ই-পেপার

মাহবুব উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম

গত বছর ডিসেম্বর ২৪/১৯ আমার জীবনের একটা স্বর্ণাক্ষরে লেখা দিন হয়ে রইল। ‘রক্তাভ আখরে পত্র লেখা’ (Red letter day) দিনটা ছিল শীতে ভেজা ঝিরঝির বাতাসে মধ্য বিকেলের কাংখিত শিশিরের আগমনী গন্ধে মাতাল। সাদা টিশার্ট আর শুভ্র ট্রাউজারে আন্দোলিত স্মার্ট এক ঝাঁক পুলিশ অফিসার শ্বেত কপোতের মূর্ছনায় সূচী ভরা আনন্দ ছড়াচ্ছিল স্পোর্টের বিশাল আঙ্গিনা জুড়ে। জমকালো পরিবেশে অনেক রংয়ের দ্বীপ্তি আভা ছড়াচ্ছিল সুশোভিত ময়দানে। মাননীয় ইন্সপেক্টর জেনারেল বাংলাদেশ পুলিশ ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিপিএম (বার), ঢাকা বিভাগীয় ইন্সপেক্টর জেনারেল বাংলাদেশ পুলিশ জনাব হাবিবুর রহমান, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) ও ঢাকা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বিপিএম, পিপিএম-দের বিশাল বিশাল ডিজিটাল ছবি সম্বলিত বিলবোর্ড, মাঠের সার্বিক প্রস্তুতির স্বাক্ষর হিসাবে দাঁড়িয়েছিল। আলোকসজ্জার এন্তার বুনন, লাল গালিচার আভায় উদ্ভাসিত আলোর হাসি আর অভাবনীয় মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কোলাহল ভরা অযুত কলতানে মুখর পুলিশ সদস্যের পদভারে প্রকম্পিত মিল ব্যারাক।

এক সময় বিউগলের ফ্যানফেয়ার বাংলাদেশ পুলিশ মহাপরিদর্শকের শুভাগমনে হেলে পড়া গুচ্ছ গুচ্ছ সূর্য রশ্মিকে আলোড়িত করলো। তুর্যের নিনাদে হাজার অভ্যাগতজনের কানে সুর লহরী জেগে উঠলো। সুন্দর, সুঠাম, উজ্জ্বল আদল। সুপুরুষ ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম (বার)। চলনে, বলনে পটু। চিন্তায়, মননে ইনোভেটিভ। প্রশাসনিক দক্ষতার আধার। তাঁর উপস্থিতি ফোর্সের মনে বিশ্বাস আর অভিজ্ঞতার আলো ছড়ায় বলেই মনে হয় আমার কাছে। সব সময় কেতা দুরস্ত পোষাকের অবয়বে আত্মবিশ্বাসী একজন কঠোর মানুষও বটে। আজকের উৎসবের প্রধান অতিথি। আমি বিশেষভাবে আমন্ত্রিত।

সেই কবে ৪৯ বছর আগে একজন পুলিশ অফিসার হিসাবে দেশের ক্রান্তিকালে সময়ের ও দেশের প্রয়োজনে লড়াই করেছিলাম। স্বাধীনতা যুদ্ধে। দীর্ঘ নয় মাসের শ্বেদ মাখানো দেহে জল, কাদা মেখে ভুক্ত, অভুক্ত, মৃত, আহত অনেক মুক্তিবাহিনী সঙ্গীদের সাথে নিয়ে লড়াইটা ছিল স্বাধীনতা প্রাপ্তির নিশ্চিত আশায় বুক বাধা মরন পণ। কয়েক পাইন্ট রক্তও ঝড়েছিলো আমার বুক বিদীর্ণকারী পাক সেনাদের ছোড়া বুলেটের আঘাতে। একদিনের রক্ত ঝড়ানো আর ২৬ দিনের হাসপাতাল বাস, অপারেশন শেষে হাসপাতাল থেকে মুক্তির সাথে হাতে ধরিয়ে দেয়া ডাক্তারী সার্টিফিকেট “গান সট  ইনজুরি”। ফের যুদ্ধের ময়দান।

বেশ ক’টা বড় বড় যুদ্ধে অংশ নেয়ার সুযোগ হয়েছিলো। নিজের অধীনে জড়ো করা মুক্তিবাহিনী সাথে নিয়ে ঘনঘোর লড়াইয়ে অংশ নিতে পেরেছিলাম আমি। ছোটখাট খন্ড যুদ্ধও ভাগ্যে জুটেছে। একদম সহজ গল্পের মতো মনে হয়। কিন্তু ব্যাপারটা অত সহজ ছিলো না। অনেক যোদ্ধা আমার শহীদ হয়েছে। রক্তে লাল হয়েছে কত জমিন। অথচ ১৯৭১-এর ১৭ই এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে লড়াইরত সকল মুক্তিবাহিনীর পক্ষে একটা ছালামী দিয়েছিলাম। ওরা সবাই বলে গার্ড-অব-অনার। ঐতিহাসিক ঘটনার আলোয় আজও সেই আমি পুলিশ বাহিনীর সবার চোখের মনি। আইকন। অরো কত কি! সেই আমাকে এতকাল পরে সম্মানিত করেলো আমার পুলিশ বাহিনী। স্বীকৃতি দিলো। শতাধিক বছরের পুরানো মিল ব্যারাক! কালের পুরানে খচিত একটি নাম। ওর প্রধান তোরণে খচিত হবে আমার নাম। ২৪শে ডিসেম্বর। মধাহ্ন পেরোনো বিকেল ছুঁই ছু্ইঁ সময়ে। ওটার পর্দাউন্মোচন করবেন স্বয়ং আই.জি.পি সাহেব। সাথে থাকবেন ডি.আই.জি হাবিব সাহেব আর ঢাকার এস.পি মারুফ। আমিও আমন্ত্রিত সেই শুভ বিকেলে।

অনেকটা হঠাৎ করেই নিমন্ত্রণটা পেয়েছিলাম। মারুফ সাহেব আগের দিন সকাল দশ/এগারটার দিকে হঠাৎই ফোনে বললো, “স্যার, আগামীকাল আপনার নামে মিল ব্যারাকে তোরণ উদ্বোধন হবে। অনুগ্রহ করে দুপুর আড়াইটায় চলে আসবেন”। জনাব হাবিবুর রহমানও অনুরোধ করলেন। বললেন, “স্যার, সময় নিয়ে আসবেন, ঢাকা জেলা পুলিশের বার্ষিক স্পোর্টস উপভোগ করবেন। আই.জি স্যার উদ্বোধন করবেন। ভালো লাগবে”।

অনেকটা অগোছালো ভাবেই গেলাম স্বস্ত্রীক। সাথে বড় ভাই সাহাবুদ্দিন আহমেদ, মেজ ভাই ড. হারুন অর রশীদ, পুত্র আর্নিব আর ছোট বোন মিনি। বলতেই রাজী সবাই। নীরুকেও তুলে নিলাম। আমার ব্লু টয়োটা গাড়ি চেপে রাস্তার ভীড় ঠেলে বেশ তাড়াতাড়ি পৌঁছে গেলাম।

পৌঁছতেই সাদা টিশার্ট, প্যান্ট, মোজাসহ কেডস জুতা আর পুলিশের লোগো খচিত সাদা টুপি পরিহিত এক ঝাঁক ঝলমলে পুলিশ অফিসার আমাদের রিসিভ করলো। এস.পি মারুফ সাদার উপর ছাই রংয়ের একটা জ্যাকেট পরে পিনআপ করা মানানসই সাইজের কাপড়ের তৈরী ফুল বুকে ঝুলিয়ে বিশাল একটা ফুলের তোড়া আমার আর আমার স্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে রীতিমতো ফটোগ্রাফার-এর সহায়তায় অনেক অনেক ফটো তুলে আমাদের গ্রহণ করলো। মিল ব্যারাকে ঢুকতে ঢুকতে দেখলাম কনের মতো মনভরে অপূর্বভাবে সাজিয়েছে খেলার মাঠসহ সম্পূর্ণ এলাকা। অভ্যাগতদের মনোরঞ্জনের জন্য। রিসিভ করে লাল কার্পেটে মোড়া পরিপাটিভাবে সাজানো গোল ঘরে আমাদের বসালো। ধামরাই-এর সংসদ সদস্য আমার এক কালের চেনা বেনজীরকে পেলাম সেখানে। কিছুক্ষণ পর ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান এসে যোগ দিল। গোল ঘরে বসে ভাবছিলাম আর মিল ব্যারাকের পরিপার্শ্বিকতা ঘিরে ঝকমকে দিনটা উপভোগ করছিলাম।

মিল ব্যারাকের ভেতরে পথে পথে লাল গালিচা মোড়া ঘন গোলাপী আভা। চকচকে সাদা পোষাকে অফিসারদের ছোটাছুটি। দুয়ে মিলে মধ্য বিকেলে মসৃণ আলোর মিতালী। বাহুল্য বর্জিত দ্যুতিময় দশদিশা। সাথে চারদিকে গাছের গুড়িতে সাদা রংয়ের বাহারি পেইন্ট, সুসজ্জিত ময়দানে খেলাধুলার জন্য প্রস্তুতি, রং বেরংয়ের ফুলমালা, উড়ন্ত বেলুন, প্ল্যাকার্ড, ব্যানার, বানটিং, বিলবোর্ড আর চলমান জীবন্ত ডিজিটাল সাইনবোর্ডের ছড়াছড়ি। মাইকের আওয়াজ, মানুষের আনন্দঘন কোলাহল, আলোর রংধনু, সব মিলে একটা নিবিড় ভালোলাগা সমস্ত পরিবেশটাকেই এক রকম অনবদ্যতার প্রলেপ মেখে দিয়েছিলো। সন্ধ্যা নামতেই যে হাজার বাতির বিদ্যুতালোকে লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, বেগুনী মরিচ বাল্ব-এর পরিপাটি দ্যোতনা ছড়াবে তার শৈল্পিক কারুকাজ দিনের হেলানো আলোয় উচ্চকিতভাবে ধরা পড়েছিলো ঐ মিল ব্যারাক নামক কাঞ্চন হৃদে।

কাঁচ-ঘেরা গোল ঘরের সুসজ্জিত আরাম কেদারায় বসে ভাবছিলাম পুরানো দিনের কথা। ছেচল্লিশ বছর আগে দেশ স্বাধীন হওয়ার এক বছরের মাথায় আমার পুলিশ ব্যাকগ্রাউন্ড, মুক্তিযুদ্ধ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার কথা চিন্তা করেই আমাকে ১৯৭৪ সালের গোড়ার দিকে ঢাকার এস.পি পদে পদায়িত করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

কাজটি ছিল বেশ কঠিন। সদ্য স্বাধীন দেশ। হাজারো অস্ত্রের ঝনঝনানির ভারে রক্তাক্ত দেশের মাটি। উন্নয়নের তলানীতে থাকা দেশটিকে উদ্ধারের কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বামপন্থী, সর্বহারা, মুসলিম বাংলা আর অপরিনামদর্শী জাসদ তাদের উগ্র অবৈধ অস্ত্রের রাজনীতির ভয়ংকর  থাবার মাধ্যমে দেশটাকে উচ্ছন্নে পাঠানোর দাবা খেলায় মত্ত। সরকার কোন মতেই এ অবস্থা মেনে নিতে পারে না। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোরভাবে দমন করতে হবে এ সকল অপশক্তিদের। স্বল্প শক্তির বাহিনী আর সামান্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, অগোছালো কাঠামো নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে অদম্য সাহস আর আমার প্রতি বঙ্গবন্ধুর অগাধ বিশ্বাস মূলধন করে। ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম এক মরন পণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে, বিশ্বের এক নবীন রাষ্ট্রের রাজধানীর নাগরিকদের শান্তির ঘুম উপহার দিতে। ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম দিবা-নিশী কাজের আবর্তে, অহর্নিশী খাটুনি করে, নিজের ও সহকর্মীদের দিনের আরাম আর রাতের ঘুম হারাম করে, দুর্নীতির উর্দ্ধে উঠে, কাজের ফাঁকে ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী আর উচ্চতর অধিকারিকদের হুকুম আহকাম, সুবিবেচনা প্রসূত উপদেশ আর নিবিড় সান্নিধ্য পূঁজি করে নিজেদের উজার করে দিয়েছিলাম। সুনাম ও কুড়িয়েছিলাম অনেক অনেক, নগরবাসীদের শান্তির ঘুম উপহার দিতে পেরেছিলাম কি না তা বিচারের ভার সে সময়কার ইতিহাসবেত্তাদের হাতে না হয় ছেড়ে দিলাম।

বঙ্গবন্ধুও হয়তঃ খুশী হয়েছিলেন তাই ২৯ মাসের মাথায় তাঁর অকাল শাহাদাতের আগেই আমায় পদোন্নতি দিয়েছিলেন ঢাকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে। বাকশালের আওতায়। কিন্তু বিজাতীয় ষড়যন্ত্রের কালো অমানিশা বাংলার আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রটা কেড়ে নিল ১৫ আগস্ট। তাঁর লাশটা ৩২ নম্বরের সিঁড়িতে পড়ে থাকতে থাকতেই আমাকে আততায়ীরা বন্দী করলো। চিরকালের জন্য আমার পুলিশ জীবনে যবনিকাপাত হলো। মিলিটারী সরকারের জেলখানায় ঝড়ে পড়লো আমার জীবন থেকে অমূল্য দু’টি বছর। ১৯৭৭ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেলাম বটে কিন্তু ততদিনে আমার জীবন খাতার পাতা বদলে গেছে। শুরু করলাম আর এক যুদ্ধ। ক্ষুন্নিবৃত্তি করে করে বেঁচে থাকার যুদ্ধ। লাগামহীন অনিশ্চিত জীবন সাগরে বৈঠাহীন নাও ভাসানোর এক অবিমিশ্র দিনপঞ্জী। এর ভাঁজে ভাঁজে বন্ধু হিসাবে পেলাম আমার প্রিয় পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে। অনেক শুভাকাঙ্খী পুলিশ অফিসারদের। সীমাহীন সম্ভ্রমে তারা আমায় ভরিয়ে রাখছে মহাকালের চিত্র লেখায়। আশীর্বাণীর প্রস্রবন তুলে।

পুলিশ বাহিনীর একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আমাকে সম্মাননা দেয়ার জন্য মিল ব্যারাক পুলিশ লাইনের সিংহদ্বার আমার নামে নামকরণ করা হবে। এ আইডিয়াটা বর্তমান ঢাকা বিভাগীয় ডি.আই.জি জনাব হাবিবুর রহমান সাহেব দীর্ঘ তিন বছর আগে আমায় বলেছিলেন। তার পর ঢাকার প্রাক্তন পুলিশ সুপার শাহ্ মিজান শাফিউর রহমান, এ কাজটি যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নিয়ে যান। তোরণটির পুনর্গঠনের কাজ তিনিই শেষ পর্যায়ে রেখে ডি.এম.পিতে বদলী হলে বর্তমান এস.পি মারুফ হোসেন কাজটা সমাপ্ত করেন। তিনি বলেছিলেন “আই.জি.পি সাহেব এটা উদ্বোধন করবেন।” শুনে খুব খুশী হয়েছিলাম।

বেশ কিছুক্ষণ গোলঘরে বসে যখন চারপাশের ঐ আনন্দলোকে অবগাহন করছিলাম ঠিক তখনই ডাক পড়লো মূল গেটে যেতে হবে, আই.জি.পি সাহেব আসছেন। সবাইকে সাথে নিয়ে সেখানে এলাম। সবাই জড়ো হয়েছে। ডি.আই.জি আর আই.জি সাহেবকে রিসিভ করতে।

মিল ব্যারাকে আসা-যাওয়ার রাস্তাটি বেশ সরু, বাহন তা যত ছোট  হোক, যানজটে পড়তে হবে। ৪৮ বছর আগে আরো অনেক অপ্রশস্ত ছিলো বলাই বাহুল্য। জীপ হাঁকিয়ে ঐ পথে ঢুকতে হলে আগে ট্রাফিক খবর দিতে হতো। এখন যানজট অনেক দীর্ঘস্থায়ী। সে সময় যানজট পরিহার করার আশায় নদীর ঘাট বেশী বেশী ব্যবহার হতো। বুড়িগঙ্গার পানির রং তখন অনেক বেশী পরিস্কার ছিলো। মাছ ধরা যেত। এখন শিল্প-স্থাপনা ও শহরের বর্জ্যে ঘন কালো দূষিত দুর্গন্ধযুক্ত বায়ুদূষণকারী বুড়িঙ্গার পানি পুরান ঢাকার শহরবাসীর মরণ ফাঁদ। তখনকার পরিষ্কার পানি ভেঙ্গে স্পীড বোট কিংবা লঞ্চে আসতে পারতাম। বেশীর ভাগ সময় তাই নদীর ঘাটে বাহন বেঁধে লাইনে ঢুকতাম। এখন দু’টো নতুন ইমারত তৈরি হয়েছে। ফোর্সও অনেক বেশী বসবাস করে। সে সময় দু’তিনটা লাল রঙের দালানে রিজার্ভ ফোর্স ব্যারাক ছিল। বেশীর ভাগ দাঙ্গাঁ পুলিশ প্রয়োজন মাফিক এখান থেকেই পাঠানো হতো। মিল ব্যারাকের অভ্যন্তরীণ রাস্তাও ছিল সরু এবং কাঁচা ।

আমার সময় মিল ব্যারাকে দাঙ্গা পুলিশ আর বিভাগীয় রিজার্ভ পুলিশ থাকতো দু’টো লাল রংয়ের দালানে। এখন নতুন দু’টো দালান তৈরী করা হয়েছে। অন্য ফোর্স এর পাশাপাশি শতেক নারী পুলিশের আবাসন আছে বর্তমানে। মিল ব্যারাকই ঢাকা পুলিশের একমাত্র লাইনস্। সর্বসাকুল্যে আড়াই হাজারের মতো পুলিশ এখানে আজকাল থাকতে পারে। দাঙ্গা পুলিশ,  ট্রাফিক, গোয়েন্দা ও অন্যান্য কর্মচারী কর্মকর্তাসহ। বর্তমান ঢাকা জেলায় সর্বসাকুল্যে ৭টি থানা। প্রতি থানায় ৩৫-৪০ জন ফোর্স, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ। আমার সময় ঢাকা জেলায় ৪৩টি থানা ছিল। রাজারবাগ এবং মিল ব্যারাক দু’টো লাইনস্ই আমার অধীনে ছিল। তখন শুধু ঢাকা শহরে ৮টি থানা ছিল। গুলশান থানাসহ। তখন গুলশান ছিল রুরাল থানা। বাকী ৩৫টি থানা ছিল নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জে। ঢাকা জেলার পরিধি টঙ্গী, জয়দেবপুর, সাভার, কালীগঞ্জ, নরসিংদী হয়ে একদিকে ভৈরব সেঁতু, আর একদিকে পদ্মা ইত্যাদি নিয়ে আজকের গ্রেটার ঢাকা। জনবল সর্বসাকুল্যে ২৪/২৫ জন প্রতি থানায়। আর দাঙ্গা পুলিশ, আর.আর.এফ, ট্রাফিক, গোয়েন্দা, ডিবি, শিল্পাঞ্চল পুলিশ ইত্যাদি। কে.পি.আই আর ভি.আই.পি ডিউটি সহ সর্বসাকুল্যে ঢাকা জেলা পুলিশের সংখ্যা চার হাজারের অধিক ছিলো না। তার মধ্যে দুই হাজার থানা-পুলিশ হিসাবে কাজ করেছে। সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার ও আমি সহ।

মিল ব্যারাকে ঢাকা পুলিশের বাৎসরিক স্পোর্টস-এর চাকচিক্য দেখে প্রথম পুলিশ সপ্তাহের কথা মনে পড়লো। ’৭৫ সালের ১৫ই জানুয়ারি স্বাধীন দেশে রাজারবাগে বঙ্গবন্ধুর প্রথম পদচারণা। সে সপ্তাহে স্পোর্টস হয়েছিলো। শুণ্য বাজেটে। রঙ্গীণ কাগজের শেকল অনেক রং-বেরঙের বেলুন আর সাদামাটা দু’একটা ব্যানার, তারপলিনের একটা সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে বসার জায়গা আর সাঁঝের পরে বিজলী বাতির সামান্য আলোয় মঞ্চ বানিয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। অবশ্য সেদিন যতসামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গভীর রাত পর্যন্ত বিখ্যাত সব শিল্পীরা নৃত্য সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন। সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, আব্দুল হামিদ, সোহরাব হোসেন, নৃত্য শিল্পী জিনাত বরকত উল্লাহ তখন রেডিও-টেলিভিশন জুড়ে। সাদাকালো ছবির যুগ তখনও বিদ্যমান। প্যারেডের ভিডিওটা তাই সাদাকালো রংয়েই পুলিশের আরকাইভে পাওয়া যায়।

সদ্য সাবেক ঢাকার পুলিশ সুপার শাহ্ মিজান শাফিউর রহমান, বিপিএম, পিপিএম বর্তমানে ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (হেড কোয়ার্টার) আমায় বলেছিলেন, ‘আপনার জীবনের সংক্ষিপ্ত গৌরবগাঁথা এক পাতার মধ্যে লিপিবদ্ধ করে ইস্পাতের প্লেটে ছবি সহ খোদাই করে নতুন তোরণের পিলারে সেটে দেয়া হবে’। সে কাজটুকু এখনও বাকী। ঐ লেখাটুকু না থাকলে উৎসুক মানুষ জানতে পারবে না, কেন তোরণটি আমার নামে হলো। লেখাটি তৈরী করে তিনি আমাকেও দেখিয়েছিলেন। লেখাটুকু ঢাকা জেলা পুলিশ কর্তৃক প্রকাশিত ‘গৌরবময় স্বাধীনতা’ বইয়ের ৬৫ নং পাতায় প্রকাশিত হয়েছে।

যাই হোক আই.জি সাহেবকে রিসিভ করতে সবাই জড় হয়েছে। উনি প্রধান ফটকের সামনে নেমে আগে আমার নামে তোরণ উদ্বোধন করবেন। আমার উপস্থিতি আবশ্যক। সবাইকে নিয়ে উপস্থিত হলাম। ডি.আই.জি হাবিব সাহেবও ইতিমধ্যে তাঁর অফিস থেকে রওয়ানা হয়েছেন। আমরা সদলবলে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছতে পৌঁছতেই তিনিও গাড়ী থেকে নামলেন। আমায় দেখে আমার কাছেই নামলেন। অনেক সম্মান, ছালাম আর কুশল বিনিময় হলো। পরিবারের সবার সাথেই পরিচয় করিয়ে দিলাম। মারুফ সাহেব সদলবলে তাঁকে বিশাল ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানালেন। আমাদের সাথে হাবিব সাহেব অনেকগুলো ছবি তুললেন। সবাই একসাথে পোজে অংশগ্রহণ করলো। তোরণটি পেছনে রেখে।

ছবি তোলা, কথাবার্তা আর হৈ-হুল্লোরের মধ্যেই বাঁশী বাজিয়ে এডভান্স পার্টি আই.জি সাহেবের আগমনের সংবাদ দিলো। সাথে সাথে হাবিব সাহেব সবাইকে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন তাঁকে রিসিভ করার জন্য। আই.জি.পি সাহেব তাঁর সরকারী গাড়ী চেপে তোরণের সামনে গাড়ী থামিয়ে আমাকে দেখে নেমে পড়লেন। আমরা পরস্পরের সাথে কুশল বিনিময় করতে করতে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করলেন। সবাই মিলে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করা হলো হাবিব সাহেবের নেতৃত্বে।

আই.জি সাহেবকে ঘিরে আমাকে নিয়ে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে গেল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিভিন্ন ভঙ্গিতে অনেক ছবি তোলা হলো। দু’তিন মিনিট পরই হাবিব সাহেবের ইঙ্গিতে সবাই প্রধান ফটকের সামনে জড় হলো। আই.জি.পি সাহেব আমার নাম খচিত ‘প্লাকার্ড’ উম্মোচনের জন্য এগিয়ে আসলেন। আমিও তাঁর বামপাশে দাঁড়িয়ে সঙ্গীঁ হলাম। সবার করতালির মধ্যে ‘প্লাকার্ড’ উম্মোচন হলো। সবাই মোনাজাত করলেন। এই অবস্থায় অনেক ছবি তোলা হলো। একটা ইতিহাস সৃষ্টি হলো আমাকে ঘিরে। সারদা পুলিশ একাডেমীর প্রথম প্রিন্সিপাল চেমনী সাহেব আই.জি.পি হিসাবে এই এলাকায় বসবাস করতেন। বর্তমান গেন্ডারিয়া থানা ও সুত্রাপুর ফরিদাবাদ লোহার পুলের সন্নিকটে। সে হিসাবে এই তোরণের নাম হয়েছিল আই.জি গেট। বৃটিশ আমলে সৃষ্ট এই পুলিশ ব্যারাকের সিংহদ্বার এ নামে শতাধিক বছর ধরে বিদ্যমান। আজ সে নামে ছেদ পড়লো। আজ থেকে এর নাম করণ করা হলো বীর মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ সুপার মাহবুব উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম গেট।

তোরণটা আমার নামে উম্মোচন শেষে আই.জি.পি সাহেব তাঁর মোটরকেডে চড়ে খেলার মাঠে চলে গেলেন। সাথে হাবিব সাহেব আর মারুফ সাহেব। বিউগলের ফ্যানফেয়ার তাঁকে মাঠের পথে স্বাগত জানালো। মোটরকেডের পেছনে চলতে থাকা একটা জীপ গাড়ীতে উঠিয়ে আমাকেও প্যারেড ময়দানে অভিবাদন মঞ্চে পৌঁছে দেয়া হলো। ততক্ষণে আই.জি.পি, ডি.আই.জি ও এস.পি সাহেববৃন্দ অভিবাদন মঞ্চে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন দলগুলোর মার্চ পাষ্টের অভিবাদন গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আমি তাঁদের সাথেই দাঁড়িয়ে পড়লাম।

অভিবাদন মঞ্চে আই.জি.পি সাহেব দাঁড়ালে; প্রথমে ৪ দল খেলোয়ার বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, তুরাগ, পদ্মা এসব নামে প্যারেড ফরমেশনে দাঁড়িয়ে অভিবাদন প্রদান করলো। আই.জি.পি সাহেব অভিবাদন গ্রহণ করলেন। তারঁ সাথে আমরাও হাত তুললাম। তারপর খেলা উদ্বোধন, খেলোয়ার দলগুলোর মার্চ পাষ্ট করে অভিবাদন মঞ্চের সামনে দিয়ে আই.জি.পি সাহেবকে অভিবাদন জানিয়ে স্ব স্ব অবস্থানে প্রস্থান, ইত্যাকার প্রয়োজনীয় কর্ম সম্পাদন শেষে আমরা সবাই লাল গালিচা মোড়া পথ/মাঠ পেরিয়ে দর্শক গ্যালারীতে উপস্থিত হলাম।

সেখানে অভ্যাগতদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আমার পরিবারের সবাইকে সসম্মানে বসানো হয়েছে। আর আই.জি.পি সাহেব আমাকে তাঁর পাশেই বসালেন। ঘন্টা খানেক কয়েকটা আইটেমের প্রতিযোগীতা হলো।

মেয়েদের ১০০ মিঃ দৌঁড়, ছেলেদের ১০০ মিঃ দৌঁড়, বাচ্চাদের লজেনচুস দৌঁড়, যেমন খুশী তেমন সাজ, রশি টানাটানি, মহিলাদের মিউজিক্যাল চেয়ার ইত্যাদি। সবশেষে পুরস্কার প্রদান। পুরস্কার বিতরণের জন্য একটা সামান্য উঁচু প্লাট ফরম তৈরীই ছিলো। পেছনে ঢাকা পুলিশ স্পোর্টের মানানসই ব্যানার। সেখানে আই.জি.পি সাহেব আমাদের সাথে নিয়ে দাঁড়ালেন। অনেকক্ষণ ধরে পুরস্কার বিতরণ করলেন। আমরা যারা তাঁর অতিথি ছিলাম তাঁরাও পুরস্কার বিতরণে অংশ নিলাম। আমাকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা দেয়া হলো। সঙ্গে আরো দু’টি পুরস্কার। আই.জি সাহেব তাঁর পুরস্কারটিও আমাকে অর্পণ করলেন। বেলুন ফাটানো ইভেন্টে প্রথম হওয়ায় আমি একটা পুরস্কার পেলাম। খুবই মজার ব্যাপারটা। আমি খেলোয়াড়দের মধ্যে সব চাইতে সিনিয়র। আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে আমার বেলুন কেউই আক্রমণ করলো না। তাই শেষ পর্যন্ত আমিই প্রথম হলাম।

পুরস্কার বিতরণ শেষে সমাপ্তি বক্তব্য রাখলেন প্রধান অতিথি। আমার সম্পর্কে অনেক উচ্ছসিত প্রশংসা করলেন। যুদ্ধ করে এবং মুজিব নগরে বাংলাদেশের প্রথম স্বাধীন সরকারকে গার্ড-অব-অনার দিয়ে আমি পুলিশের নাম উজ্জ্বল করেছি, বঙ্গবন্ধুর সাথে কাজ করে ডিপার্টমেন্টকে শক্তিশালী করেছি, ঢাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অবদান রেখেছি, এমনকি আমাকে পুলিশের আইকন অভিধা দিয়েও তিনি আমার প্রশংসা করেছেন। একজন পুরানো সহকর্মী হিসাবে তার এ প্রশংসা সত্যিই আমাকে অনেক গৌরবদ্বীপ্ত করেছে। তার বক্তব্য আমাকে পুলিশ বাহিনীর হৃদয়ে স্থান করে দেবে। আমি তাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ছোট করতে চাই না।

এরপর আপ্যায়ন। অনেক শীতকালীন পিঠা। সবাই মনোহারিণী পিঠা গ্রহণ করে তৃপ্তি পেলো। অবশ্য ইতিপূর্বে দর্শক প্যান্ডেলেও হরেক রকম বাদাম, চিপস্, আর ফলমূল দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়েছিল। পুলিশ বাহিনীর প্রায় সব অনুষ্ঠানে এটা একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। ব্যবস্থাপনায় ও গুণে এটা অতুলনীয়।

পিঠাসহ আপ্যায়ন শেষে আই.জি.পি সাহেব চলে গেলেন কিন্তু হাবিব আর মারুফ সাহেবরা আমাকে কিছুতেই ছাড়লেন না।

মাগরেবের নামাজের বিরতির পর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করার জন্য ডি.আই.জি সাহেব আমাকে সাথে নিয়ে একটা সুশোভিত, সুসজ্জিত বিশাল ডিজিটাল মঞ্চের সামনের সারিতে বসলেন। নাচে, গানে বিমোহিত সবাই। প্রায় ঘন্টা খানেক চলল। শীতের রাত ততক্ষণে জেকে বসেছে। বুড়িগঙ্গার খোলা বাতাস। মঞ্চটাও মাঠের সম্ভবত দক্ষিণ দিকে প্রায় খোলা। খোলা হাওয়ার দোল দোলানো হিল্লোল সবাই উপভোগ করছিলো। এরই মধ্যে মারুফ সাহেব খবর পাঠালেন নৈশ ভোজ প্রস্তুত।

সবাই মিলে মহা সমারোহে নৈশ ভোজ শুরু হলো। ইতিমধ্যে ঢাকার জেলা প্রশাসক ফেরদৌস সাহেবের সাথে পরিচয় হলো। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আমার পরিচয় পেয়ে তিনি নিজেকে অত্যন্ত গর্বিত মনে করলেন এবং আমার প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখালেন। আমি বলেছিলাম তার পূর্বসূরি জনাব সৈয়দ রেজাউল হায়াত আর আমি একসঙ্গে ঢাকা জেলায় কাজ করেছি। সে সময় বিভিন্ন কাজের প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের বাসায় ঘনঘন যাতায়াত ছিল। তারপরে আর ওই বাসায় যাওয়া হয়নি। তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে আমাকে তার বাসায় আসার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। পাশেই ঢাকার এস.পি মারুফ সাহেব বসা ছিলেন। তিনিও তার বাড়িতে আমাকে স্বস্ত্রীক আমন্ত্রণ জানালেন। আমি সুযোগ সময় বুঝে দু’জনের বাড়িতেই যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলাম। বিশেষ করে মারুফকে বললাম “সেই পুলিশের বাড়িটিতো আর নেই।”

“সে জন্যই আপনার পদধূলি চাই। বাড়িটা সুন্দরভাবে কিছুটা পরিবর্তন করে বিনির্মাণ করা হয়েছে। আপনি স্বচক্ষে অবস্থাটা দেখে যাবেন।”—বললেন মারুফ।

নৈশভোজে তাপস্বী, ট্যাংরা, কোরাল, ইলিশ, চিংড়ি সহ বিভিন্ন প্রকার মাছ-মাংসের সমারোহ। মারুফ সাহেব মাছগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় তার দেশের বাড়ি থেকে এনেছেন পুলিশ সপ্তাহের অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য। তার বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া থানায়। সবাই টাটকা মাছের স্বাদের রন্ধন উৎকর্ষতা তারিফ করল। এক প্রস্থ দই-মিষ্টি সহকারে সবাই সানন্দে ভোজনপর্ব শেষ করলেন।

এখন প্রায় রাত দশটা। বেশ শীত লাগছিল তাই সবার কাছ থেকে বিদায় নিলাম যদিও হাবিব ও মারুফ চাচ্ছিলেন সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাটা শেষ পর্যন্ত উপভোগ করে যাই। অনেকটা জোর করে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসায় ফিরে আসলাম। নিয়ে এলাম এক বুক ভরা নির্মল আনন্দ, ভালোবাসা, ভালোলাগা উচ্ছাস আর একটি গর্বিত হৃদয়। একটা তাৎপর্যময় বিকেল, সন্ধ্যা ও রাত কাটালাম। পুলিশ বাহিনী ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর সৌজন্যে আমাকে চিরকালের জন্য কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করলো, এ কথা অকুন্ঠ ভাষায় আমাকে স্বীকার করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৪৮ বছরের মাথায় আমি যে স্বীকৃতিটা পেলাম আমারই প্রিয় পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে, সে স্বীকৃতিটা কিন্তু বঙ্গবন্ধুর তিরোধানের পর রাষ্ট্র কিংবা আর কেউ আমাকে অদ্যাবধি দেয়নি।  

লেখক : অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারকে

গার্ড অব অনার প্রদানকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x