ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম

তথ্যপ্রযুক্তি আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার এই যুগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে তথ্য। আর এই তথ্য বা Information সংগ্রহ করতে হ্যাকারদের পাশাপাশি অনেক বড় বড় Organizationও মাঠে নেমে পড়েছে। বর্তমান সময়ে আমাদের অধিকাংশ তথ্যই Smart Phone- এ সংরক্ষিত থাকে। নিজের Personal ছবি বা Video, E-mail, Social media, Call records, Banking records সব কিছুই এখন আমাদের Smart Phone- এ থাকে। আর এই তথ্য বা Information এর জন্য হ্যাকারদের প্রথম পছন্দই হচ্ছে স্মার্টফোন। তাই কারও Smart Phone হ্যাক হয়েছে কি-না তা জানার উপায় এবং Smart Phone যাতে হ্যাক না হয়, তার জন্য কি কি করণীয় তা এখন আলোচনা করব।

কারও ফোন হ্যাক হয়েছে কি-না তা বুঝার জন্য নিম্নের ০৫ টি বিষয় লক্ষ্য করুন-

১।  যদি ইদানীং আপনার ফোনের ব্যাটারি বেশি Back-up না দেয়, তখন আপনার মনে হতে পারে আপনার ফোনের ব্যাটারি বেশি পুরাতন হয়ে গেছে। কিন্তু বিষয়টি এমনও হতে পারে আপনার অজান্তেই কোনো App আপনার ফোনের Back ground-এ Run করে এবং আপনার ফোনের তথ্যগুলো কোনো Website কিংবা কোন হ্যাকারের কাছে পাঠিয়ে দেয়। আর এটার জন্যই আজকাল আপনার ফোনের ব্যাটারি বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে যদিও আপনি ফোনটি কম ব্যবহার করছেন। এখন আসলেই কি আপনার ফোনের ব্যাটারি Weak হয়ে গিয়েছে, না-কি আপনার ফোনটি হ্যাকড হয়ে গিয়েছে সেটা Confirm হওয়া উচিত। সুতরাং এক্ষেত্রে অবহেলা না করে মোবাইলটিকে একজন দক্ষ Technician এর কাছে নিয়ে যান এবং চেক করিয়ে নিন আপনার ফোনের ব্যাটারিতে কোনো সমস্যা আছে কি-না?  

২।  আপনার ফোনটি কি মাঝে মাঝে Auto restart হয়? কিংবা কোন কোন App কি Automatic অন হয়ে যায়?  যদি এমনটা ঘড়ঃরপব করে থাকেন তাহলে সাবধান হয়ে যাওয়া উচিত।

৩। আপনার ফোনটি কি ইদানীং খুব বেশি গরম হয়ে যাচ্ছে? কারও ফোন খুব বেশিক্ষণ ব্যবহার করলে গরম হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যাপারটি যদি এমন হয় আপনি খুব বেশি ফোনটি ব্যবহার করছেন না, কিংবা একেবারেই ফোনটি ব্যবহার করছেন না কিংবা ফোনটি হয়ত রেখে দিয়েছেন, তখনও দেখছেন ফোনটি গরম হয়ে যাচ্ছে, তখন হতে পারে ফোনটি হ্যাকড হয়ে গিয়েছে। আপনি ব্যবহার করেন আর না করেন হ্যাকার কিন্তু ঠিকই ফোনটি ব্যবহার করছে। আর Remotely হ্যাকার যখন ফোনটি ব্যবহার করছে তখন ফোন গরম হয়ে যাবে। সুতরাং ফোন হ্যাকড হয়ে গেলে এটাও একটা Sign যে, বিনা কারণে ফোন গরম হয়ে যায়।

৪।  আপনার ফোনটি কি আজকাল আপনার করা Settings অনুযায়ী চলছে না? অর্থাৎ নিজে নিজেই Volume Level Up কিংবা Down করে ফেলছে, Brightness Level বাড়িয়ে কিংবা কমিয়ে ফেলছে অথবা আরও এরকমের অদ্ভুত Activities show করছে। আপনি হয়ত এটাকে ফোনের Technical Fault  ভেবে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। কিন্তু উল্লিখিত ব্যাপারগুলোও Hacked হওয়া ফোনের একটা লক্ষণ। এক্ষেত্রে আসলেই ফোনটির কোনো Technical Fault আছে কি-না, তা একজন সুদক্ষ Technician কে দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভাল।

৫। আপনার ফোনের Voice Quality বা ফোন করার সময় আপনি যে Voice শুনতে পান সেটা কি হঠাৎ করেই খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ আপনি যখন কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন, তখন আগের চেয়ে একটু Low শুনছেন কিংবা Echo শুনছেন বা কোনো রকমের Noise পাচ্ছেন। এমনটি ঘটলে আপনি মনে করবেন না যে, আপনার ফোনের মাইক্রোফোন কিংবা Airphone কিংবা আপনার এলাকার Network-G Problem. ব্যাপারটি এমনও হতে পারে আপনার ফোনটি Already Tracked. কেউ গোপনে দূর থেকে আপনার সব কথাবার্তা শুনে ফেলে। অর্থাৎ, কোনো একজন Hacker আপনি কখন কার সাথে কি কথা বলছেন তা দূর থেকে শুনে নেয়।

এসব ব্যাপারগুলিকে ছোটখাট ব্যাপার বলে অবহেলা করবেন না। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, আপনার ফোনে যদি Unknown  নাম্বার থেকে খুব বেশি Call আসে কিংবা দেশের বাইরের নাম্বার থেকে Sms আসে, তাহলে সেটাও চিন্তার বিষয়। এসব ব্যাপারগুলি সব সময়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

প্রতিকারঃ আপনার Smart Phoneকে হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করার উপায় নিম্নে আলোচনা করা হল-

১।  Public Wi-Fi বা Free Wi-Fi ব্যবহার করা থেকে বিরত  থাকবেন। নিজের ঘরের দরজা খুলে রেখে চোরকে চুরি করার সুযোগ দেওয়া আর Public Wi-Fi কিংবা Free Wi-Fi ব্যবহার করা অনেকটা একই জিনিস। কারণ আপনি যখন একটা Insecured Network-এর Wi-Fi ব্যবহার করছেন তখন একজন হ্যাকার খুব সহজেই আপনার ফোনের Control নিয়ে নিতে পারে। যদি কখনও নিতান্ত প্রয়োজনে Free Wi-Fi বা Public Wi-Fi ব্যবহার করতে হয়, তাহলে খুব অল্প সময়ের জন্য কাজটি করবেন।

২।  কখনও কোনো অজানা Link-এ ক্লিক করবেন না। অনেক সময় দেখা যায় Messenger, Sms কিংবা E-mail-এ অজানা কিছু লিংক থাকে। যেখানে বলা হয় আপনি বিপুল পরিমাণ অর্থ Win করেছেন কিংবা কোনো সুন্দরী মেয়ে আপনাকে তার Social Media Profile-এ কিছু লিংক দিচ্ছে। এগুলো হচ্ছে Hacker দের সবচেয়ে Common এবং সহজ Trap. সুতরাং এই Trap এ কখনও পা দিবেন না এবং কখনও কোনো অজানা Link-  না জেনে না বুঝে Click করবেন না। কারণ আপনার ফোনের পুরো Control নিয়ে নেওয়ার জন্য ঐ একটা Click-ই যথেষ্ট।

৩। Browser বা Application এ Auto Login বা Auto Password Save- এই অপশনটি দিবেন না। আমরা বেশির ভাগ মানুষ সময় বাঁচানোর জন্য এই অপশনটি On করে রাখি। কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখেন আপনার ফোনটি যদি Hacked হয়ে যায় তাহলে হ্যাকার খুব সহজেই আপনার যাবতীয় Information-এ Access করতে পারবে। আপনার Social Media, আপনার Banking Information, আপনার E-mail সবকিছুতেই Hacker নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিবে মুহূর্তেই।

৪।  Google Play Store- এর বাইরে থেকে কোনো রকমের কোনো App Download বা Install না করা। আর কখনও যদি এরকম হয় Google Play Store- এ App নেই, Appটি Third party কোনো site থেকে নামাতে হচ্ছে, সেক্ষেত্রে আপনাকে Trusted site থেকে App নামাতে হবে। এর কারণ হচ্ছে Unknown site এ যে Appগুলো থাকে সেই Appগুলোর সাথে কিছু spying Option-ও Add করে দেওয়া যায়। যেগুলির কাজই হচ্ছে আপনার ফোনের বিভিন্ন Information বা তথ্য Collect করে বিভিন্ন Website বা Hacker-দের কাছে পাঠিয়ে দেয়া। আর App Install করার সময় একটি জিনিস অবশ্যই খেয়াল রাখবেন কি ধরনের App Install করছেন এবং সে আপনার কাছে কিসের Permission চাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি এধসব Game Download করার সময় যদি সে আপনার কাছে Permission চাচ্ছে Camera-এর অথবা আপনার ফোনের Contracts- এর অথবা আপনার ফোনের E-mail এর। প্রকৃতপক্ষে, একটা Game Download করার জন্য কোন Camera-এর অথবা কোন Contracts-এর অথবা কোন E-mail-এর Access- এর প্রয়োজন হয় না। সুতরাং কি ধরনের Apps এ কি ধরনের Permission দরকার তা বুঝে শুনে দেওয়া উচিত।  

৫। অনেকেই আছেন যারা ০২-০৩টি Browser ব্যবহার করেন। যেমন- Google Chrome, UC Browser, Firefox ইত্যাদি। যে কোনো Browser ফোনের অনেক বেশি RAM ইউজ করে, আবার কিছু Browser আপনার ফোনের তথ্য চুরি করে। আর এমন একটি Browser হল UC Browser যে কিনা আপনার ফোনের Browsing History, Location History ফোনের IMEI- নাম্বার-এই টাইপের তথ্য Third Party-এর কাছে পাচার করে দেয়। এজন্য ০২-০৩টি Browser ফোনে না রেখে যে কোনো একটি Trusted Browser ব্যবহার করাই শ্রেয়। Google Chrome এক্ষেত্রে সর্বাধিক নিরাপদ, কারণ Google Chrome যেহেতু Android-এর সাথে link, সুতরাং এটা ব্যবহার করা Safe।

এভাবে সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে আমরা আমাদের Android Phone-কে নিরাপদ ও হ্যাকারমুক্ত রাখতে পারব।

  লেখক : উপ-পুলিশ কমিশনার

  ডিবি-সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ   ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *