ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

মোহাম্মদ মাকছুদ উল্লাহ

বাংলাদেশ পুলিশ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে অদ্যাবধি সকল সঙ্কটে দেশ ও জনগণের কল্যাণে অত্যন্ত সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালন, সব ক্ষেত্রেই রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্বল ইতিহাস। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য নিহত হন। স্বাধীনতা পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলায়, বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কত শত পুলিশ সদস্য জীবন হারিয়েছেন তার কোন সঠিক হিসাব আমাদের জানা নাই। চলমান করোনা যুদ্ধে সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হয়ে, দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা ও শান্তি রক্ষায় দীপ্ত শপথ গ্রহণকারী অকূতভয় পুলিশ সদস্যবৃন্দ আক্রান্ত ও নিহত হচ্ছেন সর্বাধিক হারে। মুক্তিযুদ্ধে পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে, সন্ত্রাসি ও জঙ্গি হামলার শিকার হয়ে, রাজনৈতিক সহিংসতার বলি হয়ে এবং দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দুর্যোগে বা অপঘাতে যে সকল পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন তারা সকলেই ইসলামী বিধান মতে শহীদ।

দুর্যোগ ও সঙ্কট মোকাবেলায়

বাংলাদেশ পুলিশ

যুদ্ধ ও সশস্ত্র অভিযান ছাড়াও দেশ ও জাতির কল্যানে বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত সাহসিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছে এবং অকাতরে আত্মোৎসর্গ করছে। সাম্প্রতি বাংলাদেশে ব্যাপক জানমালের ক্ষতি সাধনকরী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। সব সময়ই বাংলাদেশ পুলিশ দেশ ও জনগণের জান-মাল রক্ষায় সর্বোচ্চ অবদান রেখে আসছে।

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় এবং পরবর্তী সময়ে পুর্নবাসন, উপদ্রুত রোগ ও মহামারি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ জীবন বাজি রেখে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ আসছে এবং অনেক পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে কাজ করতে গিয়ে ৩০ বছরে বাংলাদেশ পুলিশের ২২জন সদস্য জীবন দিয়েছেন। সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রদুর্ভাবে সৃষ্ট, চলমান বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশ সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ। নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, আক্রান্তদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করা, করোনায় মৃতদের কাছে যখন বাবা-ছেলে-ভাই ও কোন স্বজন ঘেসছে না তখন পুলিশই তার গোসল করানো, কাফন পরানো, জানাজা পড়ানো ও দাফন করার দায়িত্ব পালন করছে। নিজেদের বেতন, রেশন ও বোনাসের টাকায় কর্মহীন মানুষের ঘরে ঘরে খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছে। করোনা মোকাবেল করতে গিয়ে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যক (৩০-৫-২০২০ পর্যন্ত ৪৮২৬ জন) পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুর তালিকাতেও পুলিশের নাম সর্বাধিক (১৫ জন)। করোনাভাইরাসসহ যে কোন মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিদমন এবং দেশমাতৃকার স্বাধীনতা রক্ষায় যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল পুলিশ সদস্য ইসলামি বিধান মতে শহীদ।

শহীদ কাকে বলে? শহীদ একটি আরবী শব্দ এবং একবচন, এর বহুবচন শুহাদায়ু। শব্দটির আভিধানিক অর্থ-প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষী। যেহেতু শহীদ কিয়ামতের দিন তার শরীরের ক্ষত, প্রবাহমান রক্ত ও রক্তাক্ত কাপড় নিয়ে উঠবে এবং সে নিজেই নিজের পক্ষে সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবে, তাই শহীদকে শহীদ বলা হয়।

ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় শহীদঃ শহীদ ওই ব্যক্তিকে বলা হয় যাকে মুশরিকগণ হত্যা করেছে অথবা যাকে মৃত অবস্থায় যুদ্ধের ময়দানে পাওয়া গেছে এবং তার শরীরে হত্যার নিদর্শণ রয়েছে অথবা যাকে কোনো মুসলমান অন্যায়ভাবে-জুলুম করে হত্যা করেছে এবং তাকে হত্যার কারণে কোনো দিয়্যাত (রক্তপন) ওয়াজিব হয় নাই। (আল-হেদায়া, ১ম খ-, পৃষ্ঠা: ১৬৩) ইসলামি ফিকহের আরও একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ কাঞ্জুদ্দাকায়িক এর ১ম খন্ডের ২০১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে “শহীদ ওই ব্যক্তিকে বলা হয় যাকে অমুসলিম সৈন্যগণ অথবা কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠি বা ডাকাতের দল হত্যা করেছে অথবা যাকে মৃত অবস্থায় যুদ্ধের ময়দানে পাওয়া গেছে এবং তার শরীরে হত্যার নিদর্শণ রয়েছে অথবা যাকে কোনো মুসলমান অন্যায়ভাবে-জুলুম করে হত্যা করেছে এবং তাকে হত্যার কারণে কোনো দিয়্যাত (রক্তপন) ওয়াজিব হয় নাই।”

উপরে শহীদের যে সংজ্ঞা বর্ণনা করা হয়েছে সেটা ধর্মযুদ্ধ ও ভিন্নধর্মীদের সাথে সংঘর্সে নিহতদেরকে বিশেষভাবে অন্তর্ভূক্ত করে। যুদ্ধে বা সংঘর্সে প্রাণদান ছাড়াও কিছু মৃতকে রাসুলুল্লাহ (সা.) শহীদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। হজরত জাবের (রা.) একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহামারি থেকে দূরে থাকা, ভয় করা, পালানোর চেষ্টা করা যুদ্ধের ময়দান থেকে পালানোর মতো। অর্থাৎ কবিরা গুনাহ। যে ব্যক্তি মহামারিতে মৃত্যুবরণ করল অথবা ধৈর্যধারণ করল সেও শহীদের সমান নেকী অর্জণ করবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ১৪৮৭৫, মেশকাত, হাদীস: ১৫৯৭) বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, শহীদ পাঁচ প্রকার-১. প্লেগ বা মহামারিতে মৃত্যুবরণকারী ২. পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী ৩. পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী ৪. কোন কুপে পড়ে মৃত্যুবরণকারী এবং ৫. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের ময়দানে শহীদ। (সহীহ আল-বোখারী, হাদীস: ২৮২৯, সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৯১৪) অপর এক হাদীসে হজরত যাবের (রা.) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে শহাদাৎ বরণকারী ছাড়াও শহীদ সাতজন। যথা-১. প্লেগে মৃত্যুবরণকারী ২. পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী ৩. আঘাতে মৃত্যুবরণকারী ৪. পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী ৫. আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারী ৬. কুপে পড়ে মৃত্যুবরণকারী এবং ৭. সন্তান প্রসব যন্ত্রণায় মৃত্যুবরণকারী নারী। (মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস: ৬২৯) হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহামারিতে মুত্যু বরণকানী সকল মুসলমান শহীদ। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৯১৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ১৩৩৩৫)

শহীদের মর্যাদা

মহান আল্লাহর দরবারে শহীদদের জন্য সীমাহীন মর্যাদা রয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, “আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত হয়েছে, তোমরা কখনও তাদেরকে মৃত বলোনা। বরং তারা জীবিত এবং তাদের রবের নিকট তারা রিযিক প্রাপ্ত হয়। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহ হতে তাদেরকে যা দান করেছেন, সে জন্য তারা আনন্দ উষযাপন করে। আর যারা এখনও তাদের কাছে এসে পৌঁছেনি তারা তাদের পেছনে তাদের জন্য আনন্দ প্রকাশ করে। কারণ তাদের না আছে কোনো ভয় আর না আছে কোন ভাবনা।”(সুরা আলে ইমরান: ১৬৯-১৭০) 

হযরত জাবের (রা.) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ওহুদ যুদ্ধের দিন এক লোক নবী করীম (সা.) কে বললো, আমি যদি নিহত হই তাহলে আমি কোথায় থাকবো বলে আপনি মনে করেন? রাসুলুল্লাহ (সা.)  বললেন, জান্নাতে। অতঃপর লোকটা তার হাতে থাকা কয়েকটা খেজুর ফেলে দিয়ে যুদ্ধ শুরু করলো এবং নিহত হলো অর্থাৎ শহীদ হয়ে গেলো। (সহীহ আল-বোখারী, হাদীস: ৩৯০০, মেশকাত, হাদীস: ৩৯৩৭)

কবরে শহীদের বিশেষ সম্মান

যারা আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার জন্য এবং

মাতৃভূমির স্বাধীনা ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শাহাদৎ বরণ করেন, তাদের জন্য কবরে তথা আলামে বারযাখে মহান আল্লাহ বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থা করবেন। যেমন ইরশাদ হয়েছে, “আর যারা আল্লাহর রাস্তায় নিহত (শহীদ) হয় তাদেরকে তোমরা মৃত বলোনা। বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা বুঝতে পারোনা।”(সুরা আল-বাক্বারা: ১৫৪ আয়াত) 

আল্লামা ইবনে কাসীর (রহ.) আলোচ্য আয়াতের তাফসীরে লিখেছেন, সহীহ মুসমিলমে আছে শহীদের আত্মা সবুজ পাখির আকার ধারণ করে জান্নাতে যেখানে ইচ্ছা উড়ে বেড়ায়। অবশেষে তারা আরশের নিচে জ্বলন্ত বাতিসমূহের উপর এসে বসে থাকে। এক সময় আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা কি চাও? তারা জবাব দেয়, হে আমাদের রব! তুমি তো আমাদেরকে এতো কিছু দিয়েছো যা অন্য কোনো সৃষ্টিকে দাওনি। সুতরাং আমরা আর কি চাইবো? আল্লাহ তা’আলা পুনর্বার তাদেরকে একই প্রশ্ন করবেন। যখন তারা দেখবে যে আল্লাহ তা’আলা উত্তর না দিলে ছাড়বেন না তখন তারা বলবে, আমরা চাই আপনি আমাদেরকে আবার পৃথিবীতে পাঠান। তারপর আমরা আবার জিহাদ করে দ্বিতীয়বার শহীদ হই। শাহাদাতের সীমাহীন মর্যাদা দেখে তারা এরূপ আবেদন করবে। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, আমি সুনির্দিষ্টভাবে লিখে রেখেছি যে, কোনো মানুষ একবার পৃথিবী ছেড়ে আসলে, সে আর দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে ফিরে যাবেনা। (তাফসীরে ইবনে কাছীর, খ-: ২য়, পৃষ্ঠা: ৪৪) 

শহীদকে কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না

হযরত ফুজালা ইবনে উবাইদ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক মৃতব্যক্তি মৃত্যু বরণের সাথে সাথে তার সমস্ত আমল বন্ধ করে দেয়া হয়, নতুন কোনো সওয়াব তার জন্য লেখা হয়না। কিন্তু যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদারী করতে গিয়ে মারা যায়, তার (শহীদের) আমলের সওয়াব কিয়ামত পর্যন্ত পৌঁছতে থাকবে। আর তাকে কবরের সওয়াল-জওয়াব এবং আযাব থেকে মুক্তি দেয়া হবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ২৩৯৫১) হযরত সালমান ফারসী (রা.) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, এক দিন-এক রাত আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদারী করা একমাস যাবৎ দিনে রোযা রাখা ও রাতে নামাজ পড়ার চেয়েও উত্তম। আর এ পাহারার কাজে রত অবস্থায় মারা গেলে (শহীদ হলে) সে যে কাজে নিয়োজিত ছিলো কিয়ামত পর্যন্ত সে কাজের সওয়াব পেতে থাকবে। আর সে বেহেশতের খাবার পেতে

থাকবে এবং তাকে কবরের সুওয়াল-জওয়াব ও কবর আযাব থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। (জামে তিরমিযী, হাদীস: ১৬২১) হযরত মেকদাম ইবনে মা’দী কারিব (রা.) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহর দরবারে শহীদের জন্য ছয়টা বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। যথা-১. তার শরীরের রক্তের প্রথম ফোটা পড়ার সাথে সাথে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় এবং মৃত্যুর সাথে সাথে তাকে জান্নাতে তার স্থানটা দেখিয়ে দেওয়া হয় ২. কবরের সওয়াল-জওয়াব ও আযাব থেকে তাঁকে নিরাপদে রাখা হয় ৩. কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে তাকে নিরাপদে রাখা হয় ৪. তার মাথায় ইয়াকুত খচিত মর্যাদার শিরস্ত্রাণ পরিয়ে দেওয়া হয়। যার একটা ইয়াকুতের মূল্য সমগ্র পৃথিবী ও তাতে বিদ্যমান সমস্ত সম্পদের চেয়েও বেশি, ৫. তাকে সত্তরজন জান্নাতি হুরের সাথে বিবাহ করিয়ে দেওয়া হবে, ৬. সত্তরজন নিকটাত্মীয়কে জান্নাতে নেওয়ার ব্যপারে তার সুপারিশ কবুল করা হবে। (সুনানে ইবনে মাযা, হাদীস: ২৭৯৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ১৭২২১)    

লেখক : পেশ ইমাম, রাজশাহী কলেজ

কেন্দ্রীয় মসজিদ, রাজশাহী।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *