতে হবে। সেক্ষেত্রে ডিজিটাল আইনসমূহ মেনে চলা খুবই জরুরি। We Think Digital https://wethinkdigital.fb.com/bd/bd-bd/পোর্টালে ৮টি কোর্সে ডিজিটাল জগতের খুঁটিনাটি কোর্স রয়েছে।

নিজের ডিজিটাল পরিচয় রক্ষা করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ডিজিটাল পরিচয় রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডিজিটাল পরিচয় চুরি করে অনেক রকম অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে এবং এই ধরনের সাইবার অপরাধের সংখ্যা দিন দিন তুমুল বেগে বেড়েই চলেছে। মানুষ আপনার ডিজিটাল পরিচয় ব্যবহারের মাধ্যমে সুবিধা নিতে পারে কিন্তু আপনি যদি সাবধানতা অবলম্বন করেন, আপনি বিভিন্ন অনলাইন ঝুঁকির জন্য আপনার দুর্বলতা কমাতে পারেন। ডিজিটাল পরিচয় চুরি করার মাধ্যমে একজন নাগরিকের অর্থনৈতিক তথ্যের ব্যবহার করে জালিয়াতি, নাগরিককে অর্থনৈতিকভাবে এবং সামাজিকভাবে উভয়ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা সম্ভব। এছাড়াও ওই ব্যক্তির পরিচয়কে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা, গুজব অথবা রাষ্ট্রবিরোধী বা ধর্ম বিদ্বেষী প্রচারণা করা হতে পারে।

ধরা যাক, একজন চাকরিজীবীর ডিজিটাল পরিচয় হনন হওয়ায় তার ব্যাংক একাউন্ট এর সকল তথ্য হ্যাকারের নিকট প্রকাশ পেয়ে গেল। এতে ওই ব্যক্তি তার একাউন্টের সকল অর্থ হারাতে পারেন। আবার ধরুন, একজন ব্যবসায়ীর ডিজিটাল পরিচয় যদি চুরি হয় এবং তার বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তার পরিচিতদের থেকে আর্থিক সাহায্য চাওয়া হয়, সেক্ষেত্রে এই ব্যক্তি সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উভয়দিক দিয়ে জালিয়াতির শিকার হন। এছাড়াও আরও বিভিন্ন দিক থেকে একজন ব্যক্তি তার ডিজিটাল পরিচয় চুরি হলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কারও গোপনীয় তথ্য তার ডিজিটাল পরিচয়ের সাথে সাথে চুরি হতে পারে যা তার ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ডিজিটাল পরিচয় ও সাইবার অপরাধ

দেবারতি হালদার ও কেজয় শংকর সাইবার অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করেছেন “আধুনিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, যেমন ইন্টারনেট (চ্যাটরুম, ইমেইল, নোটিশবোর্ড ও গ্রুপ) এবং মোবাইল ফোন (এসএমএস/এমএমএস) ব্যবহার করে, অপরাধমূলক অভিপ্রায়ে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে

ইচ্ছাকৃতভাবে সম্মানহানি, কিংবা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি, বা ক্ষতির কারণ হওয়া”। এধরনের অপরাধ একটি জাতির নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বাস্থ্য হুমকি হতে পারে। আইনগত বা আইন বহির্ভূতভাবে বিশেষ তথ্যসমূহ বাধাপ্রাপ্ত বা প্রকাশিত হলে গোপনীয়তার লঙ্ঘন ঘটে।

মোঃ শাহিন ইসলাম, পেশায় একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। একদিন তিনি হঠাৎ লক্ষ্য করলেন যে তিনি তার ফেসবুক একাউন্টটি আর এক্সেস করতে পারছেন না। তিনি এ ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে পারলেন তার আইডিটি হ্যাক হয়েছে।

একদিকে তার আইডি থেকে বিভিন্নরকম অশালীন ভাষায় পোস্ট দিয়ে, তার অফিসের সিনিয়রদের ফেসবুকে অশালীন মেসেজ এবং মন্তব্য করে তার সামাজিক সম্মানকে ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে তার অফিসকলিগ, বন্ধুদের থেকে অর্থ চেয়ে মেসেজ বা বার্তা পাঠানো হচ্ছে। এইরকম ডিজিটাল পরিচয় চুরির ঘটনায় মোঃ শাহীন বিপর্যস্ত হয়ে সাইবার অপরাধ আইনের সাহায্য নেন।

সাইবার অপরাধ বৃদ্ধির হার (Cyber Edge Group 2020 Cyberthreat Defense Report)

হ্যাকিং, কপিরাইট লঙ্ঘন, শিশু পর্নোগ্রাফির মতো অপরাধগুলো বর্তমানে উচ্চমাত্রা ধারণ করেছে। লিঙ্গের ভিত্তিতে দেবারতি হালদার ও কেজয় শংকর নারীর প্রতি সাইবার অপরাধকে সংজ্ঞায়িত করেছেন, “ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের আধুনিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে, ইচ্ছাকৃতভাবে মানসিক এবং শারীরিক ক্ষতির উদ্দেশ্যে নারীর প্রতি অপরাধ।” আন্তর্জাতিকভাবে, রাষ্ট্রীয় বা ও-রাষ্ট্রীয় সত্তা কর্তৃক গুপ্তচরবৃত্তি, আর্থিক প্রতারণা, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, কিংবা অন্তত একটি রাষ্ট্রের স্বার্থ জড়িত এরূপ বিষয়ে হস্তক্ষেপ জনিত সাইবার অপরাধকে সাইবার যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

একটি রিপোর্ট (ম্যাকাফি কর্তৃক স্পন্সরকৃত) অনুমান করে যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতি ৪৪৫বিলিয়ন ডলার। তবে একটি মাইক্রোসফটের রিপোর্ট দেখায় যে জরিপভিত্তিক অনুমান “একেবারে ভ্রান্ত” হয় এবং সত্যিকারের লোকসানকে অতিরঞ্জিত করে। অনলাইন ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড জালিয়াতির ফলে ২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় $ ১.৫ বিলিয়ন ডলার হারিয়ে গেছে। ২০১৬ সালে একটি গবেষণায় অনুমান করা হয়, সাইবার অপরাধের খরচ ২০১৯ সালে ২.১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। ডিজিটাল পরিচিতি চুরি করে প্রচুর সাইবার অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। যার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা ডিজিটাল লিটারেসি নিয়ে কাজ করছে যাতে করে সর্বসাধারণকে ডিজিটাল পরিচিতি সম্পর্কে অবগত করা যায় এবং তাদেরকে ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষিত রাখার ব্যাপারে সচেতন করা যায়।

কিভাবে আপনার ডিজিটাল পরিচয় রক্ষা করবেন?

আপনার সিকিউরিটি সেটিংস সম্পর্কে সর্বদা অবগত থাকুন। আপনি সামাজিক মাধ্যমে কি ধরনের তথ্য শেয়ার করছেন সেই বিষয়ে সচেতন থাকুন। এমন তথ্য যা আপনার জন্য অকল্যাণের কারণ হতে পারে সেসব তথ্য পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন।

তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সচেতনতা

ইন্টারনেটে তথ্য শেয়ারের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্কতা অবলম্বনের ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। আপনার কোন তথ্যগুলো আপনি আপনার প্রোফাইলে শেয়ার করতে চান এবং কোন তথ্যগুলো শেয়ার করা উচিত এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

কি শেয়ার করা উচিত?

আপনি কি আপনার ব্যাংক একাউন্টের তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন?

আপনি কি নিজের সম্পর্কে গোপন কথা বলার একটি ভিডিওভাগ শেয়ার করতে চাইবেন?

আপনি কি একটি অজানা ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট সেটআপ করবেন এবং ব্যক্তিগত বিবরণ দেবেন?

ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণী কোনও ওয়েবসাইটে দেওয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত। ব্যক্তিগত এমন কোনোও তথ্য যা সাধারণ মানুষের সম্মুখে আসলে তা আপনার জন্য বিব্রতকর অথবা ক্ষতিকর পরিস্থিতির কারণ হতে পারে- এমন তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। আপনার ব্যক্তিগত এবং সামাজিক সম্মানও ব্যক্তিত্ববোধকে সুরক্ষিত রাখতে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই তথ্য শেয়ারের ব্যাপারে আপনাকে হতে হবে সূক্ষ্ম চিন্তাবিদ। কোনও তথ্য বা ফাইল শেয়ারের আগে চিন্তা করুণ তা শেয়ারের ফলে আপনি কি ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন।

কোনও ওয়েব সাইটে ব্যাংক একাউন্ট বা লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের সময় বিশেষভাবে সচেতন হন। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিভিন্ন হ্যাকারদের মাধ্যমে লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য চুরির ঘটনার ফলে প্রচুর পরিমাণ সাইবার অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। লেনদেন ও ব্যাংক একাউন্ট সংক্রান্ত তথ্যাবলি সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

অসত্য তথ্য শেয়ার করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা উচিত। মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। গুজব অথবা রাষ্ট্র সম্পর্কিত এমন কোনও তথ্য যার সত্যতা সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত নন, এমন তথ্য শেয়ার করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

পাসওয়ার্ড সেট করার ব্যাপারে সচেতনতা

আপনি যখন কোনো ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলবেন তখন আপনাকে সাধারণত একটি পাসওয়ার্ড তৈরি করতে বলা হয়। একটি ব্যাংক একাউন্ট, একটি গ্রুপ, একটি সংবাদ সাইট, অথবা একটি সামাজিক মিডিয়া নেটওয়ার্ক-এ অনলাইন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় পাসওয়ার্ড আপনার তথ্য সুরক্ষিত করার একটি উপায়। যদি আপনি এই কথাটির সাথে পরিচিত না হন, তবে – পাসওয়ার্ড হল এমন কিছু যা আপনি তৈরি করেন কয়েকটি বর্ণ, সংখ্যা বা চিহ্ন মিশ্রিত করে। আপনার অ্যাকাউন্টের জন্য একটি পাসওয়ার্ড অনন্য এবং এটি অন্যলোকদের আপনার অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার থেকে রোধ করতে সাহায্য করে। উদ্দেশ্যটি হল আপনার পাসওয়ার্ডটি অন্য কারোর পক্ষে অনুমান করা কঠিন করা। কিন্তু সবাই এটা কঠিন করে তোলে না। আসলে, কিছু খুব সহজ পাসওয়ার্ড মানুষ ব্যবহার করে। পাসওয়ার্ড সেট করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে পাসওয়ার্ড সেট করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।

খুব বেশি ব্যবহৃত অর্থাৎ সহজে অনুমান করা যায় এমন পাসওয়ার্ড সেট করা থেকে বিরত থাকা।

পাসওয়ার্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্ণ এবং সংখ্যার মিশ্রণ, ছোট এবং বড় বর্ণের মিশ্রণ, বিভিন্ন ক্যারেক্টারের ব্যবহার ইত্যাদি কৌশল অবলম্বন করতে হবে।

খুব বেশি ছোট পাসওয়ার্ড সেট করা থেকে বিরত থাকা।

আপনি আপনার পাসওয়ার্ডটি আরও শক্তিশালী করতে প্রতীক/চিহ্ন অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

এবং এটা এমন কিছু হওয়া উচিত যা শুধু আপনি জানেন, অথবা আপনি মনে রাখতে পারেন।

প্রাইভেসি

কোনও সোশ্যাল সাইটে আপনার শেয়ার করা তথ্যগুলোকে বা কারা দেখতে পারছে এই বিষয়ে অবগত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাইভেসি সেটিংস সম্পর্কে অবগত না থাকার কারণে তথ্য চুরির ঘটনা সবথেকে বেশি ঘটতে থাকে। তাই নিজের আইডির প্রাইভেসি সেটিংস সম্পর্কে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। এইক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা দরকারঃ

প্রাইভেসি সেটিংস পাবলিক না রাখা।

টুফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সম্পর্কে জানা এবং তা প্রয়োগ করে প্রাইভেসি জোরদার করা। ট্যু ফ্যাক্টর যাচাই- করণ একটি সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য যা আপনার Facebook অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে আপনার পাসওয়ার্ড ছাড়াও। যদি আপনি ট্যু ফ্যাক্টর যাচাইকরণ সেটআপ করেন, আপনাকে একটি বিশেষ লগইন কোড প্রদান করতে বলা হবে যা প্রতিবার আপনার লগইন প্রচেষ্টা করার সময় নিশ্চিত করতে হবে যখনই কেউ আমাদের অচেনা একটি কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইস থেকে আপনার Facebook অ্যাকাউন্ট এক্সেস করার চেষ্টা করে।

নিজের বাণিজ্যের অ্যাকাউন্টের ব্যক্তিগত তথ্যাদি গোপন রাখা এবং সুরক্ষার ব্যবস্থা করা। আপনার কোন তথ্যটি কে বা কারা অ্যাক্সেস করতে পারছে অর্থাৎ কে বা কারা দেখতে এবং ব্যবহার করতে পারছে সেই বিষয়ে অবগত থাকা এবং তা নিয়ন্ত্রণ করা।

প্রাইভেসি চেক আপ

পোস্টের জন্য ডিফল্ট শ্রোতা বা অডিয়েন্স নির্ধারণ করা।

আপনার প্রোফাইলে শেয়ারকৃত তথ্যের অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ করা।

আপনি যে অ্যাপগুলোর সাথে আপনার ডেটা শেয়ার করেছেন সে বিষয়ে সচেতন তা অবলম্বন করা।

ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষিত রাখার সুফল কি?

আপনি ডিজিটাল পরিচয়কে সুরক্ষিত রাখলে আপনি একদিকে যেমন নিরাপদ ভার্চুয়াল আইডেন্টিটি বা পরিচয় উপভোগ করবেন, পাশাপাশি আপনি সাইবার অপরাধরোধেও ভূমিকা রাখবেন।

আপনার ভার্চুয়াল আইডিগুলো হ্যাকার তথা তথ্য চুরির মতো বিপদ থেকে নিরাপদ থাকবে এবং আপনি একটি উচ্ছ্বাসপূর্ণ ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

আপনার শেয়ারকৃত তথ্যগুলো কে বা কারা এক্সেস করতে পারছে সে বিষয়ে আপনি অবগত থাকতে পারবেন।

যদি আপনি আপনার ডিজিটাল স্বরূপে প্রতি যত্নবান হন এবং আপনি অনলাইনে যা সৃষ্টি ও ভাগ করেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকেন, তাহলে আপনি ডিজিটাল জগৎ এর সর্বাধিক সুবিধা অর্জন করতে পারবেন।

ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষায় ডিজিটাল লিটারেসির ভূমিকা কি?

বর্তমান প্রযুক্তির উন্নয়নের যুগে ডিজিটাল পরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই বিষয়ে সুষ্ঠু ধারণা রাখা এবং নিজের ডিজিটাল পরিচয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সচেতন তার কোনও বিকল্প নেই। আর সেই লক্ষ্যে ডিজিটাল লিটারেসি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেটের ব্যবহার এবং ডিজিটাল মিডিয়া সম্পর্কে সকল স্তরের মানুষকে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়াই ডিজিটাল লিটারেসির মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশে ডিজিটাল সাক্ষরতার হারকে দ্রুত তরান্বিত করার উদ্দেশ্যে এটুআই (ধ২র) এবং ফেসবুকের মিলিত উদ্যোগে ডিজিটাল লিটারেসি বৃদ্ধির লক্ষ্যে করা উদ্যোগটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের প্রায় ৭০% মানুষই ডিজিটাল শিক্ষা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না রাখায় তাদের মধ্যে ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষিত নয়। এই সমস্যা সমাধানে এটুআই এবং ফেসবুকের সম্মিলিত এই উদ্যোগটি অত্যন্ত কার্যকরী।

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে গেলে করণীয়

ধাপ ১ঃ আপনার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে কি না তা নিশ্চিতকরণ

সুরক্ষা এবং হ্যাকিং এর বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি কোনওভাবে আপনার ফেসবুক একাউন্টটি হ্যাকিং এর শিকার হয়, সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় নিয়ে নিম্নে আলোচনা করা হল। আপনাকে হ্যাক করা হয়েছে কি না তা নির্ধারণের জন্য, আপনি ফেসবুক সহায়তা কেন্দ্র পৃষ্ঠাটি দেখতে পারেন। নিচে স্ক্রল করুন এবং যতক্ষণ আপনি লগইন করা আছেন, ততক্ষণ আপনি পৃষ্ঠার নিচে একটি নীল বাক্স দেখতে পাবেন।

আপনি যদি এখনও লগইন করতে পারেন তবে Settings > Security and Log In এ যান। আপনি লগইন করেছেন এমন সর্বশেষ ডিভাইসগুলো পদ খুন এবং কোনও অপরিচিত ডিভাইস এই লিস্টে আছে কি না তা পরীক্ষা করুন। আপনি লগ-ইনগুলি থেকে (আপনি) কোনটি ছিলেন তা দেখতে আপনি তারিখগুলো ক্রস-চেক করতে পারেন।

আপনি লগইন করতে না পারলে এর অর্থ হ্যাকার আপনার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করেছে যা সম্ভাব্য দূষিত অভিপ্রায় দেখায়। ফেসবুকের ট্রাস্টেড কন্টাক্টের সাথে কথা বলুন। তাদের অ্যাকাউন্টে লগইন করতে এবং আপনার প্রোফাইল ওপেন করতে বলুন।

নিচের বিষয়গুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন।

আপনার নাম, প্রোফাইল ছবি বা ইমেইল কি পরিবর্তন হয়েছে?

আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ডদের কি আনফ্রেন্ড বা ব্লক করা হয়েছে এবং আপনি কি জানেন না এমন নতুন ফ্রেন্ড এড করা হয়েছে?

এমন কোনও নতুন পোস্ট রয়েছে যা আপনি রাখেননি?

আপনার বন্ধুরা কি এমন কোনও টেক্সট পেয়েছে যা আপনি পাঠাননি?

হ্যাকার কি আপনার সাথে যোগাযোগ করেছে?

ধাপ ২ঃ আপনি লগইন করতে না পারলে, এটি ফেসবুকে রিপোর্ট করুন

যদি আপনি কোনওভাবে ফেসবুকে লগইন করতে না পারেন, তাহলে ফেসবুকে আপনার আইডি হ্যাক হওয়ার জন্য রিপোর্ট করুন। ফেসবুকের একটি সুবিধাজনক ইউআরএল রয়েছে (https://www.facebook.com/hacked) যেখানে আপনি তাদের জানাতে পারেন যে আপনার অ্যাকাউন্টে কোনও সমস্যা হয়েছে। অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আপনি যে ফোন নম্বর বা ইমেইলটি ব্যবহার করেছেন তা টাইপ করতে আপনাকে অনুরোধ করা হবে।

এই বিবরণগুলো ব্যবহার করে, ফেসবুক আপনাকে আপনার অ্যাকাউন্টে অ্যাক্সেস ফিরে পেতে সহায়তা করবে। ফেসবুক এছাড়াও জিজ্ঞাসা করবে যে আপনি কীভাবে আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল বলে মনে করেন। অন্তর্ভুক্ত বিকল্পগুলো হল:

আপনার টাইমলাইনে পোস্ট / বার্তা যা আপনি লিখেননি।

আপনার ব্যক্তিগত সামগ্রীটি সর্বজনীন করা হয়েছে।

আপনি নিজের নাম এবং ফটোগুলোর সাথে একটি সদৃশ অ্যাকাউন্ট পেয়েছেন।

আপনার উত্তরের ভিত্তিতে, ফেসবুক সুরক্ষা ব্যবস্থার পরামর্শ দেয়।

ধাপ ৩ঃ আপনার সমস্ত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন

আপনার ফেসবুকের পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করুন। ফেসবুক ছাড়াও অন্যান্য অন্য সাইটে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকলে সেগুলোও বদলে ফেলুন। পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করার সময় কঠিন এবং অনন্য পাসওয়ার্ড দেওয়ার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড ম্যানেজারএ পলিকেশন ব্যবহার করুন।

ধাপ ৪ঃ আপনার অনুমতিগুলো ডাবল-চেক করুন

এটি উভয়ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য – আপনার সম্মতি ব্যতীত আপনার পাসওয়ার্ডগুলি পরিবর্তন হয়েছিল কি না। আপনার অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে যান এবং আপনার অ্যাকাউন্টে কার অ্যাক্সেস রয়েছে তা পর্যালোচনা করুন। যদি এমন অ্যাপস থাকে যা আপনি স্বীকৃতি দেন নি বা আর ব্যবহার করেন না তবে তাদের অ্যাক্সেস প্রত্যাহার করুন। আপনি এই লোকেশনে সেটিংসটি পেয়ে যাবেনঃ Settings > Apps and Websites

ধাপ ৫ঃ আপনার লগইন অ্যাক্সেসেস শক্ত করুন

ফেসবুক এখন টুফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বাদ্বি-ফ্যাক্টর প্রমাণীকরণ সুবিধা চালু করেছে।

যখন কেউ লগইন করে, আপনার মোবাইল ফোনে একটি কোড পাঠানো হবে, এটি আপনিই যাচাই করবেন। এটি কেবল তখনই কাজ করে যদি হ্যাকারের কাছে আপনার স্মার্টফোন না থাকে। ফেসবুকের একটি প্রাক-নির্বাচিত ফেসবুক বন্ধু আপনার পক্ষ থেকে প্রমাণীকরণ কোড পাওয়ার জন্য একটি বিকল্প রয়েছে। যখন কেউ লগইন করে, আপনার মোবাইল ফোনে একটি কোড পাঠানো হবে, এটি আপনিই যাচাই করে। এটি কেবল তখনই কাজ করে যদি হ্যাকারের কাছে আপনার স্মার্টফোন না থাকে। ফেসবুকের একটি প্রাক-নির্বাচিত ফেসবুক বন্ধু আপনার পক্ষ থেকে অথেনটিকেশন কোড বা প্রমাণীকরণ কোড পাওয়ার জন্য একটি বিকল্প রয়েছে।

টুফ্যাক্টোর অথেনটিকেশন চালু করতে এই লোকেশনে যানঃ

Setting > Security and Log In

আপনি সুরক্ষা চেক-আপও চালাতে পারেন। এটি আপনাকে সমস্ত ব্রাউজার থেকে লগআউট করে দেবে। কেউ যদি ফোন বা কম্পিউটার থেকে লগইন করে ফেসবুক স্বীকৃতি না দেয় তবে এটি আপনাকে অবহিত করবে।

ধাপ ৬ঃ আপনার ফেসবুক বন্ধুদের জানান

আপনার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল তা আপনার বন্ধুদের এবং অনুগামীদের জানানো উচিত। হ্যাকার আপনার ফেসবুক বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করে থাকতে পারে। তারা আপনার আইডি থেকে পোস্ট দিয়ে  থাকতে পারে এবং কারও কাছে ব্যক্তিগত বিবরণ, পাসওয়ার্ড, এমনকি নগদও চেয়ে থাকতে পারে।

ধাপ ৭ঃ আপনার প্রাইভেসি সেটিংস পুনরায় নির্ধারণ করুন

আপনি সেট করার পরে আপনি সম্ভবত এটি করেননি। আপনি যদি কখনও এই অনুশীলন না করেন তবে এটি স্ক্র্যাচ থেকে করুন। আপনি যদি গোপনীয় তা সেটিংসের সাথে পরিচিত হন তবে ডাবল-চেক করুন।

সাইবার অপরাধ সম্পর্কে অভিযোগ করার প্রক্রিয়া

অনলাইন সহিংসতা, সাইবার বুলিং এবং ডিজিটাল হয়রানির বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীদের প্রতি লক্ষ্য করে বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশ কীভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানির খবর জানাতে পারে সে সম্পর্কে একটি লিফলেট জারি করেছে।

লিফলেটটিতে পুলিশ সদর দফতর (পিএইচকিউ) বলেছে যে একটি হটলাইন নম্বর (+৮৮০১৭৩০৩৩৬৪৩১) স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের টাইমলাইনে, ব্যক্তিগত বার্তায় ইনবক্সে বা মন্তব্যগুলোতে প্রাপ্ত অশ্লীল বা আপত্তিজনক পোস্ট বা ছবিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহায়তা পেতে পারেন। পিএইচকিউ ভুক্তভোগীদের অশ্লীল বা অবমাননাকর  পোস্ট বা মন্তব্যের স্ক্রিনশট নিতে এবং সংশ্লিষ্ট পোস্টে এবং গালাগালীর প্রোফাইলের লিঙ্কগুলো সংগ্রহ এবং তাদের নিকটস্থ থানায় রিপোর্ট করার পরামর্শ দেয়।

অভিযোগ দায়ের করার জন্য কোনও থানায় শারীরিক পরিদর্শন করা ছাড়াও, ক্ষতিগ্রস্তরা প্রমাণ এবং লিঙ্কগুলো একটি ইমেল ঠিকানার – smmcpc2018@gmail.com – বা “সাইবার পুলিশ সেন্টার, সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ” এর অফিসিয়াল ফেসবুক পৃষ্ঠায় ফরোয়ার্ড করতে পারেন।

ফেসবুক ইমেইলঃ support@fb.com

রিপোর্ট লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/hacked

References

(https://nycdatascience.com/blog/student-works/web-scraping-hackmageddon)

(https://www.google.com.bd/url?sa=i&url=https%3A%2F%2Fmedium.com%2Fdigitalhks%2Fbangladeshs-a2i-program-864e29eedc10&psig=AOvVaw2Z-RTWlE6mNC3PMC2qR4qH&ust=1617036294837000&source=images&cd=vfe&ved=0CA0QjhxqFwoTCJCeieK30-8CFQAAAAAdAAAAABAD)

(https://www.comparitech.com/vpn/cybersecurity-cyber-crime-statistics-facts-trends)

  লেখক : ন্যাশনাল কনসালটেন্ট, এটুআই, আইসিটি ডিভিশন

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *