ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

ডিটেকটিভ রিপোর্ট

চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬ মার্চ হেফাজতের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ সদস্যদেরকে দেখতে ৩১ মার্চ দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)।

তিনি কিছু সময় তাদের শয্যাপাশে অবস্থান করে চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের সাথেও কথা বলেন তিনি। ঢাকা সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্যরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর মডেল থানার ২নং শহর পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোঃ নুরুল আলম এবং চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার এসআই মোঃ মেহেদী হাসান।গুরুতর আহত সহকারী পুলিশ সুপার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধনীন রয়েছেন।

পরে আইজিপি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে হেফাজতকর্মীরা সারা বাংলাদেশে তাণ্ডব চালায়।প্রথমে বায়তুল মোকাররম মসজিদ, পরে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে কোমলমতি ছাত্রদেরকে ব্যবহার করা হয়।হাজার হাজার ছাত্র হাটহাজারী থানা আক্রমন করে।ওখানকার ডাকবাংলোয় আক্রমন করে। হেফাজতকর্মীরা ভূমি অফিস জ্বালিয়ে দেয়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় ভূমি অফিসের সমস্ত কাগজপত্র, ল্যান্ড রেকর্ড একত্র করে তারা জ্বালিয়ে দেয়। সরকারের রেকর্ডপত্র জ্বালিয়ে দেয়ার মানে হচ্ছে সেই অঞ্চলের হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ বছরের পর বছর এ সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগবেন।’

তিনি বলেন, একজন শিক্ষানবিশ এএসপি যিনি হাটহাজারী থানায় প্রশিক্ষণরত ছিলেন।তিনি ডাকবাংলোতে অবস্থান করতেন। তাকে ধরে নিয়ে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। একইভাবে ডিইউটিরত একজন কনস্টেবলকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ডাকবাংলোর সামনে দায়িত্ব পালনরত একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে গুরুতর আহত করা হয়। আইজিপি বলেন, এএসপি এবং সাব-ইন্সপেক্টরকে প্রথমে চট্টগ্রাম সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।পরে সাব-ইন্সপেক্টরের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় সিএমএইচ-এ উন্নত চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে।

আইজিপি বলেন, পরদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালায় তারা। তাদের আক্রমনে গুরুতর আহত হন ইন্সপেক্টর নুরুল আলম।তাকে এয়ার এম্বুলেন্সে করে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয়।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, এ ধরনের বর্বরোচিত আক্রমনের মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

মাস্ক পরার অভ্যেস করোনামুক্ত বাংলাদেশঃ আইজিপির নির্দেশনা

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে প্রতিপালনের জন্য পুলিশের সকল ইউনিট প্রধানকে নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)।

আইজিপি ১৩ এপ্রিল বিকালে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিস্তাররোধ এবং পবিত্র রমজান উপলক্ষে সকল পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও থানার অফিসার ইনচার্জগণকে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ নির্দেশনা প্রদান করেন। আইজিপি বলেন, সরকারি বিধি-নিষেধ চলাকালে বিনা প্রয়োজনে মাস্ক ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যাবেন না। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে পুলিশের মুভমেন্ট পাস নিয়ে চলাচল করবেন।জরুরি কাজে ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

ধৈর্য ধরে বুদ্ধিমত্তার সাথে সরকারি বিধি-নিষেধ প্রতিপালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আইজিপি।তিনি বলেন, খাদ্যপণ্য, ঔষধ, উৎপাদন  সামগ্রী ও অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রমণ, লকডাউন, রমজান উপলক্ষে ধর্মীয় অনুভ‚তিতে আঘাত করে এমন গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোড করে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট না করতে পারে তা নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি।

বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে

কৃষিশ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকরা এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত করতে পারবেন বলে সভায় জানান আইজিপি ।

আইজিপি কঠোরভাবে বলেন, রমজানে মহাসড়কে কোন ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না।

তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে জুমা ও ওয়াক্তের নামাজের সময় মসজিদের ভিতরে বা বাইরে কোন জমায়েত এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা যাবে না। রমজান উপলক্ষে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনসমূহের ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম প্রতিহত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে। রমজান উপলক্ষে যাকাত, ফিতরা, খাদ্য সামগ্রী ইত্যাদি বিতরণের ক্ষেত্রে জনসমাগম পরিহার নিশ্চিত করতে হবে।

আইজিপি বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অনেক মানুষ ঢাকা ও অন্যান্য শহর ছেড়ে গ্রামে বাড়ি যেতে পারেন, সে সময় তাদের বাসা বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।এ সময় রেল স্টেশন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়তে পারে।জনশৃঙ্খলা রক্ষায় এসব স্থানে পুলিশি টহল বাড়াতে হবে।

রমজানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন আইজিপি।রমজানে রাতের বেলায় উচ্চ শব্দে হর্ণ বাজানো এবং দ্রæতগতিতে চলাচলকারী গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন আইজিপি।

আইজিপি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে।তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ইউনিট প্রধানদের নির্দেশ দেন।

ডিটেকটিভ রিপোর্ট

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *