ই-পেপার

SITE UNDER CONSTRUCTION
বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র
অব্যাহত প্রকাশনার ৬৩ বছর

আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন

১০ জানুয়ারি ১৯৭২। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, ‘Poet of Politics’ খ্যাত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা, আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে নয় মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার প্রশ্নে বাঙালি যখন বাস্তবতার মুখোমুখি, ঠিক তখনই পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীন বাংলার নতুন সূর্যালোকে সূর্যের মতো চির ভাস্কর উজ্জ্বল বাংলাদেশের নির্মাতা, ইতিহাসের মহানায়ক ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে, ফিরে আসেন বাংলা মায়ের কোলে।

এ যে এক অন্যরকম অনুভূতির দিন। পুরা জাতির জন্য উৎকণ্ঠার, আবেগঘন, অপেক্ষমান, স্বস্তির নিঃম্বাস ফেলানো এক দিন। কখন আসবেন কবি! সেদিন বাতাসে ছিল মুক্তির বারতা। যে সংবাদ ছিল অবিশ্বাস্য এবং হৃদয় স্পন্দন ছিল স্বপ্নময়তায় ভরা। মুহূর্তেই যার ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়েছিল সুরের মূর্ছনার মতো সাড়ে সাত কোটি বাঙালির হৃদয়ে, বিশ্ববাসীর দুয়ার প্রান্তে এবং বঙ্গজননীর অন্তরের অন্তস্তলে। পৌঁছে গিয়েছিল যে সংবাদ বাংলা প্রকৃতির প্রতিটি জীবের কর্ণ গহ্বরে।  প্রিয় নেতার মুক্তির সংবাদে সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্রুতে সিক্ত হয়ে ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ধ্বনিতে বাংলার আকাশ-বাতাস, মাঠ-প্রান্তর প্রকোম্পিত করে তুলেছিল। সুদীর্ঘ সাড়ে নয় মাস নিদ্রাহীন অশ্রুশূন্য নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে অপেক্ষমাণ বাংলা মাতা তাঁর আদরের খোকাকে কাছে পাবে জেনে ছলছল চোখে অধীর উন্মাদনার প্রহর গুণছিল। বাংলার প্রকৃতি সেদিন নবরূপে সেজেছিল তার প্রিয় সন্তানকে সংবর্ধনা জানাতে।

শেখ মুজিব কেবল একজন ব্যক্তিই নন; তিনি একটি সত্তা, একটি প্রাণ, একটি শক্তি। এই সত্তা পৃথিবীর অস্তিত্বের মতোই সত্য, এ প্রাণ সৃষ্টিতত্ত্বের মতোই শাশ^ত, এই শক্তি জ¦লন্ত সূর্যের মতোই শক্তিমান। পাকিস্তানের শাসন, শোষণ, অত্যাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সারাটা জীবন তিনি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন। নিজের দুঃখ-কষ্টকে তুচ্ছ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য, এই মা-মাটি ও মানুষের মঙ্গলের জন্য মাত্র ৫৫ বছরের জীবদ্দশায় চার হাজার ৬৮২ দিন জেল খেটেছেন, অত্যাচার, নির্যাতন ও জুলুম ভোগ করেছেন।

আন্দোলন সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বাঙালি জাতির উদ্দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রস্তুতি নেওয়ার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।.. .. মনে রাখবা রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেবো, এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা’।

কুচক্রী ষড়যন্ত্রকারী পশ্চিম পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট এর নামে ২৫ মার্চ ঘুমন্ত, নিরস্ত্র, নিরাপরাধ বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শুরু করে নির্বিচারে নির্মম হত্যাযজ্ঞ। আর সেই রাতেই ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাড়ি থেকে রাত ১টা ৩০ মিনিটে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় বাঙালির প্রাণের নেতা, বাঙালির অভিভাবক, স্বাধীনতার সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাঁকে গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বাসভবন যেমন তছনছ করা হয়, তেমনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াস্থ গ্রামের বাড়িটিও রেহাই পায়নি ঘাতকদের ধ্বংসলীলা থেকে। ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি নিউইয়র্ক টেলিভিশনের ‘ডেভিড ফ্রস্ট প্রোগ্রাম ইন্ বাংলাদেশ’  শীর্ষক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ডেভিড ফ্রস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ বিষয়টা উঠে আসে। বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগে ধানমণ্ডি বাসভবন থেকে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে স্বাধীনতার ডাক দেন। তিনি ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার। শুরু হলো বাঙালির স্বশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ও নির্দেশিত পথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চালিয়ে যান।

বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন : ‘This may be my last message, from to-day Bangladesh is Independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must be go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.’ অনুবাদ : ‘এটাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদেশের জনগণ, তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শেষ পর্যন্ত দখলদার সৈন্য বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য আমি তোমাদের আহ্বান জানাচ্ছি। পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ সৈনিকটিকে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত করে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’

বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পর প্রথমে ঢাকার আদমজি স্কুলে এবং পরে ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউজে আটক রাখা হয়। ২৬ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া এক ভাষণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করে। ঢাকায় গ্রেফতারের তিন দিন পর অর্থাৎ ২৯ মার্চ তাঁকে বিমানযোগে পশ্চিম পাকিস্তানে নেওয়া হয়। পাকিস্তানি সামরিক জান্তার কাছে বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বন্দি। এজন্য তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়েছিল। পশ্চিম পাকিস্তানে পাঠানোর বিষয়েও তারা কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করে। সামরিক জান্তার আতঙ্ক ছিল যে, বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী প্লেনকে হয়তো কোনো বিদেশি রাষ্ট্র আকাশপথে যাওয়ার সময় ধাওয়া করতে পারে। পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধুকে পাঞ্জাবের লায়ালপুর (বর্তমানে ফয়সালাবাদ) জেলে অপরিসর একটি কুঠুরিতে বন্দি করে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে মিয়ানওয়ালী জেলে। সেখানে তাঁকে পৃথিবী থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়।

পাকিস্তান সরকারের উদ্দেশ্য ছিলো, শেখ মুজিবকে ভয় দেখিয়ে আপোষ করতে বাধ্য করা এবং তাঁর মুক্তির বিনিময়ে বাংলাদেশের অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে মীমাংসায় আসতে চাপ দেওয়া। এতে সমঝোতা না হলে প্রহসনের বিচারের নামে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেওয়া। বিশ^ব্যাপী এই বিচার প্রহসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ওঠে। পাকিস্তান সরকার নিজেই উদ্যোগী হয়ে তাঁর আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেয় এ. কে. ব্রোহিকে। রায় নির্ধারিত বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরে কর্তৃপক্ষকে বললেন, “আমার লাশটা বাংলার মানুষের কাছে পাঠিয়ে দিও”। আদালতের কাজ শেষ হয় ৩ ডিসেম্বর এবং আদালত সর্বসম্মতভাবে ৪ ডিসেম্বর (কেবল পিতার মৃত্যুর কারণে অনুপস্থিত একমাত্র বেসামরিক সদস্য ব্যতীত) শেখ মুজিবকে আনীত সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। এই রায় প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষ ছিল। এমনকি বঙ্গবন্ধুকে মানসিক চাপে ফেলার জন্য জেলখানার সেলের পাশে তাঁর জন্য কবরও খোঁড়া হয়েছিল! এক পর্যায়ে ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের ফাঁসির আদেশ কার্যকরের আদেশ দেয়। কিন্ত, ইতোমধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে তার অনুগত বাহিনীর আত্মসমর্পণের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে পশ্চিম পাকিস্তানে। আত্মসমপর্ণের উত্তেজনা আর দৌড়ঝাঁপের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয় না। এই সুযোগে ওই জেলখানার জেলার বঙ্গবন্ধুকে জেলখানা থেকে সরিয়ে নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। পরে সেখান থেকে তাঁকে একটা আবাসিক কলোনিতে সরিয়ে নিয়ে যায়।

দীর্ঘ নয় মাসের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ৩০ লাখ শহিদ ও দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ইয়াহিয়া প্রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। পাকিস্তানের নতুন প্রেসিডেন্ট হন জুলফিকার আলি ভুট্টো। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি বিপরীতমুখী দেখে ভুট্টো শেখ মুজিবকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভুট্টো বুঝতে পেরেছিলেন শেখ মুজিবের কিছু হলে বাংলাদেশে বন্দি পাকিস্তানি সৈন্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের অনুগতরা সেখান থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে পারবে না। ভুট্টো ১৯ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডিতে সাক্ষাৎ করেন। প্রথম সাক্ষাতে বঙ্গবন্ধু ভুট্টোকে বলেন, ‘আমি মুক্ত কিনা বলুন’। ভুট্টো বলেন, ‘আপনি মুক্ত, কিন্তু আমি আপনাকে যেতে দেওয়ার আগে কয়েক দিন সময় চাই’।

এদিকে আন্তর্জাতিক নেতারা শেখ মুজিবকে ছেড়ে দিতে বারবার পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিল। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই বিশ্ব মিডিয়ায় শেখ মুজিব ছিলেন পরিচিত মুখ। তাঁর দৃঢ় ব্যক্তিত্ব ও বাকপটুতা তাঁকে আন্তার্জতিক অঙ্গনে এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত করে তোলে। ২৬ ডিসেম্বর শেখ মুজিবকে কলোনি থেকে হেলিকপ্টারে করে সিহালা অতিথি ভবনে নিয়ে আসা হয়। পরের দিন ভুট্টো সেখানে এসে শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁকে মুক্তির সংবাদ দেন।

৫ জানুয়ারি, ১৯৭২ প্রেসিডেন্ট ভুট্টো শেখ মুজিবের সঙ্গে তৃতীয় আর শেষবারের মতো দেখা করতে যান। শেখ মুজিব ভুট্টোকে বলেন, ‘আপনি অবশ্যই আমাকে আজকে রাতে মুক্তি দেবেন। আর দেরি করার কোনো জায়গা নেই। হয় আমাকে মুক্ত করুন, নয় হত্যা করুন’। দীর্ঘ ৯ মাসাধিককাল পাকিস্তান জঙ্গিশাহির জিন্দাখানার অন্ধ প্রকোষ্ঠে নারকীয় বন্দি জীবনযাপনের পর বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অধিনায়ক, নিপীড়িত জনতার মুখপাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৮ জানুয়ারি মুক্তি পান। পাকিস্তান সরকারের চার্টার্ড করা একটি বিশেষ সামরিক বিমানে (বোয়িং ৭০৭) খুব গোপনে বঙ্গবন্ধুকে রাওয়ালপিন্ডি হতে লন্ডনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। লন্ডনে সময় তখন ভোর ৬টা ৩৬ মিনিট এবং বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিট। বিশেষ বিমানটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ না করা পর্যন্ত ঢাকা অথবা নয়াদিল্লির কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর গন্তব্য সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

৮ জানুয়ারি সকাল ৭টায় বিবিসির ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে প্রচারিত খবরে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বিমানযোগে লন্ডনে আসছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ করবে’। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যাওয়া হয় সেখানকার ভি.আই.পি লাউঞ্জে। সেখানে ছিলেন ইয়ান সাদারল্যান্ড। তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারত বিভাগ দেখতেন। সেখানে বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি বেঁচে আছি। আমি সুস্থ রয়েছি। এ মুহূর্তে আপনারা শুধু আমাকে দেখুন, কোনো কিছুই শোনার আশা করবেন না। তাই এখন আর বেশি কিছু বলতে চাই না। সম্ভবত আজকের পরে একটা বিবৃতি দিতে পারি’। অতঃপর বঙ্গবন্ধু অপর সব প্রশ্নের জবাবে নিরুত্তর থাকেন।

সকাল ৮টার মধ্যেই বঙ্গবন্ধুকে ব্রিটিশ সরকারের সম্মানিত অতিথি হিসেবে লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ক্ল্যারিজ’স হোটেলে নিয়ে আসা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা (পরে প্রধানমন্ত্রী) হ্যারল্ড উইলসন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসে বলেন ‘গুড মর্নিং মি. প্রেসিডেন্ট’। ৮ জানুয়ারি রাতে বঙ্গবন্ধু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মি. এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে যান। বঙ্গবন্ধু যখন লন্ডনে পৌঁছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ ছিলেন লন্ডনের বাইরে। বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাতের কথা শুনে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী হিথ ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটে ছুটে আসেন এবং তাঁকে নজিরবিহীন সম্মান দেখান। ইতিহাস সাক্ষী ওইদিন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিথ নিজে তাঁর কার্যালয়ের বাইরে এসে গাড়ির দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকলেন, যতক্ষণ শেখ মুজিব গাড়ি থেকে বেরিয়ে না এলেন।

৯ জানুয়ারি ১৯৭২ সাল। স্বদেশে ফেরার জন্য বঙ্গবন্ধু ওঠেন ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বহরের কমেট জেটে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ২টা ৫০ মিনিট)। পথে তেল নেওয়ার জন্য সাইপ্রাসে যাত্রা বিরতি ঘটেছিল। সেখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ম্যাকারিয়াস বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান। এরপর ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ব্রিটিশ রাজকীয় বাহিনীর শ্বেতশুভ্র বিমানটি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দিল্লিতে বঙ্গবন্ধুর সংক্ষিপ্ত যাত্রা-বিরতি হয়েছিল। প্রায় কালো-ধূসর স্যুট এবং কালো ওভারকোট পরিহিত বঙ্গবন্ধুকে বিমান থেকে বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথমে ভারতের তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা জানান। চারদিক থেকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় গোলাপ ও গাঁদা ফুলের পাপড়ি। ২১ বার তোপধ্বনি করে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। বাজানো হয় দু’দেশের জাতীয় সংগীত, যার রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে তাঁদের আলাপ-আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু রওয়ানা হন ঢাকার উদ্দেশ্যে। বঙ্গবন্ধু কৃতজ্ঞতা জানালেন ভারতের সরকার, নেতারা এবং জনগণের কাছে বাংলাদেশের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য এবং যুদ্ধে ট্রেনিং ও সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য। সেদিন অসাধারণ আবেগময় কণ্ঠে গান গেয়েছিলেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়-

বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে তোমার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলায় তুমি আজ

ঘরে ঘরে এত খুশি তাই।

কী ভালো তোমাকে বাসি আমরা, বলো কী করে বোঝাই।

এদেশকে বলো তুমি বলো কেন এত ভালোবাসলে,

সাত কোটি মানুষের হৃদয়ের এত কাছে কেন আসলে,

এমন আপন আজ বাংলায় তুমি ছাড়া কেউ আর নাই

বলো, কী করে বোঝাই।.. .. ..

শ্বেতশুভ্র ব্রিটিশ রাজকীয় কমেট বিমানে করে ১০ জানুয়ারি যিনি বঙ্গবন্ধুকে দিল্লি হয়ে ঢাকায় নিয়ে আসেন তিনি হচ্ছেন ব্রিটিশ এয়ারলাইন্সের পাইলট মি. কুক। স্কোয়াড্রন লিডার মি. কুকের কাছে ঢাকা অবতরণের পর এই বিমান যাত্রা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি আবেগকাতর কণ্ঠে বলেন, ‘আমি গত সতের বছর ধরে বিমান চালাই। প্রিন্স আলেকজান্ডার, এলিজাবেথ থেকে শুরু করে বহু বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিকে আমি আমার প্লেনে যাত্রী হিসেবে পেয়েছিলাম। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে আমার যাত্রী হিসেবে পেয়ে আমি গৌরব বোধ করেছি’। মি. কুক ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর জনপ্রিয়তা দেখে থমকে যান। তাঁর ভাষায়, ‘Sheikh Mujib is a Great Man

১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের চিত্র এ রকম! সকাল থেকেই তেজগাঁও বিমানবন্দরের রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে সারিবদ্ধ মানুষ আর মানুষ। বাংলাদেশ বেতার থেকে ধারাবিবরণী দেওয়া হচ্ছিল। বিমানবন্দর ও রাস্তার দুপাশে অপেক্ষমাণ জনতার ঢল। সেদিন অন্যরকম উত্তেজনা সবার চোখে-মুখে। বাঙালির মহান নেতা ফিরে আসছেন আজ ২৯১ দিন পর জন্মভূমির কোলে, প্রাণপ্রিয় মানুষের কাছে। লাখো মানুষের ভিড় রাজপথ জুড়ে। কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’। অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ। বঙ্গবন্ধু লন্ডন ও দিল্লি হয়ে প্রাণের শহর ঢাকা ফিরে আসেন বেলা ১টা ৪১ মিনিটে। যে দেশ এবং যে স্বাধীনতার জন্য জীবনবাজি রেখেছিলেন, সেই মাটিতে পা দিয়েই আবেগে কেঁদে ফেলেন বঙ্গবন্ধু।

তেজগাঁও বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করার পর খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে জনসমুদ্রের ভেতর দিয়ে রেসকোর্স ময়দানে এসে পৌঁছাতে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। এদিকে বাংলার দামাল ছেলেরা, বাংলার মুক্তি সেনারা, বাংলার কৃষক, বাংলার হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, কামার, কুমার, তাঁতি, জেলেসহ সব পেশার মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে একটি বার দেখার জন্য রেসকোর্স ময়দান পরিণত হলো জনসমুদ্রে। স্বদেশের মাটিতে পা রেখে বাংলার মানুষের এ ভালোবাসা দেখে মানবতার প্রতিমূর্তি, জনদরদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলেন, আনন্দ বেদনার অশ্রু ঝরলো তাঁর দু’চোখ বেয়ে। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সাড়ে সাত কোটি মানুষ সেদিন আনন্দাশ্রুতে সিক্ত হয়ে ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধ’ ধ্বনিতে বাংলার আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তুলেছিল।

বিকেল ৪টা ২৫ মিনিট। বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা রেসকোর্স ময়দানে ৩৫ মিনিটব্যাপি জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন; যা ছিল জাতির জন্য দিকনির্দেশনা। বাংলাদেশের আদর্শগত ভিত্তি কী হবে, রাষ্ট্র কাঠামো কী ধরনের হবে, পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যারা দালালি ও সহযোগিতা করেছে তাদের কী হবে, বাংলাদেশকে বহির্বিশ্ব স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ, মুক্তিবাহিনী, ছাত্র সমাজ, কৃষক, শ্রমিকদের কাজ কী হবে, এসব বিষয়সহ বিভিন্ন দিক নিয়ে নির্দেশনা। তিনি ডাক দিলেন দেশ গড়ার সংগ্রামে। রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত মন্ত্রমুগ্ধ জনতা দু’হাত তুলে সেই সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

যাদের প্রাণের ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেদিন বঙ্গবন্ধু ভাষণের শুরুতে বলেন, ‘স্মরণ করি আমার বাংলাদেশের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, বুদ্ধিজীবী, সিপাই, পুলিশ, জনগণকে, হিন্দু, মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে।.. .. .. তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমি আপনাদের কাছে দুই একটা কথা বলতে চাই।’ তিনি বলেন, ‘যে মাটিকে ভালোবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারব কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি, বাংলার ভাইদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন’।

তিনি আরও বলেন, ‘আজ থেকে আমার অনুরোধ, আজ থেকে আমার আদেশ, আজ থেকে আমার হুকুম ভাই হিসেবে, নেতা হিসেবে নয়, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, আমি তোমাদের ভাই, তোমরা আমার ভাই, এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না পায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি আমার বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়, এই স্বাধীনতা পূর্ণ হবে না যদি এ দেশের মা-বোনেরা ইজ্জত না পায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণতা হবে না যদি এ দেশের মানুষ, যারা আমার যুবক শ্রেণী আছে তারা চাকরি না পায় বা কাজ না পায়।’

বাঙালি জাতির প্রতি অবিচল আস্থা ছিল তাঁর। স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে সেদিন বলেছিলেন ‘এই বাংলাদেশে হবে সমাজতন্ত্র ব্যবস্থা, এই বাংলাদেশ হবে গণতন্ত্র, এই বাংলাদেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র’। তিনি জনগণকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন ‘আমি দেখায় দেবার চাই দুনিয়ার কাছে শান্তিপূর্ণ বাঙালি রক্ত দিতে জানে, শান্তিপূর্ণ বাঙালি শান্তি বজায় রাখতেও জানে’। মহান মুক্তিযুদ্ধে বহির্বিশে^র সমর্থনকে অকুন্ঠ চিত্তে স্বীকার করেন এ ভাষণে। পাশাপাশি তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানান ভারত সরকার, সে দেশের জনগণ ও তাদের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে। কৃতজ্ঞতা জানান ব্রিটেন, জার্মান, ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নকে। আবার বঙ্গবন্ধু মার্কিন জনগণকেও ধন্যবাদ জানান।

বাংলার লাখো মানুষের আজ খাবার নেই, অসংখ্য মানুষ গৃহহারা। এদের জন্য মানবতার খাতিরে বঙ্গবন্ধু সাহায্যের আবেদন জানান। তিনি বিশে^র সব মুক্ত রাষ্ট্রকে বাংলাদেশকে

স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। যুদ্ধাপরাধীদের গণবিরোধী ভূমিকা পালন করার ফলে মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর প্রতিহিংসাপরায়ণ বশে অনেক সহিংস ঘটনা ঘটে। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু সর্তকবাণী উচ্চারণ করেন, ‘আজ আমার কারও বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা নাই, একটা মানুষকে তোমরা কিছু বলো না, অন্যায় যে করেছে তাকে সাজা দেবো। আইনশৃঙ্খলা তোমাদের হাতে নিও না’।

সেই ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু লাখ লাখ অনুরাগীর ভালোবাসায় সিক্ত হন। বাংলাদেশের জনগণ এ দিনই প্রাণভরে বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ উপভোগ করেন। মূলত ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও বাংলার মানুষ তখনও জানত না তাদের নয়নের মণি ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জীবিত আছেন কি-না? তাই বিজয়ের মধ্যেও মানুষের মনে ছিল শঙ্কা ও বিষাদের ছাপ। এছাড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শারীরিক উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। তাই ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন হলেও প্রকৃতপক্ষে ১০ জানুয়ারি বাঙালির জন্য পরিপূর্ণভাবে স্বাধীনতা অর্জনের দিন। তাই বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের আরেকটি আলোকিত অধ্যায়। প্রকৃতপক্ষে ১০ জানুয়ারি বাংলার রাজনীতির মুকুটহীন সম্রাট সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবকে পেয়ে বাঙালি বিজয়ের পরিপূর্ণ আনন্দ প্রাণভরে উপভোগ করেছে। এ দিনই বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রবেশ করে গণতন্ত্রের এক আলোকিত অভিযাত্রায়। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে ইংল্যান্ডের প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ান এক সম্পাদকীয় উল্লেখ করেছিল, ‘তাঁর এই মুক্তি বাংলাদেশকে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছে। শত্রুর কারাগারে বন্দি, কিন্তু তার নামে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন এবং কোনোরূপ পণ না দিয়ে শত্রু সেই মহানায়ককে সসম্মানে ফেরত পৌঁছানোর ঘটনা শুধু একটিই’। 

সূত্র

১.         অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান ।

২.         বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনক আমার নেতা আমার, শেখ হাসিনা।

৩.         বাংলাদেশ : প্রবন্ধ, বক্তৃতা, বিবৃতি, বাণী, নির্দেশ ও সাক্ষাৎকার, শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু ললিতকলা একাডেমি, সম্পাদনা আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কাজী সিরাজুল ইসলাম, মো. জাহিদ হোসেন।

৪.         বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান : জীবন ও রাজনীতি, দ্বিতীয় খন্ড, মোনায়েম সরকার।

৫.         বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, সজীব কুমার বণিক।

৬.        বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এবং সংগ্রামী জীবন, রফিকুজ্জামান হুমায়ুন।

লেখক : উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক)

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

ভালো লাগলে শেয়ার করে দিন :)

0 Comments

Leave a Reply

Avatar placeholder

Your email address will not be published. Required fields are marked *